দুবাইয়ের চুরির টাকার ভাগ নেওয়ার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার
দুবাইয়ে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মালিকানাধীন দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরি ও আত্মসাতের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর শনিবার রামু উপজেলার জেঠিরাস্তা এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তাকে আটক করা হয়। প্রবাসে সংঘটিত চুরির ঘটনায় দেশের কোনো স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নাম জড়িয়ে গ্রেফতারের এই বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুবাইয়ে কর্মরত এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর দোকান থেকে সর্বমোট ৯৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা চুরি হয়। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে এবং তাদের গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার জবানবন্দি গ্রহণকালে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য বেরিয়ে আসে যে, চোরাইকৃত অর্থের একটি বড় অংশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান শাহ আলমের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, চুরির সাথে সরাসরি জড়িত এক আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুবাইয়ের ওই দোকান থেকে চুরি হওয়া টাকা দেশে আনার পর তার মধ্যে ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা চেয়ারম্যান শাহ আলম গ্রহণ করেছেন। এই অর্থ মূলত তাকে ‘ম্যানেজ’ করার উদ্দেশ্যে অথবা অবৈধ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে দেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, রামু উপজেলার জেঠিরাস্তা এলাকায় চেয়ারম্যানের বাড়িতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালায়। দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি গোপনীয়তার সাথে তদন্ত করার পর শনিবার ভোরে বা সকালে তাকে আটক করতে সক্ষম হন তারা। গ্রেফতারের পর তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। মামলার মূল তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুরির সাথে চেয়ারম্যানের সরাসরি যোগসূত্র কতটুকু এবং তিনি এই অপরাধে কীভাবে সহায়তা করেছেন, তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ে এই ঘটনাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করার পরিবর্তে চুরি ও অর্থ আত্মসাতের মতো অপরাধে নাম জড়ানোয় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রামু উপজেলার সাধারণ মানুষ এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। চেয়ারম্যানের গ্রেফতারের পর ইউনিয়ন পরিষদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা ও তার পদমর্যাদার বিষয়টি নিয়েও এখন আইনি পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। গ্রেফতারকৃত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান। এছাড়া চুরির সাথে জড়িত অন্য কোনো চক্রের সদস্যদের সাথেও চেয়ারম্যানের কোনো গোপন যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা নিয়েও কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ যাচাই-বাছাইয়ের কাজও এগিয়ে চলছে। এই ঘটনাটি বিদেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং দেশে তাদের পাঠানো অর্থের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]