খুঁজুন
, ,

শখ থেকে বিপদ: বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে হাসপাতালে কাঠমিস্ত্রি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ
শখ থেকে বিপদ: বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে হাসপাতালে কাঠমিস্ত্রি

শখ করে বিষাক্ত গোখরা সাপ পুষতে গিয়ে বিপত্তির মুখে পড়েছেন ইকবাল হোসেন নামের এক কাঠমিস্ত্রি। সাপের বাক্সে খাবার দিতে গিয়ে সাপের ছোবলের শিকার হন তিনি।

শখের বসে বন্যপ্রাণী লালন-পালনের ঘটনা নতুন নয়, তবে সঠিক নিরাপত্তা ও সতর্কতার অভাবে প্রায়শই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এমনই এক ঘটনার সাক্ষী হলো এলাকাবাসী, যেখানে বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ইকবাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। পেশায় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল শখ করে গোখরা সাপ পুষতেন। সম্প্রতি সেই সাপটিকে খাবার দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত ঘটে যায় দুর্ঘটনাটি। ইকবালকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে চিকিৎসকরা তাঁর সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ইকবাল হোসেন নিজের বাড়িতে দীর্ঘ সময় ধরে এই সাপটিকে লালন-পালন করছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে মাছ ধরার সময় একটি জালে আটকা পড়া সাপটিকে তিনি উদ্ধার করেন। এরপর থেকেই সাপটির প্রতি এক ধরনের মায়া তৈরি হয় তাঁর। সাপটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসে একটি বিশেষ বাক্সে বন্দী করে রাখতে শুরু করেন তিনি। কাঠমিস্ত্রি পেশার সুবাদে নিজেই কাঠ দিয়ে সাপটির জন্য একটি ঘর বা বাক্স তৈরি করেছিলেন। বাড়িতে থাকা এই সাপটিকে তিনি নিয়ম করে খাবার দিতেন এবং দেখাশোনা করতেন। সাধারণত বন্যপ্রাণী বিশেষ করে সাপের মতো সরীসৃপ প্রাণীর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভীতি থাকলেও ইকবাল সাপের প্রতি নিজের অনুরাগের কারণেই এই ঝুঁকিটি নিয়েছিলেন।

দুর্ঘটনার দিন স্বাভাবিক দিনের মতোই ইকবাল সাপটিকে খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তিনি বাক্সটি খোলার সাথে সাথেই সাপটি ছোবল দেয়। বিষধর গোখরা সাপের কামড় অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং প্রাণঘাতী হতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বুঝতে পারেন যে মারাত্মক বিপদ ঘটেছে। তাঁর চিৎকারে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন। সাপের কামড়ের পর যে ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তড়িঘড়ি করে তাঁকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন তারা।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যে, বনজ বা বিষাক্ত প্রাণী সম্পর্কে গভীর জ্ঞান বা যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া এমন ঝুঁকি নেওয়া কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোখরা অত্যন্ত বিষাক্ত একটি সাপ। এর কামড় দ্রুত শনাক্ত করা এবং দ্রুত অ্যান্টি-ভেনম বা বিষের প্রতিষেধক প্রয়োগ করা জরুরি। ইকবালের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন।

স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, সাপের কামড়ের শিকার রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাপের বিষ শরীরে কতটা ছড়িয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয় যে বন্যপ্রাণী শিকার বা পোষার ক্ষেত্রে কতটা সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বন্যপ্রাণী আইনেও যথাযথ অনুমতি ছাড়া বন্যপ্রাণী নিজের কাছে রাখা বা পোষার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা শুধু ইকবালের পরিবারের জন্যই নয়, বরং আশেপাশের মানুষের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগজনক।

বর্তমানে হাসপাতাল বেডে চিকিৎসাধীন ইকবাল হোসেনের অবস্থার ওপর নজর রাখছে তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। কাঠমিস্ত্রি পেশার মানুষটি নিজের তৈরি সেই বাক্সের ভেতরেই যে এমন বিপদ লুকিয়ে রেখেছিলেন, তা সম্ভবত আগে ধারণা করতে পারেননি। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, বন্যপ্রাণীর আচরণের কোনো নিশ্চয়তা নেই, তাই তাদের সাথে মেলামেশা বা বন্দীদশায় রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইকবালের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন এলাকাবাসী এবং সেইসাথে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ও নিজ নিরাপত্তায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসুর উদ্যোগে ‘প্রবন্ধসমগ্র’ প্রকাশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসুর উদ্যোগে ‘প্রবন্ধসমগ্র’ প্রকাশ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) আয়োজনে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও গবেষণামূলক কাজের সংকলন নিয়ে ‘প্রবন্ধসমগ্র’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা চাকসু এক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিভাগীয় সেমিনারে উপস্থাপিত সেরা গবেষণাপত্র ও প্রবন্ধগুলোকে একত্রিত করে ‘প্রবন্ধসমগ্র’ নামক একটি নতুন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি এক অনাড়ম্বর আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই বিশেষ সংকলনটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এই উদ্যোগটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণাধর্মী কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এবং তাদের সৃজনশীল চিন্তাধারাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে সেমিনারগুলোতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করে আসছে। কিন্তু এই প্রবন্ধগুলো সেমিনারের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর খুব একটা সুযোগ ছিল না। চাকসুর এই সংকলনটি প্রকাশের ফলে শিক্ষার্থীরা এখন একে অপরের গবেষণামূলক কাজগুলো পড়ার সুযোগ পাবে, যা ক্যাম্পাসে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পরিবেশ তৈরি করতে সহায়ক হবে। সংকলনটিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রবন্ধগুলো স্থান পেয়েছে, যা বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য নিশ্চিত করেছে।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন যে, বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের কেবল শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণায় মনোনিবেশ করা জরুরি। চাকসুর এই সংকলনটি কেবল একটি বই নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার একটি প্ল্যাটফর্ম। তারা আশা করছেন, আগামীতে এমন আরও সংকলন প্রকাশিত হবে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। অনুষ্ঠানের আলোচকরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত প্রবন্ধ লেখা এবং সেমিনারগুলোতে অংশগ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা মনে করছেন, এই ধরণের প্রকাশনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মৌলিক চিন্তার প্রসার ঘটাবে। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্রগুলো কেবল লাইব্রেরির আলমারিতে বা সংশ্লিষ্ট বিভাগের নথিতে সীমাবদ্ধ থাকে। চাকসুর এই ‘প্রবন্ধসমগ্র’ সেই সীমাবদ্ধতা ভেঙে গবেষণাধর্মী কাজগুলোকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি দারুণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নবীন গবেষক বা শিক্ষার্থীরা তাদের চিন্তাভাবনা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার এক অনন্য সুযোগ পাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, কোনো একটি প্ল্যাটফর্মে নিজের লেখা দেখতে পাওয়া একজন শিক্ষার্থীর জন্য বড় অনুপ্রেরণার বিষয়। এটি তাদের পরবর্তী গবেষণার জন্য নতুন উদ্যম জোগাবে। এছাড়া, এই ধরনের কাজের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে, তা শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন উপস্থিত অনেকেই।

চাকসুর এই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধি, শিক্ষক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা প্রকাশিত ‘প্রবন্ধসমগ্র’ গ্রন্থটির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। গ্রন্থটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পাওয়া যাবে বলেও জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গবেষণামূলক ভাবনাকে মূলধারায় নিয়ে আসার এই প্রচেষ্টা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আফগানিস্তান ম্যাচের পর আলিস আল ইসলামের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
আফগানিস্তান ম্যাচের পর আলিস আল ইসলামের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন

শারজার ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচের পর বাংলাদেশি অফ‑স্পিনার আলিস আল ইসলামকে সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগে বোলিং রি‑টেস্টের মুখে দাঁড়াতে হবে।

শারজা, ২১ অক্টোবর ২০২৬ – ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অফ‑স্পিনার আলিস আল ইসলামকে তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠার পর বোলিং রি‑টেস্টের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ম্যাচের পরই বাংলাদেশি মিডিয়া ও বিশ্লেষকরা তার ডেলিভারির বৈধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং অ্যাকশন সংক্রান্ত নিয়মের কঠোর প্রয়োগের প্রেক্ষাপটে এসেছে।

বাংলাদেশের ত্রিদেশীয় সিরিজটি টানা দুই হারের পরাজয় সামলাতে না পারার পর নতুন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। পূর্বে দু’টি ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে হারের পর, শারজায় অনুষ্ঠিত শেষ গেমে আলিসের বোলিং স্টাইলের ওপর সন্দেহের সুর তীব্র হয়ে ওঠে। ম্যাচের পরপরই ক্রিকেট বিশ্লেষক ও কোচিং স্টাফের মধ্যে আলিসের ডেলিভারির টেকনিক্যাল দিক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দ্রুতই বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এর বোলিং অ্যাকশন রিভিউ কমিটিকে জানায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আলিসকে এখন আইসিসি নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী বোলিং রি‑টেস্টে অংশ নিতে হবে, যাতে তার ডেলিভারির বৈধতা নিশ্চিত করা যায়। রি‑টেস্টের ফলাফল যদি অনুকূল না হয়, তবে তাকে আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধতা আরোপিত হতে পারে।

আলিসের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের পেছনে মূলত তার ডেলিভারির সময় কাঁধ ও কনুইয়ের কোণ, পাশাপাশি ডেলিভারির সময় হাতের উচ্চতা ও গতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক ম্যাচে আলিসের ডেলিভারিতে অস্বাভাবিক ভাঁজ দেখা গিয়েছে, যা আইসিসি নিয়ম অনুযায়ী বোলিং অ্যাকশনকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে আলিসের নিজস্ব মন্তব্যে তিনি বলেন, তার বোলিং স্টাইল কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করে না এবং তিনি সবসময় স্বচ্ছভাবে খেলতে প্রস্তুত।

বিসিবি স্পোর্টস ডিরেক্টর এই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, “আলিসের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে যে কোনো সন্দেহ দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে সমাধান করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হল খেলোয়াড়ের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ক্রিকেটের ন্যায়বিচার রক্ষা করা।” তিনি আরও যোগ করেন, “বোলিং রি‑টেস্টের ফলাফল যদি অনুকূল হয়, তবে আলিস আবার দ্রুতই দলের মূল খেলোয়াড় হিসেবে ফিরে আসবে।”

আফগানিস্তান দলের ক্যাপ্টেন ও কোচও আলিসের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে মন্তব্য করেন। তারা উল্লেখ করেন, “প্রতিপক্ষের বোলারদের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে তা দ্রুতই সমাধান করা উচিত, যাতে ম্যাচের ফলাফল ন্যায়সঙ্গত থাকে।” আফগানিস্তানের কোচ জোর দিয়ে বলেন, “আমরা সকল খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দিই, তাই এই ধরনের বিষয় দ্রুতই পরিষ্কার করা দরকার।”

এই ঘটনার পর বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিছু ভক্ত আলিসের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে, তাকে “বহুমুখী স্পিনার” বলে প্রশংসা করেন এবং রি‑টেস্টের ফলাফলকে “অবিচলিত” বলে দাবি করেন। অন্যদিকে, কিছু ভক্ত বোলিং অ্যাকশন নিয়মের কঠোর প্রয়োগের পক্ষে সাড়া দেন, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার পুনরাবৃত্তি না হয়। সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তীব্রভাবে চলছে।

বিসিবি এখনই আলিসের রি‑টেস্টের সময়সূচি নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে। রি‑টেস্টের ফলাফল প্রকাশের পরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যা আলিসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে প্রভাবিত করতে পারে। তদুপরি, এই ঘটনা ত্রিদেশীয় সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলোর প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে, কারণ দলকে এখন বোলারদের বৈধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরাজয়ের পর পুনরুদ্ধার করতে হবে।

সারসংক্ষেপে, শারজার শেষ ওয়ানডে ম্যাচের পর আলিস আল ইসলামের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে উত্থাপিত সন্দেহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ন্যায়বিচার ও নিয়মের কঠোর প্রয়োগের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রি‑টেস্টের ফলাফল কী হবে তা এখনও অজানা, তবে তা আলিসের ভবিষ্যৎ এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক কৌশলগত পরিকল্পনার ওপর প্রভাব ফেলবে।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: হুড়োহুড়িতে আহত ৪০

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: হুড়োহুড়িতে আহত ৪০

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার সময় অন্তত ৪০ জন রোগী ও তাদের স্বজন আহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে হাসপাতালটির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকায় চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল সোয়া ছয়টার দিকে হাসপাতালের নিচতলার প্রশাসনিক শাখা সংলগ্ন বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূচনা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সুইচ বোর্ডে আগুন লাগার পরপরই ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে।

ভোরের এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে রোগী এবং তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়া দেখে এবং আগুন লাগার খবর শুনে জীবন বাঁচাতে তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে গিয়ে অনেকে পদপিষ্ট হন এবং আঘাত পান। আহতদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেশি। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। দমকল বাহিনীর সদস্যরা নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও আগুনের ধোঁয়ায় এবং হুড়োহুড়িতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর কয়েকজনকে জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতার কারণে কন্ট্রোল রুমের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। এর ফলে হাসপাতালটির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও দীর্ঘ প্রায় ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় হাসপাতালের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা আইসিইউ এবং অপারেশন থিয়েটারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি হয়। জেনারেটর ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করলেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় হাসপাতালের চিকিৎসকদের বেশ বেগ পেতে হয়।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কন্ট্রোল রুমে আগুনের ঘটনাটি বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণেই ঘটেছে। ঘটনার পর পরই বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীরা মেরামতের কাজে হাত দিয়েছেন। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো নাশকতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

হাসপাতালটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোনো হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, সঠিক সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এবং বিদ্যুৎ লাইনের মান ঠিক না থাকায় আজকের এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা দাবি জানিয়েছেন, দ্রুত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সংস্কার করে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নির্বিঘ্ন করার। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং হাসপাতালের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরায় সচল করার জোর প্রচেষ্টা চলছে। আতঙ্কিত রোগীদের অনেকেই ভয় কাটিয়ে ধীরে ধীরে ওয়ার্ডে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে এখনো পুরো হাসপাতাল চত্বরে অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটেনি এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বজনরা।

সর্বশেষ
শখ থেকে বিপদ: বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে হাসপাতালে কাঠমিস্ত্রি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসুর উদ্যোগে ‘প্রবন্ধসমগ্র’ প্রকাশ আফগানিস্তান ম্যাচের পর আলিস আল ইসলামের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: হুড়োহুড়িতে আহত ৪০ বিআইপি বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার দাবি গুলিবিদ্ধ হওয়ার দীর্ঘ যন্ত্রণা নিয়ে তানভীরের মৃত্যু জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ লংমার্চের বিজয়ের ৯০তম বার্ষিকীতে শি জিনপিংয়ের ভাষণ থাইল্যান্ডে সয়েল ফিভারের প্রকোপ, প্রাণ হারালেন ৪৫ জন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য: যুবকের পর এবার বাবাও ডিবি হেফাজতে
Advertisement