শারদীয় উৎসবের আমেজে হিলি সীমান্তে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরের জনপদে। এই ছুটিকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে ভারত দেখার আগ্রহ থেকে নানা বয়সের মানুষ সেখানে সমবেত হচ্ছেন। গত কয়েক দিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয় পর্যটন ও বিনোদনের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রতক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে দীর্ঘ সময় পেয়ে অনেকেই সপরিবারে হিলি সীমান্তে ঘুরতে এসেছেন। সীমান্তের শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে কাঁটাতারের ওপারে প্রতিবেশী দেশের জীবনযাত্রা ও সীমান্ত এলাকার দৃশ্য দেখার জন্য মানুষের মধ্যে এক বিশেষ কৌতূহল দেখা গেছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এই কৌতূহল ছিল সবচেয়ে বেশি। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর রাস্তাঘাটে সাধারণ দিনের চেয়ে দর্শনার্থীদের আনাগোনা অনেক বেশি বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পূজা উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় এমন জনসমাগম নতুন নয়। তবে এবারের ছুটিতে দর্শনার্থীদের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি মনে হচ্ছে। অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন হিলি সীমান্তের এই দৃশ্য উপভোগ করতে। সীমান্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিজিবি সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। দর্শনার্থীরা যেন কোনোভাবেই আইন লঙ্ঘন না করেন বা সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করার চেষ্টা না করেন, সে বিষয়ে মাইকিং ও টহল টিমের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার দোকানি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, এমন ভিড়ের কারণে স্থানীয় বাজারেও কেনাবেচা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎসবের দিনগুলোতে অনেকেই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় একটু স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকলেও সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড় মূলত শূন্যরেখা বা সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলোতেই সীমাবদ্ধ ছিল।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থে দর্শনার্থীদের গতিবিধির ওপর কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। তবে পর্যটকদের উৎসাহ ও ভিড়ের কারণে এলাকার পরিবেশ বেশ উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। দুর্গাপূজা ও এর পরবর্তী দিনগুলোতে এই ভিড় আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।
উৎসবের ছুটিকে কেন্দ্র করে সীমান্তে সাধারণ মানুষের এই সমাগম স্থানীয় পর্যায়ে বিনোদনের অভাব মেটানোর একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে থাকা প্রিয়জন বা পরিচিত পরিবেশের প্রতি মানুষের যে সহজাত আগ্রহ, তা-ই মূলত হিলি সীমান্তের এই ভিড়ের মূল কারণ। দিনব্যাপী ঘোরাঘুরি শেষে সূর্যাস্তের সময় দর্শনার্থীদের ফেরার পালা শুরু হয়, যা সীমান্ত সড়কগুলোতে উৎসবের আমেজকে আরও রঙিন করে তোলে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]