খুঁজুন
, ,

রিকশাচালক হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের পর কারাগারে দীপু মনি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
রিকশাচালক হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের পর কারাগারে দীপু মনি

রাজধানীর এক রিকশাচালক হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার পর আদালতে হাজির করা হলে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা দীপু মনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

একটি রিকশাচালক হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের পর সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা দীপু মনিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার রাজধানীর ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে তাকে হাজির করা হলে বিচারক মেহেদী হাসান শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো।

সূত্র থেকে জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট রিকশাচালক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দীপু মনিকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঘটনার নেপথ্যে থাকা কারণ এবং এতে আর কারা জড়িত থাকতে পারেন, তা জানার জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। সেই জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব শেষে এদিন তাকে পুনরায় আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের রিমান্ড এবং জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া চলছে। রিকশাচালক হত্যা মামলাটিও তার ব্যতিক্রম নয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্য তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। বিচারক এই বিষয়টি আমলে নিয়ে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

আদালত প্রাঙ্গণে এদিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। দীপু মনিকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় প্রিজন ভ্যানে করে আদালত থেকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম কবে নাগাদ শুরু হবে এবং চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি কীভাবে এগিয়ে যাবে, তা নিয়ে এখন আইন অঙ্গনে আলোচনা চলছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রতিটি তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং কারো বিরুদ্ধেই কোনো ধরনের অবহেলা করা হবে না।

প্রসঙ্গত, রিকশাচালক হত্যা মামলাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই মামলায় নাম আসা ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন ভুক্তভোগী পরিবার। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনবোধে আবারও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হতে পারে। তবে বর্তমানে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যা আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানো এবং তাদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনাটি আইন সবার জন্য সমান—এই বার্তাটিই দিচ্ছে। আদালত এখন মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবেন। তখন মামলার তদন্তের অগ্রগতি এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, এই মামলার বিচারকার্য আইন অনুযায়ী স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অনলাইন বিনিয়োগের নামে ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চীনা নাগরিকসহ চারজন রিমান্ডে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
অনলাইন বিনিয়োগের নামে ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চীনা নাগরিকসহ চারজন রিমান্ডে

অনলাইন বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চীনা নাগরিকসহ চারজনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

অনলাইন বিনিয়োগের নামে প্রতারণা এবং বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় চারজনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন বিদেশি নাগরিক, যারা চীনা বংশোদ্ভূত। প্রতারণার এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ধৃত চারজনের মধ্যে রয়েছেন রুহুল আমিন বিশ্বাস ও শেখ সানজিদা মনসুর সিথি। এছাড়া বাকি দুইজন চীনা নাগরিক, যাদের নাম চ্যান লং জি এবং ওয়াং শিওয়েই। দীর্ঘ সময় ধরে একটি চক্র অনলাইন বিনিয়োগের ফাঁদ তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল বলে প্রাথমিক অভিযোগে বলা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এই চক্রটি প্রায় ১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুকৌশলে অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগের লোভ দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করত। পরবর্তীতে বিনিয়োগকারীদের জমাকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিত চক্রটি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরও বড় কোনো সিন্ডিকেটের তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

এদিকে, মৌলভীবাজারের উত্তর কলিমাবাদ এলাকায় পৃথক একটি ঘটনায় পুলিশি তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। শুক্রবার বিকালে শহরের ‘আরজু ভিলা’ নামের একটি চারতলা ভবন থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে আসবাবপত্রসহ ভাড়া নেওয়া ওই ফ্ল্যাটে ঘটনার সময় ওই নারীর সঙ্গে আরও এক যুবক অবস্থান করছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত ময়নাতদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। ওই ঘটনার পরপরই ফ্ল্যাটে অবস্থানরত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। যদিও এই দুটি ভিন্ন ঘটনার মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অর্থ আত্মসাতের মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি একটি সুসংগঠিত চক্রের কাজ। তারা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি যোগসাজশে প্রতারণার জাল বিছিয়েছিল। রিমান্ডে থাকা অভিযুক্তদের জবানবন্দি এবং তাদের ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত ডিভাইস থেকে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি, যারা বিনিয়োগের নামে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রলোভন দেখায়, তাদের ব্যাপারেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, মৌলভীবাজারে নারীর মৃত্যুর ঘটনায় যে যুবককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, তার পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। একইভাবে অনলাইন বিনিয়োগে অর্থ আত্মসাতের মামলার প্রধান অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং ভুক্তভোগীরা যাতে সুবিচার পায় তা নিশ্চিত করা হবে।

চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের, দাউদাউ করে জ্বলে উঠল বাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের, দাউদাউ করে জ্বলে উঠল বাস

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন এক বাবা ও তার মেয়ে। এ ঘটনায় বাসটিতে আগুন লেগে যায়।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাবা ও তার আদরের মেয়ে। শুক্রবার রাতে সাতকানিয়ার পাঠানিপুল এলাকায় সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর বাসটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামমুখী একটি বাস এবং বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশার মধ্যে আকস্মিক এই সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের প্রচণ্ডতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই বাবা ও মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। অটোরিকশায় থাকা যাত্রীদের অবস্থা ভয়াবহ ছিল বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।

সংঘর্ষের পরপরই যাত্রীবাহী বাসের সামনের অংশে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাসের যাত্রীরা দ্রুত নেমে যেতে পারলেও গাড়িটি আগুনের গ্রাসে চলে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন, তবে ততক্ষণে বাসটির উল্লেখযোগ্য অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। তবে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায়।

নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা ওই এলাকার সিএনজি যাত্রী ছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। উদ্ধার কাজ পরিচালনায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাথে স্থানীয়রাও সহায়তা করেন। তবে দুর্ঘটনার পর বাসের চালক বা সহকারীরা পালিয়ে গেছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। হাইওয়ে থানা পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশাটি জব্দ করেছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং বাসে আগুন লাগার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অটোরিকশাটি বাসের নিচে চাপা পড়েছিল কি না বা যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। মহাসড়কের ওই এলাকায় প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, যার জন্য চালকদের বেপরোয়া গতিকেও দায়ী করছেন স্থানীয়রা। নিহতের মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। পরিবারের স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে আবারও গুরুত্বারোপ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

৩১ দিনে অপ্রতীম হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল, অভিযুক্ত চারজনের দুইজন কিশোর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
৩১ দিনে অপ্রতীম হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল, অভিযুক্ত চারজনের দুইজন কিশোর

রাজধানীসহ সারাদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়ায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ৩১ দিনের মাথায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে দুইজন কিশোর অপরাধী রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতীম হত্যার ঘটনার পর থেকেই পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি মোড় বিশ্লেষণ করে এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর তার পরিবার এবং এলাকাবাসী দ্রুত বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ার পথ প্রশস্ত হলো।

চার্জশিটে যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক বা কিশোর। আইন অনুযায়ী কিশোর অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে, যা এই মামলার ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হবে। অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্ক অপর দুই অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট আদালত। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল বা এর পেছনে বড় কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, তা চার্জশিটে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

ঘটনার ধারাবাহিকতা পর্যালোচনায় দেখা যায়, অপ্রতীমকে হত্যার পর থেকেই অপরাধীদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন তথ্য-প্রযুক্তি এবং স্থানীয় সোর্সের সহায়তা নেয় পুলিশ। ঘটনায় চারজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডের তথ্যের ভিত্তিতেই এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই চার্জশিট চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র দাখিলের পর এখন মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আদালত মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করবে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হবে। ভুক্তভোগী অপ্রতীমের পরিবার এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষ আশা করছেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে। বিশেষ করে কিশোর অপরাধের এমন ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে চার্জশিটটি আদালতের নথিতে জমা হয়েছে এবং তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আগামীতে মামলার শুনানিতে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা এবং তাদের অপরাধের ধরন নিয়ে বিস্তারিত শুনানি হবে। পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপকে সাধারণ মানুষ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে, কারণ হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় দ্রুত চার্জশিট দাখিল হওয়ায় ন্যায়বিচারের আশা জোরালো হয়েছে। তবে কিশোর অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত কী ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সর্বশেষ
অনলাইন বিনিয়োগের নামে ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চীনা নাগরিকসহ চারজন রিমান্ডে রিকশাচালক হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের পর কারাগারে দীপু মনি চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের, দাউদাউ করে জ্বলে উঠল বাস ৩১ দিনে অপ্রতীম হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল, অভিযুক্ত চারজনের দুইজন কিশোর সীমান্তে নতুন করে উত্তাপ, উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ার চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চোরাই ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ যুবক আটক দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের কনসার্টকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকি, হুমকির মুখে অমিতাভ বচ্চন পর্যটকশূন্য সাজেক উপত্যকা, থমথমে পরিস্থিতিতে স্থবির জনজীবন ম্যানেজার পদে কর্মী খুঁজছে ব্র্যাক ব্যাংক, নেই বয়সসীমা পিএসসি সদস্যদের চায়ের দাওয়াতে ডেকে পদত্যাগের চাপের অভিযোগ জামায়াতের
Advertisement