খুঁজুন
, ,

ইয়েমেনে সংঘাতের তীব্রতায় বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
ইয়েমেনে সংঘাতের তীব্রতায় বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এবং সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই সামরিক উত্তেজনার জেরে দেশটিতে হতাহতের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন প্রায় সাত হাজার মানুষ, যা ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতির চিত্র তুলে ধরছে।

চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক অস্থিরতা শুরু হয়। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ এবং বিমান হামলার কারণে বেসামরিক জনবসতি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার জন্য আসা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় ঔষধ ও উপকরণের অভাবে তাদের সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলে আসা এই সংঘাত কেবল দেশটিতে নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রাজনৈতিক সমাধানের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় এবং যুদ্ধবিরতির কার্যকর কোনো উদ্যোগ সফল না হওয়ার কারণে এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার শান্তির আহ্বান জানালেও দুই পক্ষই সামরিক শক্তির প্রদর্শনী চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়েমেনের বর্তমান সংকটে সাধারণ নাগরিকরাই সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। ঘরবাড়ি ছাড়া হওয়া এবং পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয়ের অভাব মানুষগুলোকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা বারবার মানবিক করিডোর চালুর অনুরোধ জানালেও সামরিক আগ্রাসন থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় নতুন করে লড়াইয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা মৃত্যুর মিছিলকে আরও দীর্ঘ করছে।

গত আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই সাম্প্রতিক সংঘাতের পর থেকে দেশজুড়ে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। একদিকে জোট বাহিনীর আকাশপথে হামলার হুমকি, অন্যদিকে হুথি বিদ্রোহীদের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের কারণে ইয়েমেনের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলই এখন অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার চেষ্টা চললেও দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে তা কোনো কার্যকর ফলাফল বয়ে আনতে পারছে না।

এদিকে, বিপুল সংখ্যক আহত মানুষ চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো সহায়তা পাঠানোর চেষ্টা করলেও যুদ্ধের তীব্রতায় তা পর্যাপ্ত নয়। ইয়েমেনের স্বাস্থ্য অবকাঠামো ভেঙে পড়ায় আহতদের সঠিক চিকিৎসা প্রদান প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান এই নাজুক পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে ইয়েমেনের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে এই সহিংসতার অবসান কবে ঘটবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রে ৫৯২ কোটি টাকায় খনন করা হবে দুটি কূপ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রে ৫৯২ কোটি টাকায় খনন করা হবে দুটি কূপ

দেশের জ্বালানি খাতের সংকট নিরসনে ও নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের অন্যতম প্রধান গ্যাসক্ষেত্র তিতাসে নতুন দুটি কূপ খনন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নেওয়া এই উদ্যোগ সফল হলে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে গ্যাসের সরবরাহ যুক্ত হবে, যা শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই দুটি কূপ খননের জন্য বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাসের চাহিদার যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এই প্রকল্পটি একটি মাইলফলক হতে পারে। জ্বালানি বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সম্পদ ব্যবহারের এই উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিতাস গ্যাসফিল্ডটি বাংলাদেশের অন্যতম পুরনো ও প্রধান গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। বছরের পর বছর এখান থেকে বিপুল পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। তবে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের মজুদ হ্রাস পাওয়ার কারণে এবং নতুন গ্যাসের সন্ধানে এই কূপ খননের বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। প্রযুক্তিগত জরিপ ও ভূ-তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা নতুন কূপ খননের জায়গাগুলো নির্বাচন করেছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খননকার্য সম্পন্ন করা হবে, যাতে মাটির গভীরে থাকা গ্যাসের স্তরে সঠিকভাবে পৌঁছানো যায়।

প্রকল্পের আওতায় ৫৯২ কোটি টাকার মধ্যে যন্ত্রপাতি আমদানি, খনন কাজ, পাইপলাইন সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী বছরগুলোতে গ্যাসের উৎপাদন সক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানো। নতুন এই দুটি কূপ থেকে দৈনিক কী পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাবে, তা খনন কাজ শেষ হওয়ার পর চূড়ান্তভাবে জানা যাবে। তবে ভূতাত্ত্বিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বেশ আশাবাদী। তারা মনে করছেন, এই কূপগুলো চালু হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রবাহে নতুন গতি আসবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে গ্যাসের যে চাহিদা রয়েছে, তা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে বিতরণকারী সংস্থাগুলো। শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস না পাওয়ার ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যায়। এই বাস্তবতায় তিতাসের নতুন কূপ খনন প্রকল্পটির গুরুত্ব অপরিসীম। আমদানিকৃত গ্যাসের উচ্চমূল্যের তুলনায় নিজস্ব উত্তোলন অনেক সাশ্রয়ী। তাই সরকার এখন বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানির চেয়ে নিজস্ব কূপ খনন ও অনুসন্ধান কাজকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং ঠিকাদার নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে মাঠ পর্যায়ে খনন কাজ শুরু করা হবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ ধরণের প্রকল্পগুলোর কোনো বিকল্প নেই। তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের সক্ষমতা বাড়াতে এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন জ্বালানি খাতের অংশীজনরা। প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে জ্বালানি খাতে দেশের নির্ভরতা অনেকাংশে কমবে এবং উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কঠোর নজরদারি রাখা হবে বলে জানা গেছে। সময়মতো কাজ শেষ করা এবং গুণগত মান বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। তিতাসের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য গ্যাসক্ষেত্রেও অনুরুপ অনুসন্ধান ও উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারের লক্ষ্য হলো দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়ে জ্বালানি খাতের অস্থিরতা কমিয়ে আনা। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত এই কূপ খনন কাজ শেষ করে গ্যাস উত্তোলনের পর্যায়ে যাওয়া সম্ভব হয়।

পূর্বাচলে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই বন্ধুর প্রাণহানি, চিকিৎসাধীন এক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
পূর্বাচলে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই বন্ধুর প্রাণহানি, চিকিৎসাধীন এক

রাজধানীর অদূরে পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় আরও একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত পূর্বাচল উপ-শহরের ৩০০ ফিট সড়কটি আবারও রক্তে রঞ্জিত হলো। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দুই বন্ধু, যাদের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাদের পরিবার ও পরিচিত মহলে। দ্রুতগতির একটি ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এই তিন বন্ধু ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হন। দুর্ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় অপর একজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটজনক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় মোটরসাইকেলে করে তিন বন্ধু পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। কোনো এক পর্যায়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং আরোহীরা ছিটকে পড়েন রাস্তায়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

সড়ক দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে ঘিরে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ৩০০ ফিট সড়কের প্রশস্ততা বাড়লেও সেখানে যানবাহন চলাচলের শৃঙ্খলা এবং ট্রাফিক নিয়ম মানার প্রবণতা কমে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অহরহ ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও চালকদের অসতর্কতা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। গত কয়েক বছরে এই রুটে এমন অনেক মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকাবাসীকে সবসময় আতঙ্কিত রাখে।

ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকটি জব্দ করা সম্ভব হয়েছে কি না এবং চালক পালিয়ে গেছে কি না, তা নিয়ে এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে অনুসন্ধান চলছে। এছাড়া মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহী থাকায় নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, সেটিও একটি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যরা সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। এই দুর্ঘটনার পর সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা মনে করছেন, যদি ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা না হয় এবং বেপরোয়া গতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে এই ধরনের শোকাবহ ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

আহত অপর আরোহীর বেঁচে থাকার লড়াই চলছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে আঘাতের ধরন গুরুতর হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রতিটি মুহূর্তই তার জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পুরো ঘটনার তদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পূর্বাচলের মতো দ্রুত বর্ধনশীল এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জার্মানির ডুসেলডর্ফে প্রবাসী বাঙালিদের বর্ণিল শারদীয় উৎসব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
   
জার্মানির ডুসেলডর্ফে প্রবাসী বাঙালিদের বর্ণিল শারদীয় উৎসব

দেশের মাটি থেকে হাজার মাইল দূরে জার্মানির ডুসেলডর্ফ শহরে আয়োজিত শারদীয় দুর্গোৎসবে মেতে উঠলেন প্রবাসী বাঙালিরা। ঢাকের আওয়াজ আর উৎসবের আমেজে পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনে শামিল হন প্রায় এক হাজার মানুষ।

দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থান করলেও শেকড়ের টান এড়ানো অসম্ভব। সেই টানেই জার্মানির ডুসেলডর্ফ শহরে আয়োজিত হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। প্রবাসী বাঙালিদের এই মিলনমেলায় গত ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত মুখর ছিল উৎসবের আঙিনা। সুদূর ইউরোপের মাটিতে বাঙালির এই প্রাণের উৎসবকে ঘিরে দেখা দিয়েছে এক অন্যরকম আবহ, যা যেন দেশের দুর্গাপূজার স্মৃতিকেই ফিরিয়ে এনেছে বিদেশের মাটিতে।

উৎসবের দিনগুলোতে ডুসেলডর্ফ শহরের পরিবেশ ছিল আনন্দমুখর। ঢাক-ঢোল আর বাদ্য-বাজনার তালে পুরো এলাকাটি যেন এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল। পাঁচ দিন ধরে চলা এই পূজার আয়োজনে কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানই পালন করা হয়নি, বরং একে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের এই উৎসবে প্রায় এক হাজার প্রবাসী বাঙালি অংশ নিয়েছেন। সব বয়সী মানুষ উৎসবে শামিল হওয়ায় ডুসেলডর্ফের এই আয়োজন পেয়েছে এক পূর্ণতা।

পূজা উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিল নানা বৈচিত্র্য। একদিকে যেমন মন্দিরের আঙিনায় চলেছিল ধুনুচি নাচ, অঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ বিতরণ, অন্যদিকে তেমনি ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। দেশের বিখ্যাত সব দুর্গোৎসবের আমেজ যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল ডুসেলডর্ফের এই আয়োজনে। প্রবাসীরা তাদের ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে এই কয়টি দিন নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস চালিয়েছেন। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা যারা বাইরে বড় হচ্ছে, তারাও এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাঙালি সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

উপস্থিত অনেক প্রবাসীই জানান, প্রবাসের যান্ত্রিক জীবনে নিজের দেশের উৎসবগুলো পালন করা কেবল আনন্দের নয়, বরং এটি তাদের মানসিকভাবে প্রশান্তি দেয়। একে অপরের সঙ্গে দেখা হওয়া, কুশল বিনিময় এবং একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া ও আড্ডায় কেটেছে উৎসবের দিনগুলো। বিশেষ করে দুর্গাপূজার মতো একটি বড় উৎসবে একত্রিত হওয়ার সুযোগ পাওয়াটা তাদের জন্য ছিল একটি বড় আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। দূরদেশে বসে দেশের মাটির টান অনুভব করার জন্য এই ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটেছে বিজয়া দশমীর আয়োজনের মধ্য দিয়ে। সিঁদুর খেলা আর একে অপরকে মিষ্টিমুখ করানোর মাধ্যমে সবাই যেন আরেক বছরের অপেক্ষায় বিদায় জানিয়েছেন মা দুর্গাকে। ডুসেলডর্ফের এই দুর্গোৎসব কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্যের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করে এবারের উৎসবটি সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ভবিষ্যতে এমন আয়োজন আরও বড় পরিসরে করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন ডুসেলডর্ফে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিরা।

সর্বশেষ
তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রে ৫৯২ কোটি টাকায় খনন করা হবে দুটি কূপ ইয়েমেনে সংঘাতের তীব্রতায় বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা পূর্বাচলে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই বন্ধুর প্রাণহানি, চিকিৎসাধীন এক জার্মানির ডুসেলডর্ফে প্রবাসী বাঙালিদের বর্ণিল শারদীয় উৎসব চট্টগ্রামে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযান, ১০টির বেশি মোবাইল ফোন জব্দ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস-প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে আহত ৫ শনিবার ডিআরইউতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘এমআরইউ মিডিয়া ডে ২০২৬’ চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মহাসড়কের পাশে ঝোপ থেকে নবজাতক উদ্ধার রোমান্টিক হিপোক্রেসি: সম্পর্কের টানাপোড়েনে দ্বিমুখী মানসিকতার সংকট মিরপুরে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগে ‘ফোর স্টার গ্রুপ’-এর তিন ভাই গ্রেফতার
Advertisement