খুঁজুন
, ,

পর্যটকশূন্য সাজেক উপত্যকা, থমথমে পরিস্থিতিতে স্থবির জনজীবন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
পর্যটকশূন্য সাজেক উপত্যকা, থমথমে পরিস্থিতিতে স্থবির জনজীবন

রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকায় পুরো এলাকা বর্তমানে পর্যটকশূন্য। স্থানীয় পরিস্থিতি থমথমে এবং সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে এখন এক অদ্ভুত নীরবতা বিরাজ করছে। পাহাড়ের বুকজুড়ে মেঘের আনাগোনা, সবুজ পাহাড়ের সারি আর দিগন্তবিস্তৃত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত এই স্থানটিতে প্রতি মুহূর্তে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। পরিস্থিতি এতটাই থমথমে যে, জনজীবন যেন স্থবির হয়ে পড়েছে। এলাকাটি এখন কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সাজেক পর্যটন কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। পর্যটকদের আনাগোনা না থাকায় হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। পর্যটন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাজেকগামী সব ধরনের যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি আটকে আছে, যার ফলে স্থানীয়দের দৈনন্দিন পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাতেও ছন্দপতন ঘটেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার খাতিরে এবং বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। রাস্তাঘাটে যানবাহন না চলায় সাজেকের সাথে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন কার্যত বিচ্ছিন্ন। পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কাজ করছে। পর্যটন মৌসুমে এই ধরনের পরিস্থিতি স্থানীয় অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগেও সাজেকে বিভিন্ন সময়ে অস্থিরতার কারণে পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে এবারের পরিস্থিতি স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। পর্যটকদের আপাতত সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। দ্রুত এই থমথমে পরিবেশ কেটে গিয়ে স্বাভাবিক জনজীবন ও পর্যটন ব্যবসা আবার চাঙ্গা হবে বলে স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন।

সীমান্তে নতুন করে উত্তাপ, উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
সীমান্তে নতুন করে উত্তাপ, উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ার

সীমান্ত অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা ও লাউডস্পিকারের মাধ্যমে প্রচারণার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

কোরীয় উপদ্বীপের সীমান্তে ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দুই কোরিয়ার সীমান্তে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং লাউডস্পিকারের মাধ্যমে পাল্টা প্রচারণার জেরে সৃষ্ট অস্থিরতা নিরসনের লক্ষে পিয়ংইয়ংকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত অঞ্চলে দুই পক্ষের কর্মকাণ্ডের ফলে সেখানে যে সামরিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমনের জন্য এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে বর্তমানে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। গত কয়েক দিনে সীমান্তে দুই পক্ষই তাদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি নানা ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা পরিস্থিতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তে লাউডস্পিকার ব্যবহার করে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সিউলের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে যেকোনো মুহূর্তে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

উত্তেজনা কমানোর লক্ষে দক্ষিণ কোরিয়া পিয়ংইয়ংকে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। যদিও উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এই আহ্বানের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি, তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে প্রায়ই দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। তাদের দাবি, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া এবং সীমান্তে অবস্থানরত দক্ষিণ কোরীয় ও মার্কিন বাহিনীর কার্যক্রম তাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ হলো, উত্তর কোরিয়া ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্নিত করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক দশকে দুই কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন বহুবার চরমে পৌঁছেছে এবং বহুবার আলোচনার মাধ্যমে তা প্রশমিতও হয়েছে। বর্তমানে যে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে রাজনৈতিক ও সামরিক উভয় কারণই বিদ্যমান। সীমান্তে লাউডস্পিকার বসানোর বিষয়টি মূলত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের একটি অংশ হিসেবে দেখা হয়। এর ফলে সীমান্তের দুই পাশের বাসিন্দাদের মধ্যেও এক ধরণের আতঙ্ক ও অস্বস্তি কাজ করছে। সিউল সরকার চাচ্ছে, সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে। তারা উত্তর কোরিয়াকে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে যাতে সীমান্তে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

পরিস্থিতি যে পর্যায়ে রয়েছে তাতে যেকোনো ধরণের ভুল বোঝাবুঝি বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আলোচনার প্রস্তাবটি মূলত কূটনৈতিক উত্তাপ প্রশমনের একটি চেষ্টা হিসেবেই দেখছে বিশ্ব সম্প্রদায়। যদি উত্তর কোরিয়া এই আহ্বানে সাড়া দেয়, তবে এটি কোরীয় উপদ্বীপের বর্তমান সংকট কাটাতে একটি ইতিবাচক দিক হতে পারে। তবে পিয়ংইয়ংয়ের অতীত ইতিহাস ও বর্তমান মনোভাব বিবেচনায় রাখলে, আলোচনা শুরুর প্রক্রিয়াটি খুব একটা সহজ হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সীমান্তের এই উত্তেজনা শুধু দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব পড়ছে পুরো পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে। চীন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোও কোরীয় উপদ্বীপের এই পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার বারবারই বলে আসছে যে তারা সংঘাত চায় না, বরং আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এখন দেখার বিষয়, পিয়ংইয়ং এই সমঝোতার ডাকে কতটা ইতিবাচক সাড়া দেয় এবং অদূর ভবিষ্যতে দুই কোরিয়ার সীমান্তে শান্তি ফিরে আসে কি না।

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চোরাই ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ যুবক আটক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চোরাই ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ যুবক আটক

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে চোরাই ল্যাপটপ, ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ২৬ বছর বয়সী এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে চোরাই ল্যাপটপ এবং ক্যামেরাসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ এই মালামাল হেফাজতে রাখার অভিযোগে মো. উজ্জল মিয়া নামের ২৬ বছর বয়সী এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি দল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় পুলিশ তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সামগ্রী পাওয়া যায়, যার মধ্যে ল্যাপটপ, ক্যামকর্ডার এবং মাইক্রোফোন রয়েছে। পুলিশের ধারণা, এগুলো বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি করা হয়েছে এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল।

আটক ব্যক্তির কাছ থেকে জব্দকৃত সরঞ্জামের বাজারমূল্য এবং তিনি এই মালামালগুলো কোথায় থেকে সংগ্রহ করেছেন, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরির বিভিন্ন ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আটক উজ্জল মিয়াকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই চুরির চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, বা অন্য কোনো বড় ধরনের গ্যাং এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত কি না, তা নিয়ে বিশদ তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক যুবক দীর্ঘদিন ধরে চোরাই মালামাল কেনাবেচার সাথে জড়িত থাকতে পারেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও কোনো চোরাই পণ্য উদ্ধার করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে কাজ করছে পুলিশ। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার কাজও চলমান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। বাকলিয়া এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের এই সাফল্য সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আটক মো. উজ্জল মিয়ার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আদালতে সোপর্দ করা হতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তির তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একইসাথে সাধারণ মানুষকে কোনো ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে চোরাই পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকা যায়।

নগর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় এখন নিয়মিত চেকপোস্ট এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ টহল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বাকলিয়া থানার পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেকের নাম-পরিচয় বের করার চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অপরাধ আর না ঘটে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের কনসার্টকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকি, হুমকির মুখে অমিতাভ বচ্চন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের কনসার্টকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকি, হুমকির মুখে অমিতাভ বচ্চন

পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের কনসার্টকে কেন্দ্র করে ভারতে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দিল্লির পর এবার মুম্বাইয়ের অনুষ্ঠান নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। এরই মধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে অমিতাভ বচ্চনের নাম জড়িয়ে হুমকি পাওয়ার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভারতে বর্তমানে পাঞ্জাবি সংগীত তারকা দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের কনসার্ট ট্যুর নিয়ে যেমন একদিকে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা বিরাজ করছে, তেমনি অন্যদিকে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা। সম্প্রতি দিলজিতের কনসার্ট আয়োজন ঘিরে একাধিক হুমকির খবর সামনে এসেছে, যা সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে রাজধানী দিল্লিতে তার কনসার্ট বাতিলের ঘটনার পর, মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরবর্তী অনুষ্ঠানগুলো নিয়েও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে দিলজিতের কনসার্টের টিকিট বিক্রি ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। এই তারকা শিল্পীর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকায় কনসার্টের টিকিট কেনার জন্য হাজার হাজার ভক্ত মরিয়া হয়ে ওঠেন। কিন্তু এই বিশাল চাহিদাকে পুঁজি করে কিছু অসাধু চক্র জালিয়াতির আশ্রয় নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কনসার্ট ঘিরে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে যুক্ত হয়েছে সরাসরি হুমকির ঘটনা। জানা গেছে, কিছু অজ্ঞাতপরিচয় গোষ্ঠী নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটানোর হুমকি দিয়েছে, যার জেরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

তবে এই পরিস্থিতির সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো অমিতাভ বচ্চনের নাম জড়িয়ে হুমকি প্রদান। কনসার্ট আয়োজক এবং নিরাপত্তায় নিয়োজিত সংস্থাগুলোর কাছে এমন কিছু বার্তা এসেছে যেখানে দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের পাশাপাশি এই কিংবদন্তি অভিনেতার নামও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও কেন বা কোন উদ্দেশ্যে অমিতাভ বচ্চনকে এই হুমকির সঙ্গে জড়ানো হলো, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের কনসার্ট ট্যুর ভারত জুড়ে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হওয়ার পাশাপাশি এখন এক প্রকার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। মুম্বাইয়ের অনুষ্ঠানটি ঘিরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে। অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা এবং প্রতিটি টিকিটের সত্যতা যাচাই করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া টিকিট কালোবাজারি রুখতে আয়োজকদের পক্ষ থেকেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হুমকি প্রদানকারী চক্রটিকে শনাক্ত করার জন্য কাজ চলছে। প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অমিতাভ বচ্চনের মতো একজন ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

বলিউড ও সংগীত জগতের তারকারা এই ধরনের হুমকির মুখে পড়লে সাধারণত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি সহায়তার দিকেই নজর দেন। দিলজিতের টিমের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো না পাওয়া গেলেও, নিরাপত্তার বিষয়টি তারা প্রশাসনকে অবহিত করেছে। সংগীতপ্রেমী ও অনুরাগীদের মধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অবকাশ থাকলেও, আয়োজকরা জানিয়েছেন যে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই অনুষ্ঠান পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

সামগ্রিকভাবে, দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের এই কনসার্ট সিরিজ এখন বিনোদন খবরের চেয়ে বেশি অপরাধ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী কনসার্টটিতে পুলিশের বিশেষ স্কোয়াড মোতায়েন করা হতে পারে বলেও বিভিন্ন সূত্রে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। একইসঙ্গে ভক্তদের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করার জন্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সর্বশেষ
সীমান্তে নতুন করে উত্তাপ, উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ার চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চোরাই ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ যুবক আটক দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের কনসার্টকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকি, হুমকির মুখে অমিতাভ বচ্চন পর্যটকশূন্য সাজেক উপত্যকা, থমথমে পরিস্থিতিতে স্থবির জনজীবন ম্যানেজার পদে কর্মী খুঁজছে ব্র্যাক ব্যাংক, নেই বয়সসীমা পিএসসি সদস্যদের চায়ের দাওয়াতে ডেকে পদত্যাগের চাপের অভিযোগ জামায়াতের মহাখালী বাস টার্মিনালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার এক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক, চিরকুট ঘিরে শোরগোল মিরপুরে টেস্ট দেখতে লাগবে না টিকিট, দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত গ্যালারি গাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ একই পরিবারের চারজন
Advertisement