নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই আপন বোনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গোসল করতে নেমে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারায় শিশু দুটি। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত দুই শিশুর নাম স্বর্ণা রানী কাহার ও রূপা রানী কাহার। তাদের মধ্যে স্বর্ণার বয়স সাত বছর এবং রূপার বয়স পাঁচ বছর। তারা পরস্পর আপন বোন। ঘটনার দিন দুপুরে কোনো এক সময়ে তারা বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নেমেছিল। পরিবারের সদস্যদের অগোচরে পুকুরে নেমে একপর্যায়ে তারা পানির গভীর অংশে তলিয়ে যায়।
পরিবারের লোকজন একপর্যায়ে শিশুদের খুঁজে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুকুরের পানিতে তাদের নিথর দেহ ভেসে থাকতে দেখেন স্বজনরা। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। পানিতে ডুবে মৃত্যুর এই ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতার বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে। গ্রামীণ জনপদে প্রায়শই পুকুর, খাল বা ডোবায় এমন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। অসতর্কতার কারণে ঘটে যাওয়া এই মৃত্যুগুলো পরিবারগুলোর জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বর্ষা পরবর্তী সময়ে বা বিভিন্ন মৌসুমে জলাশয়গুলোতে পানির পরিমাণ ও গভীরতা বৃদ্ধি পায়, যা শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, শিশুদের পুকুর বা জলাশয়ের কাছে একা যেতে না দেওয়া এবং তাদের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় শিশুরা খেলার ছলে অনেক সময় জলাশয়ের কাছে চলে যায়, যা অনেক ক্ষেত্রে এমন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া পুকুরঘাটে নামার স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা বা বেড়া দেওয়ার পরামর্শও দিয়ে থাকেন অনেকে। তবে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন অভিভাবকদের সচেতনতা। শিশুদের চোখের আড়াল না করার মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। সুবর্ণচরের এই ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী। এমন ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারের জীবনে নেমে না আসে, তার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনিকভাবেও স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মৃত শিশুদের শেষকৃত্য ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পরিবারের লোকজন ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে একটি হাসিখুশি পরিবারে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার, যা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। আমরা সবার কাছে আবেদন জানাই, শিশুদের বিষয়ে যেন বাড়তি নজর দেওয়া হয়, যাতে অকাল মৃত্যুর মিছিলে আর কাউকে যোগ দিতে না হয়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ