খুঁজুন
, ,

গাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ একই পরিবারের চারজন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
গাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ একই পরিবারের চারজন

গাজীপুরে নিজ বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ দুই শিশু সন্তান দগ্ধ হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

গাজীপুরে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের চারজন সদস্য গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের দুই শিশুপুত্র রয়েছে। আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত প্রেক্ষাপট জানতে স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ভোরে আচমকা বাড়ির ভেতরে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বাড়ির ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা আটকা পড়েন। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা এতোটাই বেশি ছিল যে, বাড়ির ভেতরে থাকা চারজন সদস্যই শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গুরুতর জখম হন। প্রাথমিকভাবে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, দগ্ধদের শরীরের বেশ খানিকটা অংশ পুড়ে গেছে এবং তারা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত কি না তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। অগ্নিকাণ্ডের উৎস বা কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গ্যাসের চুলা থেকে নাকি বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে এই বিপত্তি ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা তদন্ত চালাচ্ছেন। ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় করছেন।

ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। সাধারণত বসতবাড়িতে এমন অগ্নিদুর্ঘটনার পেছনে অসতর্কতা বড় কারণ হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে গ্যাস সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক সংযোগের ত্রুটি থেকে এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। পুলিশ এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখছে। তবে পরিবারের সদস্যরা এখন তাদের জীবনের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিয়ে লড়াই করছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অগ্নিকাণ্ড রোধে বসতবাড়িতে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন দমকল বাহিনীর কর্মকর্তারা।

বর্তমানে পুরো পরিবারটি বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় পরিবার-পরিজন ও স্থানীয়রা প্রার্থনা করছেন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অগ্নিকাণ্ড পরবর্তী সময়ে ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি, তবে বিষয়টি নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসার খরচ এবং সার্বিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে।

মহাখালী বাস টার্মিনালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার এক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মহাখালী বাস টার্মিনালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার এক

রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুই হাজার পিস ইয়াবা বড়ি।

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মহাখালী বাস টার্মিনালে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, আটককৃত ব্যক্তির কাছে পাওয়া গেছে দুই হাজার পিস ইয়াবা বড়ি। অপরাধ নির্মূলে ও মাদকের বিস্তার রোধে ডিএমপির এই ধরনের অভিযান নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ বলে জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ওই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার নাম মো. আবু সাঈদ মাহমুদ এবং তার বয়স ত্রিশ বছর বলে জানা গেছে। টার্মিনাল কেন্দ্রিক মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মূলত বাস টার্মিনালকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই সুযোগে সাধারণ মানুষের ভিড় ও কোলাহলকে পুঁজি করে মাদক কারবারিরা তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দা পুলিশ নজরদারি জোরদার করে আবু সাঈদকে হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবু সাঈদ দীর্ঘদিন ধরেই মহাখালী ও এর আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। সে বিভিন্ন কৌশলে মাদকদ্রব্য পরিবহন ও কেনাবেচা করত বলে পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। আটকের সময় তার দেহ তল্লাশি করে দুই হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যা স্থানীয় মাদক বাজারের মূল্য অনুযায়ী বেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ। এই পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাদক কারবারিদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট বিভাগ। গ্রেফতারকৃত আবু সাঈদ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে এবং মাদক ব্যবসার নেপথ্যে আর কারা জড়িত আছে, তা খুঁজে বের করতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হতে পারে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, আবু সাঈদ একা এই কারবার পরিচালনা করছিল নাকি কোনো বড় সিন্ডিকেটের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিল।

মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। টার্মিনাল ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায়ই মাদক কারবারিদের আস্তানার খবর পাওয়া যায়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদক চোরাচালান বন্ধ করতে তাদের নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত যুবকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

সাধারণত টার্মিনাল বা রেলস্টেশনগুলোকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের নেটওয়ার্ক তৈরি করে, কারণ এসব স্থানে প্রচুর জনসমাগম ঘটে। কিন্তু গোয়েন্দা পুলিশের সাম্প্রতিক এই সফল অভিযান মাদক কারবারিদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করার কাজ শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদকবিরোধী এই অভিযান ভবিষ্যতে আরও কঠোর করা হবে যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক, চিরকুট ঘিরে শোরগোল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক, চিরকুট ঘিরে শোরগোল

কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের বোমাতঙ্কের ঘটনা ঘটেছে। বিমানবন্দরের নারী শৌচাগারে একটি সন্দেহজনক চিরকুট পাওয়ার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ব্যস্ততম বিমানবন্দর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বুধবার দুপুরে বিমানবন্দর চত্বরের ভেতর থেকে এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে যা মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। মূলত বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে থাকা নারীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত একটি শৌচাগার থেকে একটি রহস্যময় চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। সেই চিরকুটে বিমানবন্দর উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার দুপুরের দিকে। বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে শৌচাগারে প্রবেশ করেন। সেই সময়েই একটি টয়লেটের ভেতরে একটি হাতে লেখা চিরকুট পড়ে থাকতে দেখেন তারা। চিরকুটটিতে অস্পষ্ট ভাষায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিমানবন্দর ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দেখার সঙ্গে সঙ্গেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ জওয়ানদের বিষয়টি দ্রুত জানানো হয়।

খবর পাওয়ার পরপরই নিরাপত্তা বলয় আরও কঠোর করা হয়। বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনসহ পুরো এলাকায় শুরু হয় নিবিড় তল্লাশি। যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক ঘটনা এড়াতে ডগ স্কোয়াড ও বোম ডিসপোজাল স্কোয়াডের সদস্যদের জরুরি তলব করা হয়। যাত্রী নিরাপত্তার খাতিরে সন্দেহভাজন জায়গাগুলোতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে এই ঘটনা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। অনেক যাত্রীই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ধরনের হুমকি বা চিরকুট নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার বিমানবন্দরের ভেতর থেকে এমন চিরকুট উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো ভুয়া বা আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে বিমানবন্দরের মতো অতি সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই ঢিলেঢালা ভাব দেখানো চলে না। তাই প্রতিটি হুমকিকেই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত এই চিরকুট কে বা কারা রেখেছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিমানবন্দরের ভেতর লাগানো সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তির গতিবিধি নজরে আসছে কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। যদি কেউ আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে এটি করে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম আপাতত চালু রয়েছে। ফ্লাইট ওঠা-নামার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো বড় বিঘ্ন ঘটেনি। তবে যাত্রীদের ব্যাগপত্র এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পরীক্ষার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। যাত্রীদের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, কোনো অসংলগ্ন কিছু চোখে পড়লে তা যেন সঙ্গে সঙ্গে সিআইএসএফ বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, কলকাতা বিমানবন্দর প্রায়ই বোমাতঙ্কের খবরের শিরোনামে উঠে আসে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা ভুয়া প্রমাণিত হলেও, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি এড়াতে পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন করে পর্যালোচনা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল মহলের পক্ষ থেকে।

মিরপুরে টেস্ট দেখতে লাগবে না টিকিট, দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত গ্যালারি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মিরপুরে টেস্ট দেখতে লাগবে না টিকিট, দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত গ্যালারি

আসন্ন বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য সুখবর নিয়ে এল বিসিবি। স্টেডিয়ামে কোনো টিকিট ছাড়াই সরাসরি গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা।

বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার আসন্ন টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে। এই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেওয়ার মতো একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে আসন্ন ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে। আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচটিতে মাঠে বসে খেলা দেখার জন্য দর্শকদের কোনো টিকিটের প্রয়োজন হবে না। ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা আসার পর স্বাভাবিকভাবেই ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। সচরাচর আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য গ্যালারিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে টিকিটের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, এবারের চিত্রটা একটু ভিন্ন।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম লড়াইটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স এবং টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলে আসছে। এই মুহূর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি দেখার জন্য স্টেডিয়ামের দুয়ার সবার জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ দর্শকদের জন্য একটি বড় সুযোগ। টিকিট কাটার বিড়ম্বনা বা খরচের চিন্তা ছাড়াই সরাসরি স্টেডিয়ামে গিয়ে নিজেদের প্রিয় দলের সমর্থনে গলা ফাটানোর সুযোগ থাকছে ক্রিকেট ভক্তদের জন্য।

সাধারণত বড় ধরনের টুর্নামেন্ট বা হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের ক্ষেত্রে স্টেডিয়ামে দর্শক টানতে বিভিন্ন সময় নানান উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সম্পূর্ণ টিকিটমুক্ত প্রবেশের এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটপ্রেমীদের স্টেডিয়ামমুখী করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মিরপুর স্টেডিয়ামে টেস্ট ক্রিকেট দেখার আলাদা একটা আমেজ রয়েছে, বিশেষ করে যখন গ্যালারি পূর্ণ থাকে। দর্শকরা মাঠে উপস্থিত থাকলে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায় বহুগুণ। মাঠের পরিবেশ এবং দর্শকদের সমর্থন সরাসরি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এই ধরনের উদ্যোগের ফলে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উৎসবের আমেজ ফিরে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা সশরীরে মাঠে গিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দেখার স্বপ্ন দেখেন, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ। সাধারণত টিকিটের প্রাপ্যতা এবং মূল্য নিয়ে অনেক সময় সাধারণ দর্শকদের মধ্যে হতাশা কাজ করে। কিন্তু এবার কোনো টিকিট ছাড়াই খেলা দেখা যাবে, এমন ঘোষণা শোনার পর সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

সিরিজের প্রথম ম্যাচটি থেকেই দর্শকদের সরব উপস্থিতি আশা করছেন আয়োজকরা। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দর্শকদের জন্য গ্যালারি উন্মুক্ত থাকলেও নিরাপত্তা বলয় এবং মাঠের নিয়মাবলী কঠোরভাবে পালন করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাই মাঠে প্রবেশের ক্ষেত্রে দর্শকদের সাধারণ নিয়মকানুন এবং শিষ্টাচার বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মিরপুরের মাঠে বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার এই লড়াইটি ক্রিকেটীয় দিক থেকেও বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দলের খেলোয়াড়রাই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই করবেন। এমন একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ গ্যালারিতে বসে দেখার অভিজ্ঞতা মিস করতে চাইবেন না কোনো ক্রিকেট ভক্তই।

টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাকে সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার অংশ হিসেবেই হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে করে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়বে এবং মাঠের দর্শকসংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। ২৮ অক্টোবর মিরপুরের মাঠে যে উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেটীয় লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে, তাতে দর্শকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি বাড়তি মাত্রা যোগ করবে। মাঠের প্রতিটি বলের লড়াই এবং খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য সরাসরি উপভোগ করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবেন না কেউই। সব মিলিয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টটি দর্শকদের জন্য এক বিশেষ উপহার হয়েই আসছে।

সর্বশেষ
মহাখালী বাস টার্মিনালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার এক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক, চিরকুট ঘিরে শোরগোল মিরপুরে টেস্ট দেখতে লাগবে না টিকিট, দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত গ্যালারি গাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ একই পরিবারের চারজন ক্যান্টন মেলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে শ্রেণিকক্ষের দৃশ্যপট অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে নতুন অধ্যায়ের সন্ধানে বাংলাদেশ ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণ, চিন্তিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পাকিস্তানি স্ট্রাইকারের জোড়া গোলে আবাহনীকে হারিয়ে প্রথম জয় ব্রাদার্সের জাতীয় নাগরিক পার্টির নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক, হাসনাত-সারজিসদের দায়িত্ব প্রদান নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার: লক্ষ্মীপুরে ১১ জেলের কারাদণ্ড
Advertisement