পর্যটকশূন্য সাজেক উপত্যকা, থমথমে পরিস্থিতিতে স্থবির জনজীবন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ

রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে এখন এক অদ্ভুত নীরবতা বিরাজ করছে। পাহাড়ের বুকজুড়ে মেঘের আনাগোনা, সবুজ পাহাড়ের সারি আর দিগন্তবিস্তৃত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত এই স্থানটিতে প্রতি মুহূর্তে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। পরিস্থিতি এতটাই থমথমে যে, জনজীবন যেন স্থবির হয়ে পড়েছে। এলাকাটি এখন কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সাজেক পর্যটন কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। পর্যটকদের আনাগোনা না থাকায় হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। পর্যটন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাজেকগামী সব ধরনের যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি আটকে আছে, যার ফলে স্থানীয়দের দৈনন্দিন পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাতেও ছন্দপতন ঘটেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার খাতিরে এবং বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। রাস্তাঘাটে যানবাহন না চলায় সাজেকের সাথে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন কার্যত বিচ্ছিন্ন। পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কাজ করছে। পর্যটন মৌসুমে এই ধরনের পরিস্থিতি স্থানীয় অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগেও সাজেকে বিভিন্ন সময়ে অস্থিরতার কারণে পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে এবারের পরিস্থিতি স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। পর্যটকদের আপাতত সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। দ্রুত এই থমথমে পরিবেশ কেটে গিয়ে স্বাভাবিক জনজীবন ও পর্যটন ব্যবসা আবার চাঙ্গা হবে বলে স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন