খুঁজুন
, ,

ক্রিকেটপাড়া তোলপাড় করা সেই নাজমুলের এবার নতুন পরিচয়ে রাজনীতিতে অভিষেক

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
ক্রিকেটপাড়া তোলপাড় করা সেই নাজমুলের এবার নতুন পরিচয়ে রাজনীতিতে অভিষেক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক এবং অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় যে ব্যক্তিটি তার একটি মন্তব্যের জেরে পুরো দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন, সেই এম. নাজমুল ইসলাম এখন আবার খবরের শিরোনামে। তবে এবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তার কোনো ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাজনীতির মাঠে নতুন দলের সাথে তার সম্পৃক্ততা। জানা গেছে, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন, যা তার ক্যারিয়ারের মোড় পরিবর্তনের একটি ইঙ্গিত বহন করছে।

ক্রিকেটপাড়ায় এম. নাজমুল ইসলামকে নিয়ে বিতর্কের শুরুটা হয়েছিল মূলত একটি স্পর্শকাতর ইস্যুকে কেন্দ্র করে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল যদি খেলার সুযোগ না পায়, তবে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতির দায়ভার কে নেবে এবং সেই ক্ষতি কীভাবে পূরণ করা হবে—এমন একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। অনেক ক্রিকেটার এবং ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা তার এই মন্তব্যকে পেশাদারিত্বের অভাব হিসেবে দেখেছিলেন। বিশেষ করে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে এমন ধরনের বক্তব্য ক্রিকেট বোর্ডের একজন উচ্চপদস্থ কর্তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত ছিল না বলেই মনে করেন অনেকে।

তার এই বক্তব্যের পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে। ক্রিকেটারদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ক্রিকেটরস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ বা কোয়াব তাৎক্ষণিকভাবে তার এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। শুধু প্রতিবাদ করেই ক্ষান্ত থাকেনি সংগঠনটি, বরং নাজমুল ইসলামের এই মন্তব্যের জেরে তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আল্টিমেটামও দিয়েছিল। সেই সময় ক্রিকেটাররা ঐক্যবদ্ধভাবে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, যা বিসিবির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি করেছিল। গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সেই মন্তব্য নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সমালোচনা চলেছিল।

ক্রিকেট প্রশাসনের সেই বিতর্কিত অধ্যায় পেছনে ফেলে নাজমুল ইসলাম এখন রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেছেন। এনসিপিতে যোগদানের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে নতুনভাবে রাজনীতির মাঠে পরিচয় করিয়ে দিলেন। অনেকে মনে করছেন, দীর্ঘদিন খেলাধুলার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতাকে তিনি হয়তো নতুন রাজনৈতিক অঙ্গনে কাজে লাগাতে চাইছেন। তবে খেলার মাঠের বিতর্কিত সেই স্মৃতি তার নতুন রাজনৈতিক যাত্রায় কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

ক্রীড়া প্রশাসন এবং রাজনীতির মেলবন্ধন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুব একটা বিরল নয়। অতীতেও সংগঠক এবং বোর্ড পরিচালকদের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে দেখা গেছে। তবে নাজমুল ইসলামের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্নতর কারণ তিনি বিদায় নিয়েছেন কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মাধ্যমে। সাধারণত বিসিবি পরিচালক হিসেবে যারা দায়িত্ব পালন করেন, তারা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু কোনো বিতর্কিত মন্তব্যের পর সেই দায়িত্ব ছেড়ে রাজনীতির মাঠে পা রাখা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের ভাবমূর্তিকে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করার একটি উপায় হতে পারে। তিনি যে এনসিপিকে বেছে নিয়েছেন, সেই দলের রাজনৈতিক আদর্শ এবং তার ব্যক্তিগত লক্ষ্যের সাথে কতটুকু মিল আছে, তা সময়ের সাথে পরিষ্কার হবে। সব মিলিয়ে, নাজমুল ইসলামের এই নতুন যাত্রা কেবল তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের পরিবর্তন নয়, বরং এটি তার আগের কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে এক নতুন আলোচনার খোরাক। এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক মঞ্চে তিনি নিজের অবস্থান কতটা শক্ত করতে পারেন এবং ক্রিকেটপাড়ার সেই উত্তাল অধ্যায় থেকে তিনি কতটা শিক্ষা নিতে পেরেছেন।

পেশাজীবনের বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত জীবনের সংকট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
   
পেশাজীবনের বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত জীবনের সংকট

বর্তমান সময়ে পেশাগত জীবনে সাফল্য অর্জন করা যেন এক অলিখিত প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। অনেকের কাছে ক্যারিয়ারের উচ্চ শিখরে পৌঁছানোই একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু এই সাফল্যের সংজ্ঞাকে কেবল বেতন বা পদের স্কেলে পরিমাপ করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সময় এসেছে। কর্মক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা প্রমাণের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা এবং ব্যক্তিগত আত্মোন্নয়ন প্রতিটি মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হওয়া উচিত। অথচ আমরা অনেকেই অন্যের ক্যারিয়ারের সঙ্গে নিজেদের পেশার তুলনা করে অকারণে হতাশায় নিমজ্জিত হই। মনে রাখা প্রয়োজন, প্রতিটি পেশার নিজস্ব চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা থাকে। তাই একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে কাজের মাধ্যমে সন্তুষ্টি খুঁজে নেওয়াই হওয়া উচিত প্রকৃত ক্যারিয়ারের মূলমন্ত্র। যখন ক্যারিয়ারের এই চাপ ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নষ্ট করে, তখন সেই সাফল্য অর্থহীন হয়ে পড়ে। একজন মানুষ তখনই সফল, যখন তিনি নিজের কাজকে উপভোগ করার পাশাপাশি জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও সমানভাবে শান্তি বজায় রাখতে পারেন।

ক্যারিয়ার নিয়ে এই যখন সার্বিক চিত্র, তখন বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন থেকে উঠে আসছে ভিন্ন এক বাস্তবতা। যেখানে সাফল্যের তুঙ্গে থাকা ব্যক্তিরাও আইনি জটিলতার কারণে ক্যারিয়ারের অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন। সাম্প্রতিক এক তথ্যে জানা গেছে, ইংলিশ ফুটবল জগতের একজন তারকা খেলোয়াড় মারাত্মক আইনি বিপাকে পড়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে বড় ধরনের শাস্তি এমনকি কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে। এটি কেবল একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের বিপর্যয় নয়, বরং তার দীর্ঘদিনের অর্জিত ক্যারিয়ারের ওপরও এক গভীর কালো ছায়া ফেলেছে। পেশাদার জীবনে যখন খ্যাতির আড়ালে এমন বড় ধরনের আইনি বাধা তৈরি হয়, তখন বিষয়টি শুধুমাত্র ওই ব্যক্তির ক্যারিয়ার নয়, বরং সামগ্রিক ক্যারিয়ার পরিকল্পনার ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দেয়।

মূলত আমাদের জীবনের ক্যারিয়ারের যাত্রা সবসময় মসৃণ থাকে না। পেশাগত উন্নতির পথে যেমন প্রতিযোগিতা ও মানসিক চাপের মতো অদৃশ্য বাধা থাকে, তেমনি আইন অমান্য বা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আইনি বাধার মতো বাস্তব সংকটও আসতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই জরুরি হলো বিচক্ষণতা এবং পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। যারা ক্যারিয়ার গড়ার পথে কেবল সাফল্যের পেছনে ছোটেন, তারা ভুলে যান যে জীবন কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্যের নাম নয়। বরং এটি অনেকগুলো সিদ্ধান্তের সমষ্টি। কর্মক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা এবং নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন থাকা দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ারের জন্য অপরিহার্য। পাশাপাশি পেশাগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেন ব্যক্তিগত নৈতিকতা বা আইনের ওপর প্রভাব না ফেলে, সেদিকে নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি। দিনশেষে পেশাজীবনের সাফল্য তখনই টেকসই হয়, যখন তার পেছনে থাকে একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনদর্শন। একজন পেশাজীবী হিসেবে আমরা যখন আমাদের কাজের ক্ষেত্র এবং ব্যক্তিগত জীবনের সীমানা নির্ধারণ করতে পারি, তখনই ক্যারিয়ারকে আর বাধা হিসেবে মনে হয় না, বরং তা হয়ে ওঠে জীবন বিকাশের এক কার্যকর হাতিয়ার।

এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ধোঁয়াশা, নাজমুল আবেদীন ও নাজমুল ইসলামের নাম নিয়ে গুঞ্জন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ধোঁয়াশা, নাজমুল আবেদীন ও নাজমুল ইসলামের নাম নিয়ে গুঞ্জন

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের দুই পরিচিত ব্যক্তিত্ব নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলামকে নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, তারা জাতীয় ক্রিকেট পার্টি বা এনসিপি নামক কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত হচ্ছেন কি না, তা নিয়ে জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই তথ্যের সত্যতা এবং তাদের রাজনৈতিক অভিযাত্রা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

এম নাজমুল ইসলামের নাম অতীতেও বিভিন্ন সময় ক্রীড়া প্রশাসনের বিতর্কে উঠে এসেছে। বিশেষ করে যখন তিনি বিসিবি পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, তখন একটি নির্দিষ্ট বক্তব্য তাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়লে বা কোনো কারণে খেলতে না পারলে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে তার দেওয়া বক্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই সময়ে তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রিকেটাররা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা কোয়াব তার পদত্যাগের দাবিতে আল্টিমেটাম পর্যন্ত দিয়েছিল। সেই বিতর্কিত অধ্যায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তার নতুন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার খবরে ক্রীড়ামহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, ক্রিকেট কোচ এবং বিশ্লেষক হিসেবে নাজমুল আবেদীন ফাহিমের সুনাম রয়েছে। দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে তার দীর্ঘদিনের অবদান অনস্বীকার্য। একজন সফল কোচ হিসেবে তিনি বহু তারকার পথপ্রদর্শক ছিলেন। তার মতো একজন ব্যক্তি রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন কি না, তা নিয়েও অনুরাগীদের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক খবরগুলোতে যে তথ্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা মূলত একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ। এনসিপি নামের কোনো দল কিংবা সংগঠনে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো বিবৃতি বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি যা নিশ্চিত করতে পারে যে তারা সরাসরি রাজনীতিতে নাম লেখাতে চলেছেন।

রাজনীতিতে ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণ নতুন কিছু নয়। অতীতেও অনেক খেলোয়াড় ও সংগঠক সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নিয়েছেন। তবে নাজমুল আবেদীন এবং নাজমুল ইসলামকে ঘিরে যে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে, তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন। ক্রিকেটপাড়া বা সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে এই খবরটি বেশ কৌতুহলোদ্দীপক হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আপাতত এই পুরো বিষয়টি গুঞ্জনের পর্যায়েই রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিশেষে, দেশের ক্রীড়াঙ্গন যখন উন্নয়নের নতুন নতুন ধাপ পেরিয়ে যাচ্ছে, তখন ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা মাঠের ক্রিকেটে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ক্রীড়া ও রাজনীতির মেলবন্ধন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সবসময়ই গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনগুলোতে এই গুঞ্জন কতটা বাস্তবে রূপ নেয় বা আদৌ তারা এনসিপির মতো কোনো প্ল্যাটফর্মে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন কি না। আপাতত সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই সংবাদটি কেবলমাত্র জল্পনা-কল্পনার সীমাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

সুনামগঞ্জে জসীমউদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ নিয়ে পাঠচক্র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
   
সুনামগঞ্জে জসীমউদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ নিয়ে পাঠচক্র

সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জ বন্ধুসভার উদ্যোগে পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত কাব্যোপন্যাস ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ নিয়ে একটি প্রাণবন্ত পাঠচক্রের আয়োজন করা হয়েছে। আধুনিক ও মানবিক সাহিত্যের চর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই মূলত এই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়। সাহিত্যপ্রেমী তরুণদের অংশগ্রহণে মুখর ছিল এই পাঠচক্র। সভায় আলোচকরা কাব্যোপন্যাসটির বিভিন্ন দিক নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং বইটির শিল্পগুণ ও সামাজিক বার্তাগুলো নিয়ে তাদের ভাবনা তুলে ধরেন।

কাব্যোপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র সোজন ও দুলীকে নিয়ে আলোচনার সময় উঠে আসে এক হৃদয়স্পর্শী আখ্যান। ভিন্ন ধর্মীয় পরিচয়ের দু’জন মানুষ কীভাবে একে অপরের প্রেমে পড়েন এবং সমাজ ও ধর্মের কঠোর বেড়াজালে আটকা পড়ে তাদের জীবন কোন পথে বাঁক নেয়, তা নিয়েই মূলত আবর্তিত হয়েছে পুরো পাঠচক্রের মূল আলোচনা। আলোচকরা বলেন, জসীমউদ্দীন তার লেখনীর মাধ্যমে কেবল দু’টি মানুষের ভালোবাসার গল্পই বলেননি, বরং সমকালীন সমাজের চিত্রকেও ফুটিয়ে তুলেছেন। তাদের মতে, ব্যক্তিগত আবেগের চেয়েও সমাজ ও ধর্মের প্রভাব যখন বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন মানবিক সম্পর্কগুলো কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা এই বইটিতে অসাধারণ নিপুণতায় চিত্রিত হয়েছে।

পাঠচক্রের আলোচনায় সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, আজকের দিনেও এই কাব্যোপন্যাসের প্রাসঙ্গিকতা ফুরিয়ে যায়নি। বরং সমাজের বিদ্যমান বিভেদ ও সংকীর্ণতার মাঝে দাঁড়িয়ে ভালোবাসা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে বার্তা জসীমউদ্দীন দিয়ে গেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত জরুরি। পাঠকরা মনে করেন, সোজন ও দুলীর ভালোবাসা কেবল একটি রোমান্টিক গল্প নয়, এটি যেন তৎকালীন সমাজের প্রতি এক বিশাল অভিযোগ এবং মানবিক প্রেমের জয়গান।

বন্ধুসভার সদস্যরা এই ধরণের পাঠচক্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, সৃজনশীল ও মননশীল চর্চায় নিজেকে সমৃদ্ধ করতে সাহিত্য পাঠের কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত পাঠচক্র আয়োজনের মাধ্যমে তারা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় নিজেদের জ্ঞান বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছেন। জসীমউদ্দীনের মতো কালজয়ী লেখকের সৃষ্টিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই তারা নিয়মিত এমন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

উপস্থিত সদস্যরা আরও বলেন, বর্তমান সময়ের যান্ত্রিকতায় যখন মানুষ বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন পাঠচক্রের মাধ্যমে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করলে সাহিত্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে। সোজন বাদিয়ার ঘাট-এর মতো ক্লাসিক সাহিত্যগুলো পড়ার মাধ্যমে তরুণরা সমাজের গভীরতর সংকটগুলো বুঝতে শিখবে এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়তে উদ্বুদ্ধ হবে। সুনামগঞ্জ বন্ধুসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনগুলোতেও তারা দেশীয় সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সব কাজ নিয়ে এ ধরণের আয়োজনের ধারা অব্যাহত রাখবে। সবশেষে অংশগ্রহণকারীদের অংশগ্রহণে বইটি নিয়ে একটি উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

সর্বশেষ
পেশাজীবনের বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত জীবনের সংকট এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ধোঁয়াশা, নাজমুল আবেদীন ও নাজমুল ইসলামের নাম নিয়ে গুঞ্জন ক্রিকেটপাড়া তোলপাড় করা সেই নাজমুলের এবার নতুন পরিচয়ে রাজনীতিতে অভিষেক সুনামগঞ্জে জসীমউদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ নিয়ে পাঠচক্র নতুন করে হামলা চালালে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যায় পাঁচজনের সরাসরি অংশগ্রহণ, আদালতে জবানবন্দি কোচিং সেন্টারে ছাত্রীকে হয়রানি: ভিডিও ভাইরালের পর স্থায়ী বহিষ্কার শিক্ষক তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিএম নিয়ে বড় অভিযোগ রাহুল গান্ধীর, দিল্লির সমাবেশে তুললেন ভোটের বৈধতার প্রশ্ন
Advertisement