খুঁজুন
, ,

ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ: মোংলা কাস্টমস কর্মকর্তার অপসারণে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ: মোংলা কাস্টমস কর্মকর্তার অপসারণে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী

মোংলা কাস্টমস হাউসের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবিতে উত্তাল মোংলা এলাকা। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

মোংলা কাস্টমস হাউসের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাকে দ্রুত অপসারণের দাবিতে সরব হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে চলা হয়রানি ও দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মোংলা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তারা বলছেন, দায়িত্ব পালনের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন, যা স্থানীয় বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছে।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, কাস্টমসের মতো একটি সংবেদনশীল দপ্তরে বসে তিনি নিজের খেয়াল-খুশিমতো বিভিন্ন ফাইল আটকে রেখে হয়রানি করতেন। বৈধ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাস করতে গিয়ে বারবার তাঁর বাধার মুখে পড়েছেন। প্রতিটি কাজ সম্পন্নের বিপরীতে বড় অংকের ঘুষ দাবি করাই ছিল তাঁর স্বাভাবিক নিয়ম। যারা ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন, তাদের দিনের পর দিন দপ্তরে ঘুরিয়ে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। কেবল ব্যবসায়ীরাই নন, দাপ্তরিক কাজে আসা সাধারণ মানুষও তাঁর দুর্ব্যবহার ও অসহযোগিতার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্যের কারণে মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাজারের নিত্যপণ্যের মূল্যের ওপর। দুর্নীতি ও অনিয়মকে কেন্দ্র করে যে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, একজন সরকারি কর্মকর্তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু দপ্তরের ভাবমূর্তিই নষ্ট করছে না, বরং জাতীয় অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং অবিলম্বে তাকে এই দপ্তর থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য যে, সরকারি দপ্তরগুলোতে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধরনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। মোংলা কাস্টমস হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অস্বচ্ছতা দূর করতে এবং ব্যবসায়ীদের আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। স্থানীয়রা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, যদি অচিরেই এই অভিযুক্ত কর্মকর্তার অপসারণ নিশ্চিত না হয়, তবে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবেন। সরকারি দায়িত্বকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহারের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা ভাঙা না গেলে মোংলা বন্দরের কর্মচাঞ্চল্য ব্যাহত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন মহল কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করে, সেদিকেই এখন নজর সবার।

জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি ছাড়া চূড়ান্ত খতিয়ান সংশোধনের সুযোগ নেই: হাইকোর্ট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি ছাড়া চূড়ান্ত খতিয়ান সংশোধনের সুযোগ নেই: হাইকোর্ট

চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে প্রশাসনিক আদেশ বা তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তা সংশোধন করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মালিকানা বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র আইনি পথ হলো দেওয়ানি আদালতের রায় বা ডিক্রি।

দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রায় দিয়েছেন উচ্চ আদালত। সম্প্রতি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্পষ্ট করেছেন যে, চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত কোনো খতিয়ানে জমির মালিকানা নিয়ে যদি বিরোধ দেখা দেয়, তবে শুধুমাত্র প্রশাসনিক তদন্ত প্রতিবেদন বা সরকারি কোনো কর্মকর্তার আদেশের ভিত্তিতে সেই খতিয়ান সংশোধন বা পরিবর্তন করা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত যেকোনো বিরোধ চূড়ান্তভাবে সমাধানের ক্ষমতা কেবল দেওয়ানি আদালতের রয়েছে এবং বিচারিক আদালতের রায় বা ডিক্রি ছাড়া খতিয়ান সংশোধন করা যাবে না।

আদালতের এই পর্যবেক্ষণ ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত দেখা যায়, মাঠ পর্যায়ে অনেক সময় খতিয়ান সংশোধনের জন্য প্রশাসনিক তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আদেশকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে জটিলতা সৃষ্টি করে। কিন্তু হাইকোর্টের বর্তমান অবস্থানে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, খতিয়ান বা রেকর্ড সংশোধন কোনো সাধারণ প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং এটি মালিকানা স্বত্বের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই জমির প্রকৃত মালিকানা নিরূপণে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করার সুযোগ আইনে নেই।

বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চূড়ান্ত প্রকাশিত খতিয়ান (Record of Rights) কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিতে পরিবর্তনযোগ্য নয়। যদি কোনো খতিয়ানে ভুল থাকে বা জমির মালিকানা নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে অবশ্যই দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করে মালিকানার বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে। আদালত থেকে যখন মালিকানা সংক্রান্ত চূড়ান্ত ডিক্রি পাওয়া যাবে, কেবল তখনই সেই ডিক্রির আলোকে খতিয়ান সংশোধনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব। প্রশাসনিক কোনো অনুসন্ধানের ভিত্তিতে খতিয়ানে হস্তক্ষেপ করা হলে তা আইনত অবৈধ বলে গণ্য হবে।

আইনজীবীদের মতে, ভূমি ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের জন্য বড় শিক্ষা। প্রায়ই দেখা যায়, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রভাবশালী মহল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে খতিয়ান পরিবর্তনের চেষ্টা করে। হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে এখন থেকে আর কেউ কোনো তদ্বির বা প্রশাসনিক আদেশের জোরে অন্যের জমির খতিয়ান নিজের নামে বা নিজের অনুকূলে সংশোধন করতে পারবে না। এটি ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

এছাড়া, চূড়ান্ত খতিয়ান সংশোধনের ক্ষেত্রে গেজেট নোটিফিকেশন ও সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাও যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। কোনো কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা আইনের এই বিধান লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকবে। ভূমি সংক্রান্ত এই রায় সারাদেশে ভূমি অফিসগুলোতে খতিয়ান সংশোধনের নামে চলা অনিয়ম ও দুর্নীতির পথ অনেকটাই বন্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আদালত পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, কোনো নথির বা রেকর্ডের শুদ্ধতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, কিন্তু সেই শুদ্ধতা যেন কোনোভাবেই প্রকৃত মালিকানা অস্বীকারের কারণ না হয়।

সামগ্রিকভাবে, হাইকোর্টের এই রায় জমির মালিকানার নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতা নিরসনে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এখন থেকে ভূমি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ দেখা দিলে সাধারণ মানুষকে আর অহেতুক প্রশাসনিক জটিলতায় সময় নষ্ট না করে সরাসরি আইনের আশ্রয় নিতে হবে। আদালতের এই নির্দেশনা কার্যকর হলে ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যা যেমন কমবে, তেমনি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে খতিয়ান পরিবর্তনের অপচেষ্টাও বহুলাংশে হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুবর্ণচরে পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
সুবর্ণচরে পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই আপন বোনের মৃত্যু হয়েছে। গোসল করতে গিয়ে প্রাণ হারানো এই দুই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই আপন বোনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গোসল করতে নেমে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারায় শিশু দুটি। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত দুই শিশুর নাম স্বর্ণা রানী কাহার ও রূপা রানী কাহার। তাদের মধ্যে স্বর্ণার বয়স সাত বছর এবং রূপার বয়স পাঁচ বছর। তারা পরস্পর আপন বোন। ঘটনার দিন দুপুরে কোনো এক সময়ে তারা বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নেমেছিল। পরিবারের সদস্যদের অগোচরে পুকুরে নেমে একপর্যায়ে তারা পানির গভীর অংশে তলিয়ে যায়।

পরিবারের লোকজন একপর্যায়ে শিশুদের খুঁজে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুকুরের পানিতে তাদের নিথর দেহ ভেসে থাকতে দেখেন স্বজনরা। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। পানিতে ডুবে মৃত্যুর এই ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতার বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে। গ্রামীণ জনপদে প্রায়শই পুকুর, খাল বা ডোবায় এমন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। অসতর্কতার কারণে ঘটে যাওয়া এই মৃত্যুগুলো পরিবারগুলোর জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বর্ষা পরবর্তী সময়ে বা বিভিন্ন মৌসুমে জলাশয়গুলোতে পানির পরিমাণ ও গভীরতা বৃদ্ধি পায়, যা শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, শিশুদের পুকুর বা জলাশয়ের কাছে একা যেতে না দেওয়া এবং তাদের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় শিশুরা খেলার ছলে অনেক সময় জলাশয়ের কাছে চলে যায়, যা অনেক ক্ষেত্রে এমন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া পুকুরঘাটে নামার স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা বা বেড়া দেওয়ার পরামর্শও দিয়ে থাকেন অনেকে। তবে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন অভিভাবকদের সচেতনতা। শিশুদের চোখের আড়াল না করার মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। সুবর্ণচরের এই ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী। এমন ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারের জীবনে নেমে না আসে, তার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনিকভাবেও স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মৃত শিশুদের শেষকৃত্য ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পরিবারের লোকজন ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে একটি হাসিখুশি পরিবারে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার, যা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। আমরা সবার কাছে আবেদন জানাই, শিশুদের বিষয়ে যেন বাড়তি নজর দেওয়া হয়, যাতে অকাল মৃত্যুর মিছিলে আর কাউকে যোগ দিতে না হয়।

শীতের আগমনী বার্তা ও ইরানের গ্যাস সাশ্রয়ের নতুন পরিকল্পনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
শীতের আগমনী বার্তা ও ইরানের গ্যাস সাশ্রয়ের নতুন পরিকল্পনা

শীতকাল আসার আগেই দেশজুড়ে গ্যাসের ব্যবহার ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান। এ সাশ্রয়ী উদ্যোগে সাড়া দিয়ে যারা গ্যাসের ব্যবহার হ্রাস করবেন, তাদের জন্য আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও রেখেছে দেশটির সরকার।

ইরানে শীতের তীব্রতা বাড়ার আগে দেশজুড়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার জন্য নাগরিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারি পর্যায়ে এই সাশ্রয় নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো সাধারণ নাগরিকদের উৎসাহিত করার পরিকল্পনা। দেশটির গ্যাস কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আসন্ন শীত মৌসুমে গ্যাসের বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।

দেশটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আলোচনায় উঠে এসেছে যে, শীতকালে সাধারণত ঘর গরম রাখার জন্য এবং অন্যান্য গৃহস্থালি কাজে গ্যাসের ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে গিয়ে অনেক সময় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপের সৃষ্টি হয়, যা সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের গ্যাস ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এই সাশ্রয় নীতিকে জনপ্রিয় করতে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে একটি আকর্ষণীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যারা তাদের স্বাভাবিক ব্যবহারের চেয়ে গ্যাসের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে সক্ষম হবেন, তাদের জন্য বিশেষ আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্যাস সাশ্রয়ের বিপরীতে যে পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে, তা সরাসরি সেই নাগরিকের ব্যাংক হিসাবে জমা করে দেওয়া হবে। এই উদ্যোগটি মূলত জ্বালানি সাশ্রয়ের মানসিকতাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমানোর একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরানের স্পিকারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বিশেষ করে শীত মৌসুমে যখন জ্বালানির প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি হয়, তখন প্রতিটি পরিবারের ছোট ছোট সাশ্রয় জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারে। সরকারের এই নতুন পরিকল্পনায় গ্যাস বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া ও সাশ্রয়ের হিসাব কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালাও প্রণয়ন করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি খাতে ইরান যে ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, তাতে এই ধরনের সাশ্রয়ী উদ্যোগ একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান হতে পারে। এর ফলে কেবল রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ কমবে তা নয়, বরং জ্বালানি বণ্টনে সমতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। শীতকালীন প্রস্তুতি হিসেবে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকার নানা সচেতনতামূলক প্রচারণাও শুরু করেছে।

সাধারণ মানুষ যদি সরকারি এই আহবানে সাড়া দেয়, তবে শীতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইরান আরও আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে থাকতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশজুড়ে গ্যাস সাশ্রয়ের এই মানসিকতা যদি দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকে, তবে তা ইরানের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক সংকেত বহন করবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই আর্থিক প্রণোদনা প্রকল্পটির বিস্তারিত রূপরেখা নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ
ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ: মোংলা কাস্টমস কর্মকর্তার অপসারণে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি ছাড়া চূড়ান্ত খতিয়ান সংশোধনের সুযোগ নেই: হাইকোর্ট সুবর্ণচরে পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু শীতের আগমনী বার্তা ও ইরানের গ্যাস সাশ্রয়ের নতুন পরিকল্পনা আপিল বিভাগের চেম্বার জজ-২ আদালতের চলতি সপ্তাহের শুনানি কার্যক্রম স্থগিত দুই মাস বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশে আবারও বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করলো নেপাল বাড়িতে গুলিবর্ষণ, রোহিত শেঠি ‘বিগ বস’ মঞ্চে গুলিবর্ষণ‑সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা বললেন বঙ্গোপসাগরে সুইডিশ বিনিয়োগ ও পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে সহযোগিতার আহ্বান স্পিকারের দুবাইয়ে বিশ্বরেকর্ড: ১৬.৫ কেজি ওজনের স্বর্ণের ঝুমকায় বাজিমাত সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: আজ পর্যন্ত আমাকে কিছু জানানো হয়নি, খোঁজ নিতে আসেনি কেউ
Advertisement