খুঁজুন
, ,

সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যায় পাঁচজনের সরাসরি অংশগ্রহণ, আদালতে জবানবন্দি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যায় পাঁচজনের সরাসরি অংশগ্রহণ, আদালতে জবানবন্দি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন গ্রেপ্তার দুই আসামি। ঘটনার বেশ কিছু দিন অতিবাহিত হওয়ার পর অবশেষে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন এবং সাব্বির আহম্মেদ। এই জবানবন্দির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী এবং এর সঙ্গে জড়িতদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বিচারকের কাছে দেওয়া বক্তব্যে তারা অকপটে স্বীকার করেছেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিলেন তাজুল ইসলাম।

রোববার বিকেলে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভুঁইয়ার আদালতে এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বিকেল পৌনে চারটা থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। জবানবন্দি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তকারী সংস্থা ও স্থানীয় পুলিশের ভাষ্যমতে, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা জানিয়েছেন, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফের সঙ্গে তাজুল ইসলামের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। মূলত সীমান্তকেন্দ্রিক অবৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে এই রেষারেষির সূত্রপাত হয়। আলিফ দীর্ঘদিন ধরে এসব বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং নিয়মিত পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতেন। এসব কারণে তাজুল ও তার সহযোগীরা তাকে নিজেদের ব্যবসার পথে বড় বাধা হিসেবে মনে করতেন।

আসামিদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের দিন ঘটনাস্থলে সরাসরি পাঁচজন অংশ নিয়েছিলেন। তাজুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রস্তুত ছিলেন। ঘটনার সময় তাজুল নিজেই পিস্তল হাতে সামনে এগিয়ে আসেন এবং সাংবাদিক আলিফকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। আলিফের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং আত্মগোপনে চলে যান। পুরো অপারেশনটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং সুচিন্তিত। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে যে, তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে কেবল এই হত্যাকাণ্ডই নয়, বরং হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র আইন, মাদক, বিস্ফোরক, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং ডাকাতিসহ অন্তত ১৩টি মামলা বিভিন্ন থানায় ঝুলে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার গভীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মূল পরিকল্পনাকারী তাজুল ইসলাম ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ এখনই তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সবাইকে আইনের আওতায় আনা এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। এজন্যই বিষয়টি নিয়ে তারা সতর্কতার সাথে এগোচ্ছেন। সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অপরাধীদের পরিচয় ও মোটিভ স্পষ্ট হওয়ায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার মানুষ এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট প্রদান এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আশ্বস্ত করেছে যে, মামলার নথিপত্র এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং খুব শিগগিরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সুনামগঞ্জে জসীমউদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ নিয়ে পাঠচক্র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
   
সুনামগঞ্জে জসীমউদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ নিয়ে পাঠচক্র

সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জ বন্ধুসভার উদ্যোগে পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত কাব্যোপন্যাস ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ নিয়ে একটি প্রাণবন্ত পাঠচক্রের আয়োজন করা হয়েছে। আধুনিক ও মানবিক সাহিত্যের চর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই মূলত এই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়। সাহিত্যপ্রেমী তরুণদের অংশগ্রহণে মুখর ছিল এই পাঠচক্র। সভায় আলোচকরা কাব্যোপন্যাসটির বিভিন্ন দিক নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং বইটির শিল্পগুণ ও সামাজিক বার্তাগুলো নিয়ে তাদের ভাবনা তুলে ধরেন।

কাব্যোপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র সোজন ও দুলীকে নিয়ে আলোচনার সময় উঠে আসে এক হৃদয়স্পর্শী আখ্যান। ভিন্ন ধর্মীয় পরিচয়ের দু’জন মানুষ কীভাবে একে অপরের প্রেমে পড়েন এবং সমাজ ও ধর্মের কঠোর বেড়াজালে আটকা পড়ে তাদের জীবন কোন পথে বাঁক নেয়, তা নিয়েই মূলত আবর্তিত হয়েছে পুরো পাঠচক্রের মূল আলোচনা। আলোচকরা বলেন, জসীমউদ্দীন তার লেখনীর মাধ্যমে কেবল দু’টি মানুষের ভালোবাসার গল্পই বলেননি, বরং সমকালীন সমাজের চিত্রকেও ফুটিয়ে তুলেছেন। তাদের মতে, ব্যক্তিগত আবেগের চেয়েও সমাজ ও ধর্মের প্রভাব যখন বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন মানবিক সম্পর্কগুলো কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা এই বইটিতে অসাধারণ নিপুণতায় চিত্রিত হয়েছে।

পাঠচক্রের আলোচনায় সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, আজকের দিনেও এই কাব্যোপন্যাসের প্রাসঙ্গিকতা ফুরিয়ে যায়নি। বরং সমাজের বিদ্যমান বিভেদ ও সংকীর্ণতার মাঝে দাঁড়িয়ে ভালোবাসা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে বার্তা জসীমউদ্দীন দিয়ে গেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত জরুরি। পাঠকরা মনে করেন, সোজন ও দুলীর ভালোবাসা কেবল একটি রোমান্টিক গল্প নয়, এটি যেন তৎকালীন সমাজের প্রতি এক বিশাল অভিযোগ এবং মানবিক প্রেমের জয়গান।

বন্ধুসভার সদস্যরা এই ধরণের পাঠচক্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, সৃজনশীল ও মননশীল চর্চায় নিজেকে সমৃদ্ধ করতে সাহিত্য পাঠের কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত পাঠচক্র আয়োজনের মাধ্যমে তারা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় নিজেদের জ্ঞান বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছেন। জসীমউদ্দীনের মতো কালজয়ী লেখকের সৃষ্টিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই তারা নিয়মিত এমন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

উপস্থিত সদস্যরা আরও বলেন, বর্তমান সময়ের যান্ত্রিকতায় যখন মানুষ বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন পাঠচক্রের মাধ্যমে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করলে সাহিত্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে। সোজন বাদিয়ার ঘাট-এর মতো ক্লাসিক সাহিত্যগুলো পড়ার মাধ্যমে তরুণরা সমাজের গভীরতর সংকটগুলো বুঝতে শিখবে এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়তে উদ্বুদ্ধ হবে। সুনামগঞ্জ বন্ধুসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনগুলোতেও তারা দেশীয় সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সব কাজ নিয়ে এ ধরণের আয়োজনের ধারা অব্যাহত রাখবে। সবশেষে অংশগ্রহণকারীদের অংশগ্রহণে বইটি নিয়ে একটি উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

নতুন করে হামলা চালালে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের হুঁশিয়ারি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
   
নতুন করে হামলা চালালে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির উচ্চপদস্থ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি, ওয়াশিংটন যদি নতুন করে কোনো হামলা চালায় তবে তার পরিণতি হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এমন কোনো সংঘাত শুরু হলে তার স্থায়িত্ব বা অবসানের সময়সীমা নির্ধারণ করার কর্তৃত্ব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের থাকবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এই কড়া অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ভয়াবহ সেই সংঘাতময় সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। সেই হামলায় সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। একই সঙ্গে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও লেবানন ও ইয়েমেনের রণক্ষেত্রে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল।

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘি নতুন করে কোনো উস্কানি বা হামলার ক্ষেত্রে সমানুপাতিক ও কঠোর প্রতিক্রিয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যারা এই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করছে, তারা ইরানের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের সময়সীমা কিংবা এর চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণের কোনো সুযোগ পাবে না। ইরানের এই সামগ্রিক প্রতিক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের বা আইআরজিসি-র শক্তিশালী অবস্থান। সংগঠনের মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির দেওয়া বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক কোনো সীমা থাকবে না। শত্রুপক্ষের ক্ষতিসাধন করার জন্য ইরান এরই মধ্যে বিশাল এক যুদ্ধক্ষেত্র প্রস্তুত করে রেখেছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

এদিকে ওয়াশিংটনের তরফ থেকে ভিন্ন দাবি শোনা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সামরিক সক্ষমতার সিংহভাগই ইতিমধ্যে ধ্বংস করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্পের দাবি, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোও প্রায় অকেজো করে ফেলা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিপরীতে ইরানের তরফ থেকে কোনো সরাসরি অস্বীকৃতি না এলেও, তাদের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি মূলত প্রমাণ করে যে তেহরান এখনো কঠোর লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরানে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে, যা নিয়ে নতুন করে জল ঘোলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে আছে এবং ইরানের এই নতুন হুঁশিয়ারি সংঘাতের নতুন রূপ পাওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
   
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া

বর্তমান বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির রূপরেখা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিল গোলকধাঁধায় প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সমীকরণ। বৈশ্বিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং কৌশলগত অবস্থান নির্ধারণে কূটনীতির অদৃশ্য সুতো যেন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারণী মহলে এখন যে নীরব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা মূলত ভবিষ্যতের বিশ্বব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যেই পরিচালিত।

বিশ্বের রাজনৈতিক আকাশে প্রতিদিনই নতুন মেঘ জমছে এবং কখনও কখনও তা থেকে নতুন সংঘাতের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। শক্তিশালী দেশগুলোর প্রতিরক্ষা খাতের নীরব প্রস্তুতি বিশ্বজুড়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। সীমান্ত উত্তেজনা, বাণিজ্য যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক সংঘাতের যে চিত্র আমরা দেখছি, তা মূলত এক নতুন মেরুকরণের দিকে ধাবমান বিশ্বের প্রতিচ্ছবি। প্রতিটি দেশের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা এবং প্রভাব বিস্তারের যে লড়াই, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতির মূলধারায় এক ধরণের অস্থিরতা তৈরি করেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে কোনো একটি দেশ এককভাবে নিজস্ব অবস্থানে অটল থাকতে পারছে না। কৌশলগত মিত্রতা গঠনের প্রবণতা এবং পারস্পরিক সমঝোতার ক্ষেত্রগুলো নিয়মিত বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশ এখন অনেক বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বৈশ্বিক সংঘাতের যে আগুন বিভিন্ন অঞ্চলে ধিকিধিকি জ্বলছে, তা নিভিয়ে ফেলা বা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টাও যেন আগের চেয়ে চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।

অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বরাজনীতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করবে বর্তমানে গৃহীত বিভিন্ন কৌশলী পদক্ষেপের ওপর। বড় শক্তিগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং নতুন জোটবদ্ধ হওয়ার প্রয়াস আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং সামরিক সক্ষমতার লড়াই এখন ভূ-রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে পৃথিবী এখন এক অবিরাম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করছে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতির কোনো একক সহজ সমাধান নেই, তবুও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যে অস্থিরতা দৃশ্যমান, তা পর্যবেক্ষণে রাখা এখন সময়ের দাবি। শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের নীতিনির্ধারকদের এই জটিল বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সর্বশেষ
সুনামগঞ্জে জসীমউদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ নিয়ে পাঠচক্র নতুন করে হামলা চালালে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যায় পাঁচজনের সরাসরি অংশগ্রহণ, আদালতে জবানবন্দি কোচিং সেন্টারে ছাত্রীকে হয়রানি: ভিডিও ভাইরালের পর স্থায়ী বহিষ্কার শিক্ষক তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিএম নিয়ে বড় অভিযোগ রাহুল গান্ধীর, দিল্লির সমাবেশে তুললেন ভোটের বৈধতার প্রশ্ন জামায়াতের রাজনীতির ইতিহাস আত্মসমর্পণের ইতিহাস: রুহুল কবির রিজভী সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী হত্যা মামলা: কারাগারে ছেলে, আদালতে জবানবন্দি গৃহকর্মীর সাভারে পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর, সাংবাদিক লাঞ্ছিত
Advertisement