খুঁজুন
, ,

কুমিল্লা লালমাইয়ে গ্যাং নেতার বাড়িতে অস্ত্র ও এয়ারগান জব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
কুমিল্লা লালমাইয়ে গ্যাং নেতার বাড়িতে অস্ত্র ও এয়ারগান জব্দ

কুমিল্লা জেলার লালমাইয়ে গ্যাং নেতার বাড়িতে এসআরবি দল ঘাঁটি ভেঙে দেশীয় অস্ত্র ও এয়ারগানসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করেছে।

কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলায় গ্যাং সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র পদক্ষেপে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক উল্লেখযোগ্য জব্দ সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ গৃহনিরীক্ষা শেষে, সশস্ত্র রিকশা বাহিনী (এসআরবি) গ্যাং নেতার বাড়িতে প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্র, এয়ারগান এবং অন্যান্য অবৈধ সামগ্রী জব্দ করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রামদা-চাপাতি গ্রাম থেকে প্রায় এক ঘণ্টা দূরে অবস্থিত লালমাইয়ের এক বাড়িতে, যেখানে কিশোর গ্যাংয়ের নেতা ও তার সহকর্মীরা গোপনভাবে অস্ত্র সংরক্ষণ করছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। স্থানীয় তথ্য সূত্রের ভিত্তিতে এসআরবি দলটি পূর্বে কয়েকটি গ্যাং সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে জড়িত ছিল এবং শেষ পর্যন্ত এই বাড়িতে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

অভিযানটি সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হয়। এসআরবি দলটি গোপনভাবে বাড়ির চারপাশে পর্যবেক্ষণ করে, সন্দেহজনক কার্যকলাপের কোনো চিহ্ন পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করে। বাড়িতে প্রবেশের পর, দলটি দ্রুতই গ্যাং নেতার ব্যক্তিগত কক্ষ এবং সংরক্ষণাগার ঘরে অনুসন্ধান চালায়। অনুসন্ধানের ফলস্বরূপ, একাধিক দেশীয় বন্দুক, হ্যান্ডগান, রাইফেল এবং একটি এয়ারগান পাওয়া যায়। এছাড়াও, গ্যাংয়ের সদস্যদের ব্যবহারযোগ্য কিছু গোলাবারুদ ও গ্যাসের সিলিন্ডারও জব্দ করা হয়।

গ্যাং নেতার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, তবে সূত্র অনুযায়ী তিনি কিশোর বয়সের এবং স্থানীয় গ্যাং গঠন ও অপরাধমূলক কার্যকলাপে সক্রিয় ছিলেন। তার বাড়িতে জব্দকৃত সামগ্রীগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে গ্যাংটি শুধুমাত্র চোরাচালান নয়, বরং অস্ত্র পাচার ও গুলি চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধরণের অস্ত্রের উপস্থিতি স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, বিশেষত যখন গ্যাং সদস্যদের বয়স কম এবং তারা অপরাধে প্রবেশের ঝুঁকি বেশি।

এসআরবি কর্মকর্তারা জব্দকৃত সামগ্রীগুলোকে নিরাপত্তা দপ্তরে স্থানান্তর করে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া, গ্যাং নেতার বিরুদ্ধে গৃহনিরীক্ষা ও জব্দের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। সংশ্লিষ্ট তদন্তে গ্যাংয়ের অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত করে গ্রেফতার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ এই ধরনের গ্যাং কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। লালমাই উপজেলার মেয়র এবং জেলা প্রশাসক উভয়ই নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেছেন, “এ ধরনের অপরাধমূলক গ্যাংকে দমন করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব, এবং আজকের জব্দ এই দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।”

অপরদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা আশাবাদী যে, গ্যাং নেতার বাড়িতে জব্দকৃত অস্ত্রের মাধ্যমে ভবিষ্যতে গ্যাং কার্যকলাপের হ্রাস ঘটবে এবং যুবকদের অপরাধের পথে ধাবিত হওয়া রোধ হবে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, গ্যাং সংক্রান্ত অপরাধের মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বেকারত্ব, শিক্ষা সুযোগের অভাব এবং সামাজিক পরিবেশের দুর্বলতা। তাই, শুধুমাত্র নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপই নয়, বরং সামাজিক উন্নয়নমূলক নীতি ও যুব কর্মসূচি চালু করা জরুরি, যাতে গ্যাংয়ের আকর্ষণ কমে এবং যুবকরা সঠিক পথে এগিয়ে যায়।

এসআরবি দলটি ভবিষ্যতেও গ্যাং সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে তীব্র নজরদারি বজায় রাখবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে গ্যাং নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলতে কাজ করবে। এই জব্দের মাধ্যমে গ্যাং নেতার অপরাধমূলক কার্যক্রমে বড় ধাক্কা লেগেছে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা পরিবেশে স্বস্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা বাড়ছে।

শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা গণঅধিকার পরিষদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা গণঅধিকার পরিষদের

সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হওয়ায় সরকারের নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। তিনি এই নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দায়িত্ব পালনকারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বা উদ্বেগের কথা সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মধ্যে কাজ করেছিল, তা কাটিয়ে উঠে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এবার সারাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। পূজা মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল, তা সার্বিকভাবে প্রশংসার দাবি রাখে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকে। এই প্রেক্ষাপটেই গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ সরকারের গৃহীত নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রশংসা করেছেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি বাঙালির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক বড় মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রতি বছরই এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয়তা বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে গত কয়েক বছরের সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে এবার পূজার নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ নজরদারি ছিল লক্ষণীয়। আবু হানিফ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, উৎসবের দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মণ্ডপগুলোতে যে ধরণের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের পূজা উদযাপন করতে পেরেছেন, যা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

পূজা মণ্ডপগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক দল এবং আনসার সদস্যের পাশাপাশি পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যদের বিশেষ টহল এবারের নিরাপত্তার অন্যতম দিক ছিল। এছাড়াও প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ধর্মীয় নেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করার বিষয়টিও ছিল উল্লেখযোগ্য। গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা মনে করেন, সরকারের দায়িত্বশীল অবস্থান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাই এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, কোনো উৎসব যদি ভয়হীন পরিবেশে পালিত হয়, তবেই তার আসল আনন্দ পাওয়া যায়। এবারের পূজায় সেই ভয়হীন পরিবেশই নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক বিভাজন থাকলেও জাতীয় উৎসবের ক্ষেত্রে সরকারের এই ধরণের ইতিবাচক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো প্রয়োজন। আবু হানিফ মনে করেন, একটি রাষ্ট্র যখন তার নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করে, তখন দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। দুর্গোৎসবের এই কয়েকদিনে দেশের প্রতিটি প্রান্তে যে উৎসবের আমেজ ছিল, তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি আরও বলেন, কেবল সরকারি উদ্যোগই নয়, সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সজাগ দৃষ্টি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধও এই উৎসবকে শান্তিপূর্ণ করতে সহায়তা করেছে।

পরিশেষে, আবু হানিফ আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতেও সকল ধর্মীয় উৎসবে সরকারের পক্ষ থেকে এমন সতর্ক ও কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা বলবৎ থাকবে। এটি দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি করে এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সুযোগ কমিয়ে দেয়। তিনি পূজা আয়োজক কমিটিসহ যারা বিভিন্নভাবে এই উৎসবকে সুন্দর ও নির্বিঘ্ন করতে কাজ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সরকারের গৃহীত এই পদক্ষেপগুলো আগামী দিনের যেকোনো বড় জাতীয় বা ধর্মীয় আয়োজনের ক্ষেত্রে একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। শান্তিপূর্ণ এই দুর্গাপূজা প্রমাণ করে যে, যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো বড় উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব।

ঢাকা‑পাবনা রুটে নতুন ট্রেন চালু হবে নভেম্বরের শেষের দিকে, রেলপথ সচিবের ঘোষণায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ঢাকা‑পাবনা রুটে নতুন ট্রেন চালু হবে নভেম্বরের শেষের দিকে, রেলপথ সচিবের ঘোষণায়

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম জানিয়েছেন, নভেম্বরের শেষের দিকে ঢাকা‑পাবনা রুটে নতুন ট্রেন চালু হবে। এই পদক্ষেপটি দেশের রেলপথ অবকাঠামোকে আধুনিকায়ন ও আঞ্চলিক সংযোগ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জানিয়েছেন, নভেম্বরের শেষের দিকে ঢাকা‑পাবনা রুটে নতুন একটি ট্রেন চালু করা হবে। এই ঘোষণাটি দেশের রেলপথ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে এবং রেলযাত্রীর সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা‑পাবনা রুটটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সংযোগের একটি মূল সড়ক, যা পূর্বে সীমিত সংখ্যক ট্রেনের মাধ্যমে সেবা পেত। নতুন ট্রেনের যোগদানের ফলে এই রুটে দৈনিক চলাচল বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, যা যাত্রীদের জন্য সময়সীমা কমিয়ে দেবে এবং ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক করবে।

পাবনা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলা গুলোতে ব্যবসা, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার জন্য ঢাকা শহরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন থেকে অনুভূত হচ্ছে। অতীতে এই রুটে কিছু সময়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেলপথ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সেবা পুনরায় চালু হয়েছে। নতুন ট্রেনের অন্তর্ভুক্তি এই ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে।

সচিব ফাহিমুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, নতুন ট্রেনটি আধুনিক রেলগাড়ি প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মিত হবে এবং এটি দ্রুতগতি, নিরাপত্তা ও আরামদায়ক সিটিং ব্যবস্থা সমৃদ্ধ হবে। ট্রেনের নির্দিষ্ট সময়সূচি ও স্টপেজ তালিকা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি, তবে জানানো হয়েছে যে এটি ঢাকা, সাভার, নওগাঁ, পাবনা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে থামবে।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রণালয় দেশের রেল নেটওয়ার্ককে আধুনিকায়ন ও আঞ্চলিক সমতা বজায় রাখার লক্ষ্যে কাজ করছে। সচিব ফাহিমুল ইসলাম আরও বলেন, রেলপথ অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নতুন ট্রেনের চালু হওয়া এই দৃষ্টিভঙ্গির একটি বাস্তব উদাহরণ।

নতুন ট্রেনের প্রত্যাশা বিশেষত ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্চ। দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য রেল সেবা পাবে ব্যবসায়িক লেনদেনের গতি বাড়বে, আর শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহজে পৌঁছাতে পারবে। এছাড়া, পর্যটন ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, কারণ পাবনা ও তার আশেপাশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলোতে পর্যটক আকৃষ্ট হবে।

স্থানীয় প্রশাসক ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা নতুন ট্রেনের চালু হওয়ার জন্য ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। পাবনা জেলার শাসক কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, রেল সেবা উন্নত হলে স্থানীয় বাজারে পণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং গ্রামীণ উৎপাদনশীলতা বাড়বে। একই সঙ্গে, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবার মান উন্নত করার জন্য রেলওয়ে কর্মীদের প্রশিক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নভেম্বরের শেষের দিকে নতুন ট্রেনের সূচনা হলে, রেলপথ মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে আরও নতুন রুট ও আধুনিক রেলগাড়ি চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই ধারাবাহিকতা দেশের রেলপথকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলবে এবং দেশের সমগ্র পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিউজিল্যান্ডের পাহাড়সম সংগ্রহ টপকে ভারতের দুর্দান্ত জয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
নিউজিল্যান্ডের পাহাড়সম সংগ্রহ টপকে ভারতের দুর্দান্ত জয়

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২২৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের ব্যাটারদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কাছে হার মানল নিউজিল্যান্ড। কিউই বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়েই জয় তুলে নিল সফরকারীরা।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফরম্যাটটাই এমন, যেখানে বড় রানের স্কোরবোর্ড নিয়েও জয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ক্রিকেট বিশ্ব আবারও সেই চিরচেনা উত্তেজনার সাক্ষী হলো সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদেরই বিপক্ষে ২২৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত যে আধিপত্য দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। স্বাগতিকদের পাহাড়সম সংগ্রহকে পাত্তাই দেয়নি সফরকারী ভারতের ব্যাটাররা। অত্যন্ত দাপুটে ব্যাটিং প্রদর্শনীতে ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জয় তুলে নিয়েছে ভারত।

ম্যাচের শুরু থেকেই কিউই ব্যাটাররা তাদের স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পরিচয় দিয়েছিল। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা শুরু থেকেই স্ট্রোক খেলার ওপর জোর দিয়েছিলেন, যার ফলে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ গিয়ে ঠেকে ২২৫ রানে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এই রান অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই জয়ের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল নিউজিল্যান্ড। তবে তাদের সেই আত্মবিশ্বাসকে গুঁড়িয়ে দিতে খুব একটা সময় নেননি ভারতের ব্যাটাররা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে। কিউই বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করেন ভারতের উদ্বোধনী জুটি। মাঠের চারপাশ দিয়ে বাউন্ডারির বন্যা বইয়ে দেন তারা। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা কোনো পর্যায়েই সেভাবে ভারতের ব্যাটারদের গতি বা রান তোলার গতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। একের পর এক ডট বল কিংবা ব্রেকথ্রুর জন্য মরিয়া হলেও কিউই ফিল্ডাররা সেভাবে কোনো সহায়তা করতে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে পাওয়ার প্লেতে ভারতের রান তোলার গতি নিউজিল্যান্ডকে অনেকটা কোণঠাসা করে ফেলে।

ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের ব্যাটাররা যেভাবে উইকেট ধরে রেখে রান রেট সচল রেখেছিলেন, তা ছিল দেখার মতো। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে সাধারণত ব্যাটাররা তাড়াহুড়ো করে উইকেট বিলিয়ে দেন, কিন্তু এদিন ভারতের ব্যাটিং লাইনের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রতিটি ব্যাটার নিজের দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করেছেন এবং কিউই বোলারদের চাপে রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন। বল ও রানের ব্যবধান কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারা কোনো ভুল করেননি।

নিউজিল্যান্ডের বোলাররা ম্যাচ ফিরতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করলেও ভারতের ব্যাটারদের রুখতে সব কৌশলই ব্যর্থ হয়েছে। ভারতীয় ব্যাটারদের কাছে কিউই বোলিং আক্রমণ যেন এদিন একেবারেই নখদন্তহীন মনে হয়েছে। কোনো পর্যায়েই মনে হয়নি যে ভারত এই রান তাড়া করতে গিয়ে খুব বেশি চাপের মুখে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত জয়ের বন্দরে ভারত অনায়াসেই পৌঁছে যায়।

এই জয় ভারতের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সিরিজের প্রথম ম্যাচে এমন দাপুটে জয় পুরো দলের মনোবলকে আগামী ম্যাচগুলোর জন্য চাঙ্গা করবে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা। নিজেদের মাঠে ২২৫ রানের মতো বিশাল সংগ্রহ করেও বোলারদের ব্যর্থতায় ম্যাচ হারতে হলো তাদের। সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে নিজেদের বোলিং আক্রমণে বড় কোনো পরিবর্তন বা পরিকল্পনায় রদবদল না আনলে নিউজিল্যান্ডকে আবারও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন পরবর্তী লড়াইয়ের দিকে। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি যেভাবে শেষ হলো, তাতে পরবর্তী ম্যাচগুলো যে আরও উত্তেজনাকর হতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

সর্বশেষ
শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা গণঅধিকার পরিষদের কুমিল্লা লালমাইয়ে গ্যাং নেতার বাড়িতে অস্ত্র ও এয়ারগান জব্দ ঢাকা‑পাবনা রুটে নতুন ট্রেন চালু হবে নভেম্বরের শেষের দিকে, রেলপথ সচিবের ঘোষণায় নিউজিল্যান্ডের পাহাড়সম সংগ্রহ টপকে ভারতের দুর্দান্ত জয় কারাবন্দি বিএনপি নেতার পরিবারের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বন্ধ শিল্পের সম্পদ কাজে লাগিয়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি বাগেরহাটে প্রটোকল ভেঙে সাধারণ মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে সিনিয়র অফিসার পদে অনলাইন আবেদন শুরু ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন মুখ নেহা বোরা: মোদী সরকারের মাথাব্যথার কারণ? শখ থেকে বিপদ: বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে হাসপাতালে কাঠমিস্ত্রি
Advertisement