জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর গাড়িবহর লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারি গাড়িবহর লক্ষ্য করে একটি কাঁচের বোতল ছোড়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। জেরুজালেমে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান চলাকালে এই নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনাটি ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে জানা গেছে যে, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ব্যক্তি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশ শোরগোল পড়ে গেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং প্রাথমিক তথ্যানুসারে জানা যায়, ঘটনাটি যখন ঘটে তখন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্মদিন উদ্যাপনের প্রস্তুতির মতো বিশেষ কোনো উপলক্ষ ঘিরে ভিড় ছিল। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে যখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়া থাকার কথা, ঠিক সেই সময়েই এই বোতল ছুড়ে মারার ঘটনাটি ঘটে। গাড়িবহরটি যখন নির্দিষ্ট এলাকা দিয়ে অতিক্রম করছিল, তখনই এই হামলা চালানো হয়। তবে বোতলটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বা তাঁকে আঘাত করেছে কি না, তা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করলেও হামলায় কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বিবৃতি দেননি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে এমন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়, তবে অত্যন্ত সুরক্ষিত ও কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে এই ধরনের আচরণের ঘটনা নজিরবিহীন বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা। প্রধানমন্ত্রী যখন গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বা জনসমক্ষে থাকেন, তখন তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা সব সময় সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকেন। তা সত্ত্বেও কীভাবে একজন ব্যক্তি অগোচরে কাছে এসে বোতল ছোড়ার মতো সাহস পেলেন, তা নিয়ে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকা ঘিরে তল্লাশি অভিযান চালানো হয় এবং সন্দেহভাজনকে খুঁজে বের করার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলের রাজনীতিতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন ব্যক্তি হলেও তাঁর কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন নীতিমালা নিয়ে জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে ক্ষোভ ও মতপার্থক্য রয়েছে। প্রায়শই তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বিক্ষোভ পালিত হতে দেখা যায়। বিশেষ করে জেরুজালেমের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সরকারের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে সমালোচকরা বেশ সোচ্চার। তবে কোনো রাজনৈতিক বিক্ষোভের আবহে এই ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্তের পরেই পরিষ্কার হবে।
এদিকে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই এই ঘটনার কারণ ও অপরাধীকে চিহ্নিত করার কাজ জোরদার করেছে। জেরুজালেমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন দেশটির বেশ কয়েকজন রাজনীতিক। তারা মনে করছেন, নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে এমন কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো ঝুঁকির সংকেত দিচ্ছে। বিশেষ করে যখন কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বা প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় এই ধরনের হামলা হয়, তখন তা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
পুলিশ ঘটনার পর এলাকাটিকে ঘিরে ফেলে এবং আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি যেহেতু দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে পেরেছিলেন, তাই ধারণা করা হচ্ছে তিনি আগে থেকেই ওই এলাকা সম্পর্কে পরিচিত ছিলেন এবং সুপরিকল্পিতভাবে এই কাজটি করেছেন। জেরুজালেমের মতো একটি স্পর্শকাতর শহরে এই ঘটনাটি জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর লক্ষ্য করে কোনো বস্তুর আঘাত সরাসরি নিরাপত্তার ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুরো ঘটনাটি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]