ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ: মোংলা কাস্টমস কর্মকর্তার অপসারণে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী
মোংলা কাস্টমস হাউসের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবিতে উত্তাল মোংলা এলাকা। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।
মোংলা কাস্টমস হাউসের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাকে দ্রুত অপসারণের দাবিতে সরব হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে চলা হয়রানি ও দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মোংলা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তারা বলছেন, দায়িত্ব পালনের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন, যা স্থানীয় বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছে।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, কাস্টমসের মতো একটি সংবেদনশীল দপ্তরে বসে তিনি নিজের খেয়াল-খুশিমতো বিভিন্ন ফাইল আটকে রেখে হয়রানি করতেন। বৈধ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাস করতে গিয়ে বারবার তাঁর বাধার মুখে পড়েছেন। প্রতিটি কাজ সম্পন্নের বিপরীতে বড় অংকের ঘুষ দাবি করাই ছিল তাঁর স্বাভাবিক নিয়ম। যারা ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন, তাদের দিনের পর দিন দপ্তরে ঘুরিয়ে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। কেবল ব্যবসায়ীরাই নন, দাপ্তরিক কাজে আসা সাধারণ মানুষও তাঁর দুর্ব্যবহার ও অসহযোগিতার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্যের কারণে মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাজারের নিত্যপণ্যের মূল্যের ওপর। দুর্নীতি ও অনিয়মকে কেন্দ্র করে যে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, একজন সরকারি কর্মকর্তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু দপ্তরের ভাবমূর্তিই নষ্ট করছে না, বরং জাতীয় অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং অবিলম্বে তাকে এই দপ্তর থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য যে, সরকারি দপ্তরগুলোতে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধরনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। মোংলা কাস্টমস হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অস্বচ্ছতা দূর করতে এবং ব্যবসায়ীদের আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। স্থানীয়রা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, যদি অচিরেই এই অভিযুক্ত কর্মকর্তার অপসারণ নিশ্চিত না হয়, তবে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবেন। সরকারি দায়িত্বকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহারের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা ভাঙা না গেলে মোংলা বন্দরের কর্মচাঞ্চল্য ব্যাহত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন মহল কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করে, সেদিকেই এখন নজর সবার।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]