চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চোরাই ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ যুবক আটক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে চোরাই ল্যাপটপ এবং ক্যামেরাসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ এই মালামাল হেফাজতে রাখার অভিযোগে মো. উজ্জল মিয়া নামের ২৬ বছর বয়সী এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি দল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় পুলিশ তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সামগ্রী পাওয়া যায়, যার মধ্যে ল্যাপটপ, ক্যামকর্ডার এবং মাইক্রোফোন রয়েছে। পুলিশের ধারণা, এগুলো বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি করা হয়েছে এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল।

আটক ব্যক্তির কাছ থেকে জব্দকৃত সরঞ্জামের বাজারমূল্য এবং তিনি এই মালামালগুলো কোথায় থেকে সংগ্রহ করেছেন, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরির বিভিন্ন ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আটক উজ্জল মিয়াকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই চুরির চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, বা অন্য কোনো বড় ধরনের গ্যাং এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত কি না, তা নিয়ে বিশদ তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক যুবক দীর্ঘদিন ধরে চোরাই মালামাল কেনাবেচার সাথে জড়িত থাকতে পারেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও কোনো চোরাই পণ্য উদ্ধার করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে কাজ করছে পুলিশ। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার কাজও চলমান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। বাকলিয়া এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের এই সাফল্য সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আটক মো. উজ্জল মিয়ার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আদালতে সোপর্দ করা হতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তির তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একইসাথে সাধারণ মানুষকে কোনো ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে চোরাই পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকা যায়।

নগর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় এখন নিয়মিত চেকপোস্ট এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ টহল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বাকলিয়া থানার পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেকের নাম-পরিচয় বের করার চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অপরাধ আর না ঘটে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন