খুঁজুন
, ,

বলিউডে অভিষেকের আগেই আলোচনায় ইশা মালভিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
বলিউডে অভিষেকের আগেই আলোচনায় ইশা মালভিয়া

টেলিভিশনের পর্দা পেরিয়ে এবার রুপালি পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে ছোটপর্দার পরিচিত মুখ ইশা মালভিয়ার। রোমান্টিক ঘরানার সিনেমা ‘তুম মেরে হো’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় নিজের নতুন যাত্রা শুরু করছেন তিনি। এই সিনেমায় তাঁর বিপরীতে দেখা যাবে অভিনেতা গুরমিত চৌধুরীকে। সিনেমার প্রচারণার অংশ হিসেবে সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন ইশা, যেখানে উঠে এসেছে শুটিংয়ের নানা অভিজ্ঞতা এবং পর্দার রসায়নের কথা।

সিনেমার গল্পে প্রেম, আবেগ এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনের চিত্র ফুটে উঠেছে। টিজার প্রকাশের পর থেকেই ইশা ও গুরমিতের জুটিকে নিয়ে দর্শকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সিনেমার কাহিনী ও নির্মাণের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করার বিষয়টি নিয়েও চর্চা চলছে। ইশা মালভিয়া এই প্রসঙ্গে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে, চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে ঘনিষ্ঠ বা চুমুর দৃশ্যে অভিনয় করতে তাঁর কোনো অস্বস্তি বা অসুবিধা হয়নি। বরং পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেছেন।

এক সাক্ষাৎকারে ইশা বলেন, গুরমিতের সঙ্গে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে কাজ করার সময় তিনি বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন। এর পেছনে তিনি নিজের আত্মবিশ্বাস এবং সহশিল্পীর সহযোগিতামূলক আচরণকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইশার মতে, গুরমিত চৌধুরী একজন অত্যন্ত চমৎকার অভিনেতা এবং মানুষ হিসেবেও তিনি দারুণ, যা একজন সহশিল্পী হিসেবে কাজকে অনেক সহজ করে দেয়। পাশাপাশি, ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে যেকোনো পরিস্থিতি সামলানোর মতো আত্মবিশ্বাস তাঁর মধ্যে তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

ইশার পাশাপাশি এই সিনেমার অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা গুরমিত চৌধুরীও শুটিং সেটে পেশাদারিত্বের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছেন। রোমান্টিক সিনেমার খাতিরে পর্দার রসায়ন ফুটিয়ে তোলাটা জরুরি, আর সেই রসায়ন বজায় রেখেই তারা দৃশ্যগুলো ধারণ করেছেন। দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা এই সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন নিরঞ্জন আইয়েঙ্গার এবং পূর্বা নরেশ। সিনেমার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আশিস পান্ডা।

‘তুম মেরে হো’ সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন আরতি এস এবং দেবিনা ব্যানার্জি। মজার বিষয় হলো, প্রযোজক হিসেবে এটি গুরমিত চৌধুরীর প্রথম কাজ। রেভা ক্রিয়েটিভ হাউস ও দেবগুরু ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত এই সিনেমাটি নিয়ে বেশ আশাবাদী কলাকুশলীরা। টেলিভিশন তারকা হিসেবে ইশার পরিচিতি থাকলেও বড় পর্দায় নিজেকে প্রমাণ করার এটি তাঁর প্রথম সুযোগ। অন্যদিকে গুরমিত চৌধুরী টেলিভিশন ও সিনেমা উভয় মাধ্যমেই নিয়মিত কাজ করছেন।

আসন্ন ২৩ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। মুক্তির আগেই ইশা ও গুরমিতের রসায়ন এবং ইশার সাহসিকতা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বড় পর্দায় এই নতুন জুটির রসায়ন দর্শক কতটা গ্রহণ করেন এবং সিনেমাটি বক্স অফিসে কেমন সাফল্য পায়। সব মিলিয়ে বলিউডে ইশা মালভিয়ার যাত্রাটি বেশ ঘটনাবহুল হয়ে উঠছে।

বিয়ের ছয় দিনের মাথায় নববধূর মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়ি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
   
বিয়ের ছয় দিনের মাথায় নববধূর মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়ি গ্রেপ্তার

বিয়ের মাত্র ছয় দিন পর লিমা নামের এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লিমাকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।

ঘটনার বিষয়ে পাওয়া নিশ্চিত তথ্যের মধ্যে রয়েছে লিমার মৃত্যু, বিয়ের পর ছয় দিনের ব্যবধান এবং তাঁর স্বামী ও শাশুড়ির গ্রেপ্তারের বিষয়টি। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ, তিনি কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে অসুস্থ বা অচেতন হয়েছিলেন, কিংবা কখন তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

হাসপাতালের চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে পৌঁছানোর সময় লিমা জীবিত ছিলেন না। এই তথ্য তাঁর মৃত্যুর পরের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দেয়; কিন্তু কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা নিজে থেকে ব্যাখ্যা করে না। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত উপকরণে নেই। ফলে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনো কারণকে নিশ্চিত বলে উল্লেখ করা সমীচীন হবে না।

স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেলেও তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, কোথা থেকে বা কখন তাঁদের আটক করা হয়েছে, কিংবা মামলার আইনি বিবরণ কী—এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। গ্রেপ্তার হওয়া মানেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করাও ঠিক হবে না।

বিয়ের অল্প সময়ের মধ্যে নববধূর মৃত্যু এবং পরিবারের দুই সদস্যের গ্রেপ্তারের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন। লিমার মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, তাঁকে কে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন, এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া কোনো বর্ণনা যোগ করা যাবে না।

ঘটনার স্থান, লিমার বয়স, বিয়ের তারিখ এবং মৃত্যুর সময় সম্পর্কেও এখানে নিশ্চিত বিবরণ নেই। নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁকে নেওয়া হয়েছিল—এ তথ্য থেকে শুধু হাসপাতাল-সংক্রান্ত বিষয়টি জানা যায়; মৃত্যুর ঘটনা ঠিক কোথায় ঘটেছে, তা নির্ধারণ করা যায় না। একইভাবে, বিয়ের ছয় দিন পর মৃত্যু হয়েছে—এ তথ্য থাকলেও বিয়ের দিন বা মৃত্যুর নির্দিষ্ট তারিখ অনুমান করে বলা যাবে না।

মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ এবং গ্রেপ্তারের পেছনের অভিযোগ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে এলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র বোঝা সহজ হবে। এর আগে নিশ্চিত তথ্যের সীমার বাইরে গিয়ে কোনো ঘটনা, বক্তব্য বা উদ্দেশ্য জুড়ে দেওয়া দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ পর্যায়ে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বিয়ের ছয় দিন পর লিমার মৃত্যু হয়েছে, তাঁকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নেওয়া হয়েছিল এবং এ ঘটনায় তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আসামে উচ্ছেদ অভিযান ও ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার অভিযোগ ঘিরে উত্তাপ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
   
আসামে উচ্ছেদ অভিযান ও ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার অভিযোগ ঘিরে উত্তাপ

ভারতের আসাম রাজ্যে সরকারি উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বাঙালি মুসলিম অধ্যুষিত বসতিগুলোতে প্রশাসনিক তৎপরতায় হাজার হাজার মানুষ তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক এই উচ্ছেদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এবং স্থানীয় বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও পোস্টের মাধ্যমে জানা গেছে, এই অভিযানে কেবল বাড়িঘরই নয়, বরং ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।

প্রাথমিক তথ্যানুসারে, সরকারি অভিযানে প্রায় এক হাজার একশ’রও বেশি পরিবারকে তাদের পৈতৃক ভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই আর্থসামাজিক দিক থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সময় বা পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আকস্মিকভাবে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ তাদের সহায়-সম্বল রক্ষার সুযোগ পাননি। শীতের এই সময়ে খোলা আকাশের নিচে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে অনেককে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগের তীর সরাসরি প্রশাসনের দিকে, যারা উন্নয়নের নামে বা সরকারি খাস জমি উদ্ধারের দোহাই দিয়ে তাদের উচ্ছেদ করেছে।

অভিযানের সবচেয়ে স্পর্শকাতর দিকটি হলো ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙার অভিযোগ। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, উচ্ছেদ চলাকালীন এলাকায় থাকা কয়েকটি মসজিদও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ লক্ষ করা যাচ্ছে। অনেকে একে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষপ্রসূত কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। যদিও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই ভাঙচুরের অভিযোগ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

আসামে দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের নামে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক এই উচ্ছেদটি যে মাত্রায় হয়েছে, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, উন্নয়ন ও সরকারি জমি পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও, যেভাবে ধর্মীয় স্থাপনা ও বিপুল সংখ্যক পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, তা মানবাধিকারের প্রশ্নে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও পাল্টাপাল্টি দোষারোপ চলছে। একটি পক্ষ এটিকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে, অন্য পক্ষ এটিকে নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীকে কোণঠাসা করার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে।

উচ্ছেদ পরবর্তী পরিস্থিতিতে ওই এলাকাগুলোতে থমথমে ভাব বিরাজ করছে। পর্যাপ্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে গৃহহীন করায় চরম সংকটে পড়েছেন তারা। স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন, সরকার উচ্ছেদের আগে অন্তত বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারত। কিন্তু সেই নিয়ম না মেনে হঠকারী পদক্ষেপে চরম মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা এখন সরকারের কাছে পুনর্বাসন এবং ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার দাবি করছেন। পুরো বিষয়টি এখন আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, এই উচ্ছেদ অভিযানের জেরে দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

নিরাপত্তাহীনতায় স্থবির জনজীবন: সন্ধ্যা নামলেই পথচারীশূন্য সড়ক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
নিরাপত্তাহীনতায় স্থবির জনজীবন: সন্ধ্যা নামলেই পথচারীশূন্য সড়ক

দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা একটি মৌলিক চাহিদা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে একটি নির্দিষ্ট সড়কের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। এই সড়কে দিনের বেলাতেও পথচারী ও যাত্রীসাধারণ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারছেন না। নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কা, তা এতটাই তীব্র যে সন্ধ্যা নামলেই পুরো সড়কটি জনশূন্য হয়ে পড়ে। আতঙ্কের কারণে যানবাহন চালকরা এই রুটটি এড়িয়ে চলেন, ফলে সন্ধ্যা বা রাতের বেলায় সড়ক যোগাযোগ বলতে গেলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের অভাবে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। দিনের বেলাতেও ছিনতাই বা উত্ত্যক্ত করার মতো ঘটনার ভয়ে সাধারণ মানুষ একা ওই পথ দিয়ে যেতে সাহস পান না। ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষ। সড়কটিতে নিয়মিত টহল বা নজরদারি না থাকায় অসাধু চক্রের সদস্যরা অনেকটা নিশ্চিন্তেই তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে সড়কের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। দিনের কর্মচঞ্চল সড়কটি রাত বাড়ার সাথে সাথে ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি করে। পরিবহন শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলে কোনো চালকই ঝুঁকি নিতে চান না। যাত্রী পাওয়া গেলেও নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকেই ওই রুটে গাড়ি নিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে সন্ধ্যার পর থেকে ওই এলাকাটি একপ্রকার বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজনেও কেউ ওই সড়কটি ব্যবহার করতে পারেন না। এ অবস্থায় রোগী পরিবহন বা জরুরি সেবামূলক কাজও থমকে যায়।

সড়কের এই শোচনীয় অবস্থার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতির ওপর। দোকানপাট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যার আগেই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। কর্মসংস্থানের আশায় যেসব দোকানপাট গড়ে উঠেছিল, নিরাপত্তার অভাবে সেগুলো এখন বিলুপ্তির পথে। এলাকাবাসী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও স্থায়ী কোনো সমাধান আজও মিলছে না। মাঝে মাঝে কিছু বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ দেখা গেলেও, দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তায় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।

নিরাপত্তাহীনতার এই সংকট কেবল একটি সড়কের সমস্যা নয়, এটি স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অধিকারের ওপরও আঘাত। সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকা এবং নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলের অভাবই এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। তারা দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি সড়ক আলোকায়নের মাধ্যমে ভীতি দূর করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি জনপদ সচল রাখতে হলে সড়কপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সন্ধ্যা নামলেই যদি কোনো সড়ক যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তবে তা সামগ্রিক এলাকার উন্নয়ন ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। বিষয়টি নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে বড় কোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রশাসনের যথাযথ ও কার্যকর হস্তক্ষেপই পারে এই সড়ককে আবার প্রাণবন্ত ও চলাচল উপযোগী করে তুলতে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টিকে কতটা গুরুত্বের সাথে দেখছে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ভয় নয়, বরং ভরসার একটি সড়ক হিসেবে দ্রুতই এই পথটি আবার চালু হবে।

সর্বশেষ
বিয়ের ছয় দিনের মাথায় নববধূর মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়ি গ্রেপ্তার আসামে উচ্ছেদ অভিযান ও ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার অভিযোগ ঘিরে উত্তাপ নিরাপত্তাহীনতায় স্থবির জনজীবন: সন্ধ্যা নামলেই পথচারীশূন্য সড়ক বলিউডে অভিষেকের আগেই আলোচনায় ইশা মালভিয়া সভাপতির নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে তিন মাসের আগেই স্থগিত ছাত্রশক্তির চবি কমিটি চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধে জড়াচ্ছেন বাংলাদেশিরা গত চ্যাম্পিয়নস লিগে বর্ষসেরা, এবার তৃতীয় ম্যাচেই চোটে ছিটকে কাভারাস্কেইয়া নিহত যুবদল নেতার মাথার খুলির ভেতরে বুলেট পাওয়া গেছে: পুলিশ ফাইনালে যাওয়ার কঠিন সমীকরণ: আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ মাত্র ৫ টাকায় পূজার বাজার তবু অসহায় মানুষের চোখে আনন্দের অশ্রু
Advertisement