খুঁজুন
, ,

শাড়ি আত্মসাতের মামলায় তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্তের আদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
শাড়ি আত্মসাতের মামলায় তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্তের আদেশ

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ – ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রবিবার তানজিন তিশা নামের জনপ্রিয় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীর দাখিল করা শাড়ি আত্মসাত, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির মামলায় অতিরিক্ত সিআইডি (সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) তদন্তের আদেশ দেন।

মামলাটি মূলত তানজিন তিশা ও ডিজাইনারের মধ্যে একটি ফ্যাশন চুক্তি থেকে উদ্ভূত হয়। চুক্তি অনুসারে তিশা একটি শাড়ি আত্মসাতের কাজের জন্য ডিজাইনারের নকশা ও উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি পণ্য বিক্রি করবে বলে সম্মত হন। তবে ডিজাইনারের দাবি, তিশা চুক্তি ভঙ্গ করে শাড়ি আত্মসাতের কাজ সম্পন্ন না করে, তবুও অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করে এবং পরে হুমকি ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ ফেরত না দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রনি মামলার মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন) কর্তৃক প্রস্তুত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ইতিমধ্যে ডিজাইনারের অভিযোগের ভিত্তি স্পষ্ট হয়েছে এবং তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রমাণের ঘাটতি না থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। রনি আরও উল্লেখ করেন, এই মামলায় শাড়ি আত্মসাতের পাশাপাশি বিশ্বাসভঙ্গ এবং হুমকির অভিযোগও যুক্ত, যা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে, সিআইডি-কে তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করেন। তিনি নির্দেশ দেন যে, সিআইডি দ্রুত তদন্ত শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ, যেমন চুক্তিপত্র, পেমেন্ট রসিদ, ইমেইল ও মেসেজের রেকর্ড সংগ্রহ করবে। এছাড়া, শাড়ি আত্মসাতের কাজের প্রকৃতি, ব্যবহৃত উপকরণ ও ডিজাইনের বিশদ বিশ্লেষণও তদন্তের অংশ হবে।

সিআইডি তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণের পর, সংশ্লিষ্ট ইউনিটের প্রধান কর্মকর্তা একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশ করে জানান, তারা মামলার সকল দিক বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। তদন্তে ডিজাইনারের সাক্ষ্য, তানজিন তিশার সাক্ষ্য, এবং তৃতীয় পক্ষের সাক্ষ্যদাতাদের বিবৃতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া, শাড়ি আত্মসাতের কাজের জন্য ব্যবহৃত উপকরণ ও পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে।

এই মামলাটি শিল্প ও বিনোদন জগতে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তানজিন তিশা, যিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে বহু জনপ্রিয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তার ক্যারিয়ার ও সুনামকে এই অভিযোগের প্রভাব কতটা হবে তা এখনো অনিশ্চিত। তিশার প্রতিনিধিরা এখনও কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তারা আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ আইনি প্রতিরক্ষা গড়ে তুলবে বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী মিডিয়া সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি এই মামলায় ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন এবং সিআইডি তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটিত হবে বলে আশাবাদী। তিনি উল্লেখ করেন, শাড়ি আত্মসাতের কাজটি তার সৃজনশীলতা ও দক্ষতার ফল, এবং তিশা যদি চুক্তি ভঙ্গ করে থাকে তবে তা শিল্পের সুনাম ক্ষুন্ন করবে।

আইনি বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, শাড়ি আত্মসাতের মতো শিল্পকর্মের ক্ষেত্রে চুক্তি লঙ্ঘন, প্রতারণা ও হুমকি সংক্রান্ত মামলা প্রায়শই জটিল হয়, কারণ প্রমাণ সংগ্রহে নকশা, উপকরণ ও কাজের গুণগত মানের মূল্যায়ন প্রয়োজন। সিআইডি যদি যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রমাণ সংগ্রহ করে, তবে আদালত দ্রুত ন্যায়বিচার প্রদান করতে পারবে।

মামলাটির পরবর্তী ধাপ হবে সিআইডি কর্তৃক তদন্তের ফলাফল উপস্থাপন এবং আদালতে তা উপস্থাপন করা। যদি তদন্তে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তিনি শাড়ি আত্মসাতের পাশাপাশি প্রতারণা ও হুমকির জন্য শাস্তি পেতে পারেন। অন্যদিকে, যদি প্রমাণ অপর্যাপ্ত থাকে, তবে বাদীপক্ষকে অন্য আইনি উপায়ে সমাধান খুঁজতে হবে।

এই ঘটনার মাধ্যমে শিল্প ও বিনোদন জগতে চুক্তি ও নৈতিকতার গুরুত্ব পুনরায় উন্মোচিত হয়েছে। বিশেষ করে ফ্যাশন ও ডিজাইন শিল্পে সৃজনশীল কাজের সুরক্ষা, পেমেন্টের স্বচ্ছতা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে চুক্তি সম্পাদন করা অপরিহার্য। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরোধ এড়াতে উভয় পক্ষই চুক্তিপত্রে স্পষ্ট শর্তাবলী ও বিরোধ নিষ্পত্তির ধারা যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বাড়িতে গুলিবর্ষণ, রোহিত শেঠি ‘বিগ বস’ মঞ্চে গুলিবর্ষণ‑সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা বললেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বাড়িতে গুলিবর্ষণ, রোহিত শেঠি ‘বিগ বস’ মঞ্চে গুলিবর্ষণ‑সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা বললেন

বোলিভুডের জনপ্রিয় পরিচালক রোহিত শেঠি দুবাইতে অনুষ্ঠিত বিগ বসের স্টেজে গুলিবর্ষণ ঘটনার পর তার মতামত শেয়ার করে হিংসা‑সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মুম্বাইতে সম্প্রতি একটি গৃহে গুলিবর্ষণ ঘটার পর, বোলিভুডের বিশিষ্ট পরিচালক রোহিত শেঠি দুবাইতে অনুষ্ঠিত বিগ বসের রিয়েলিটি শোতে উপস্থিত হয়ে ঘটনাটির ওপর তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। শেঠি জানান, গুলিবর্ষণ কেবল একটি অপরাধিক কাজ নয়, এটি শিল্প জগতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে যখন তার মতো উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তিরা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন, গুলিবর্ষণের ফলে সৃষ্ট আতঙ্ক এবং ভয় শিল্পী ও কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শেঠি আরও বলেন, গুলিবর্ষণ ঘটার পেছনে গ্যাংস্টার সংস্কৃতি ও অপরাধী গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে, যা বোলিভুডের মতো বৃহৎ শিল্প ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলছেন, এই ধরনের হিংসা রোধে সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ দরকার, যাতে শিল্পী ও কর্মীরা নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন। শেঠি উল্লেখ করেন, গুলিবর্ষণ ঘটনার পরপরই তিনি তার টিমের সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর নীতি অনুসরণ করবেন।

বিগ বসের মঞ্চে রোহিত শেঠি যখন এই বিষয়টি তুলে ধরলেন, তখন শোতে উপস্থিত অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরাও তার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন। তারা সবাই একসাথে বললেন, হিংসা ও গুলিবর্ষণকে কোনোভাবেই সহ্য করা যাবে না এবং শিল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। শেঠি বলেন, গুলিবর্ষণ ঘটনার পরপরই তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করে সকলকে সতর্ক করেছেন এবং নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন।

গ্যাংস্টার সংস্কৃতি এবং গুলিবর্ষণ সংক্রান্ত উদ্বেগের পাশাপাশি, রোহিত শেঠি উল্লেখ করেন যে বোলিভুডের চলচ্চিত্রে প্রায়শই গ্যাংস্টার চরিত্রের চিত্রায়ণ করা হয়, যা কখনও কখনও বাস্তব জীবনের অপরাধকে রোমান্টিক করে তুলতে পারে। তিনি এই ধরণের চিত্রায়নকে পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান এবং বলছেন, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের দায়িত্ব আছে সমাজের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে। শেঠি বলেন, ভবিষ্যতে তিনি এমন গল্প তৈরি করতে চান যা হিংসা নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধকে তুলে ধরবে।

শেষে রোহিত শেঠি উল্লেখ করেন, গুলিবর্ষণ ঘটনার পর তিনি এবং তার টিম নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ও সিকিউরিটি গার্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে নিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটার জন্য শিল্প জগতের সকল অংশীদার একসাথে কাজ করবেন এবং হিংসা‑মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলবেন। শেঠির এই বক্তব্যের পর, বিগ বসের দর্শক এবং অংশগ্রহণকারীরা তালি দিয়ে তার উদ্যোগকে স্বীকৃতি জানায় এবং ভবিষ্যতে নিরাপদ শিল্প পরিবেশের জন্য সমর্থন জানান।

বঙ্গোপসাগরে সুইডিশ বিনিয়োগ ও পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে সহযোগিতার আহ্বান স্পিকারের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বঙ্গোপসাগরে সুইডিশ বিনিয়োগ ও পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে সহযোগিতার আহ্বান স্পিকারের

বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত বিশাল খনিজ সম্পদ উত্তোলনের লক্ষ্যে সুইডিশ উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সুইডেনের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহায়তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে নিজের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস এবং উইনরকের প্রতিনিধির কাছে স্পিকার এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।

বৈঠকের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দুই দেশের পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণ। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত তৎপর। বঙ্গোপসাগরের তলদেশে থাকা তেল ও গ্যাসের মজুত আহরণ করা গেলে তা দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বড় ধরনের সাফল্য বয়ে আনবে। সুইডেন বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে, তাই তাদের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে তা দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে। তিনি সুইডিশ রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন যে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে একটি ইতিবাচক ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংসদীয় পর্যায়ে সব ধরণের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

বিনিয়োগের পাশাপাশি বৈঠকে দেশের অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। স্পিকার বাংলাদেশের বিগত ১৭ বছরের শাসনকালকে একটি সংকটময় অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এই দীর্ঘ সময়ে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধ পথে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই অর্থ উদ্ধার করে জাতীয় অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্যে তিনি মার্কিন সরকারের সরাসরি সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানের ওপর জোর দেন। স্পিকারের মতে, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা কেবল ন্যায়বিচারের দাবি নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় সচল ও শক্তিশালী করার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

বৈঠকে মার্কিন সরকারের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, অর্থ পাচারের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর অবস্থান থাকলে তা অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সাহায্য করবে। মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস পেলে তা পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পাচার হওয়া অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

সুইডিশ রাষ্ট্রদূত এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা এবং সুইডেনের সহায়তার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। তিনি জানান, সুইডিশ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের ব্যবসার পরিবেশ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে। একইসঙ্গে, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন থাকা বাঞ্ছনীয়।

উভয় পক্ষই একমত পোষণ করেছে যে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। সংসদীয় কূটনীতির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা ব্যক্ত করেন। জাতীয় স্বার্থে এই ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা ও অর্থনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান সরকার বিদেশিদের আস্থা অর্জনের যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, আজকের এই বৈঠক তারই একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। স্পিকারের এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক প্রয়াস—একদিকে বিনিয়োগ আকর্ষণ, অন্যদিকে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার—দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দুবাইয়ে বিশ্বরেকর্ড: ১৬.৫ কেজি ওজনের স্বর্ণের ঝুমকায় বাজিমাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
দুবাইয়ে বিশ্বরেকর্ড: ১৬.৫ কেজি ওজনের স্বর্ণের ঝুমকায় বাজিমাত

বিশ্বের অন্যতম আধুনিক শহর দুবাই সবসময়ই চমকপ্রদ সব উদ্ভাবন আর রেকর্ড গড়ার জন্য পরিচিত। এবার অলঙ্কার শিল্পে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল শহরটি। সম্প্রতি দুবাইয়ের গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে প্রদর্শিত হয়েছে একজোড়া বিশাল স্বর্ণের ঝুমকা, যা ওজনে ১৬.৫ কেজি। চোখ ধাঁধানো এই অলঙ্কারটি কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং এটি দুটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নিজের ঝুলিতে ভরে নিয়েছে। বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে লেগেছে ৫৫ জন দক্ষ কারিগরের অক্লান্ত পরিশ্রম। নিখুঁত কারুকার্যে ভরা এই ঝুমকা তৈরি করতে তাদের মোট সময় ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৮৪০ ঘণ্টা।

প্রথাগত অলঙ্কারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে জয়ালুক্কাস জুয়েলারি এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। দীর্ঘ কয়েক মাসের নিবিড় পরিকল্পনায় তৈরি ২২ ক্যারেটের এই স্বর্ণের শিল্পকর্মটির নাম দেওয়া হয়েছে ময়ূর সহস্র। অলঙ্কারটির নকশায় ময়ূরের মোটিফ ব্যবহার করা হয়েছে, যা এর নান্দনিকতাকে আরও ফুটিয়ে তুলেছে। এটি তৈরির প্রতিটি পর্যায়ে সূক্ষ্ম কারুকার্যের ছাপ স্পষ্ট। এত বিশাল ও ভারী একটি অলঙ্কার নিখুঁতভাবে তৈরি করা যেকোনো জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ, কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ জয় করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

গত ২৪ অক্টোবর দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত জুয়েল অব জয় শোরুমে এই অসাধারণ ঝুমকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানের উপস্থিতিতে এর কারিগরি দিক এবং নকশার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দেওয়া হয়। স্থানীয় গালফ নিউজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এই উন্মোচন অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ছিল, যেখানে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ এই অলঙ্কারটির ওজন, বিশুদ্ধতা এবং তৈরির কারিগরি দক্ষতার মূল্যায়ন করে দুটি আলাদা বিভাগে স্বীকৃতি দিয়েছে। সোনা বা গয়না শিল্পের ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। সাধারণত এত ওজনের অলঙ্কার ব্যবহারযোগ্য হওয়ার চেয়ে প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যেই বেশি তৈরি করা হয়। তবে এই ঝুমকাটি তৈরির মূল উদ্দেশ্য ছিল অলঙ্কার শিল্পের ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে তুলে ধরা এবং আধুনিক কারিগরি কৌশলের সাথে ঐতিহ্যবাহী নকশার মেলবন্ধন ঘটানো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্জনের ফলে দুবাইয়ের স্বর্ণ ও অলঙ্কার বাজারের মর্যাদা আন্তর্জাতিক মহলে আরও সুসংহত হলো। পর্যটকদের জন্য এখন এই ঝুমকাটি দুবাই ভ্রমণের নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। ৫৫ জন কারিগরের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং জয়ালুক্কাস জুয়েলারির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ফসল হিসেবে এই রেকর্ডটি আগামী অনেক বছর অলঙ্কারপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই বিশাল ঝুমকাটির প্রতিটি অংশ, ঝালর এবং ময়ূরের পালকের সূক্ষ্ম নকশা অত্যন্ত যত্নের সাথে খোদাই করা হয়েছে। এত ভারী হওয়ার পরও এর গঠনশৈলী এমনভাবে রাখা হয়েছে যেন এটি প্রদর্শনীর সময় ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। রেকর্ড গড়ার এই আনন্দ কেবল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অলঙ্কার শিল্পের জন্যও এক বড় অর্জন। বিশ্বের সেরা গয়না কারিগরদের মানচিত্র এখন দুবাইয়ের এই সাফল্যের দিকেই নির্দেশ করছে।

সর্বশেষ
বাড়িতে গুলিবর্ষণ, রোহিত শেঠি ‘বিগ বস’ মঞ্চে গুলিবর্ষণ‑সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা বললেন বঙ্গোপসাগরে সুইডিশ বিনিয়োগ ও পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে সহযোগিতার আহ্বান স্পিকারের দুবাইয়ে বিশ্বরেকর্ড: ১৬.৫ কেজি ওজনের স্বর্ণের ঝুমকায় বাজিমাত সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: আজ পর্যন্ত আমাকে কিছু জানানো হয়নি, খোঁজ নিতে আসেনি কেউ শাড়ি আত্মসাতের মামলায় তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্তের আদেশ রাজউকের ১৪১৩ প্লট নিয়ে তোলপাড়, অনিয়মের অভিযোগে হাজারো নথি স্থগিত বরিশালের মাঠে গড়াবে ডি-থ্রি ট্রফির উদ্বোধনী ও ফাইনাল ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালাল ইরান চীন-উত্তর কোরিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বারোপ কিমের কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, আহত স্ত্রীসহ চারজন
Advertisement