রাজশাহীর কাটাখালীতে ঘরের মেঝের নিচে গোপন মাদকের আস্তানা, গ্রেফতার দুই
রাজশাহী মহানগরীর কাটাখালী এলাকায় মাদকের কারবারিদের এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর আস্তানার সন্ধান পেয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সাধারণ মানুষের নজর এড়াতে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে একটি বসতবাড়ির মেঝের নিচে টাইলস তুলে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল মাদকের গোপন ভাণ্ডার বা গোডাউন। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এই আস্তানার খোঁজ মেলে এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরএমপির একটি চৌকস দল কাটাখালীতে অভিযান পরিচালনা করে। প্রাথমিক অবস্থায় বাড়িটিতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা গেলেও তল্লাশি চালানোর সময় মেঝের টাইলসের অংশে অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে। পরবর্তীকালে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সেখানে তল্লাশি চালিয়ে মেঝের নিচ থেকে কৌশলে লুকিয়ে রাখা একটি গোপন কুঠুরির সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই গোপন কক্ষটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় ছিল না সেখানে কিছু লুকানো আছে।
অভিযান পরিচালনাকারী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই গোপন গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৩ হাজার ৭০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এটি একটি উচ্চমাত্রার ব্যথানাশক ওষুধ হলেও মাদক কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে এটিকে নেশাজাতীয় দ্রব্য হিসেবে অপব্যবহার করে আসছে। মাদকের চালানের পাশাপাশি ওই স্থান থেকে মাদক বিক্রির নগদ ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, যা কারবারিদের বড় ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি স্পষ্ট করে। এছাড়াও জব্দ করা হয়েছে একটি মোবাইল ফোন, যা মাদক চোরাচালান ও বিক্রির নেটওয়ার্ক শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছে তদন্তকারী দল।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, মাদক কারবারের নেটওয়ার্কটি কেবল ওই নির্দিষ্ট বাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজনের বাড়িতে আলাদাভাবে তল্লাশি চালিয়ে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজাও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, অপরাধীরা বেশ সুসংগঠিতভাবে বিভিন্ন স্থানে মাদক মজুত করে আসছিল। স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের বিস্তার রোধে আরএমপির এই অভিযানকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদক কারবারিরা নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম নস্যাৎ করা সম্ভব হচ্ছে। এই ঘটনার নেপথ্যে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং মাদকগুলো কোথা থেকে আসছিল—তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মাদক সিন্ডিকেটের আরও হোতা ও সহযোগীদের নাম বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
রাজশাহীর সাধারণ সচেতন নাগরিকরা মাদকের এমন ভয়াবহ বিস্তার দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, লোকালয়ের ভেতর বিশেষ কক্ষ বা ভূগর্ভস্থ আস্তানা তৈরি করে মাদক ব্যবসায়ীদের এমন কর্মকাণ্ড রুখতে এলাকাবাসীর সজাগ দৃষ্টি রাখা জরুরি। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, জনমনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদকের কালো থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আরএমপি বদ্ধপরিকর।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]