খুঁজুন
, ,

নেপালের ক্রিকেট উন্মাদনায় মুগ্ধ সাকিব আল হাসান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
নেপালের ক্রিকেট উন্মাদনায় মুগ্ধ সাকিব আল হাসান

নেপাল প্রিমিয়ার লিগ বা এনপিএলকে কেন্দ্র করে দেশটির ক্রিকেট দর্শকদের যে আবেগ ও উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে, তা সশরীরে মাঠে থেকে দারুণভাবে উপভোগ করছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। নেপালের মাটিতে ক্রিকেটের এমন জনপ্রিয়তা এবং প্রতিটি ম্যাচে দর্শকদের গ্যালারিভর্তি উপস্থিতি তাকে মুগ্ধ করেছে। মাঠের খেলায় নিজের সেরাটা দেওয়ার পাশাপাশি সাকিব স্থানীয় দর্শকদের এই ক্রিকেটপ্রেমকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছেন।

টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে সাকিব তার নিজের ভালো লাগার কথা অকপটে প্রকাশ করেছেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে নেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, নেপালের পরিবেশ এবং ক্রিকেটীয় সংস্কৃতি তাকে নতুন এক অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। সাকিব উল্লেখ করেন যে, একটি দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির বিকাশে দর্শকদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি এবং নেপালে এসে তিনি সেই চিত্রটিই দেখতে পাচ্ছেন। মাঠের প্রতিটি মুহূর্তে দর্শকদের চিৎকারে এবং দলের প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন খেলোয়াড়দের মনে বাড়তি প্রেরণা জোগায়, যা নেপালের এই টুর্নামেন্টে বেশ স্পষ্ট।

ক্রিকেটের বৈশ্বিক প্রসারের ক্ষেত্রে এমন ছোট ও উদীয়মান ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর প্রচেষ্টা সাধারণত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। নেপাল প্রিমিয়ার লিগের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণ ক্রিকেটাররা যেমন আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তারকাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি দর্শকপ্রিয়তা পাওয়ার ফলে এই খেলাটি সেখানে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সাকিব আল হাসান মূলত একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে নিয়মিত খেলে আসছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি নেপালের এই আয়োজনের মান এবং দর্শকদের আন্তরিকতা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে সাকিব শুধুমাত্র নিজের পারফরম্যান্সের দিকেই নজর দিচ্ছেন না, বরং মাঠের বাইরের পরিবেশ এবং ভক্তদের সাথে নিজের সংযোগটিও বেশ উপভোগ করছেন। আয়োজকদের উপস্থাপক ইয়েশা সাগরের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় তিনি স্পষ্ট করেন যে, খেলার মাঠে দর্শকদের এমন সাড়া পাওয়া একজন খেলোয়াড়ের জন্য বড় প্রাপ্তি। নেপালি দর্শকদের এই ক্রিকেটপ্রীতি কেবল টুর্নামেন্টকে আনন্দদায়ক করে তুলছে না, বরং দেশটির সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনেও একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

পেশাদার ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে নতুন কোনো দেশে গিয়ে এমন সংবর্ধনা পাওয়া এবং দর্শককূলের পক্ষ থেকে ভালোবাসা পাওয়া নতুন কিছু নয়, তবে নেপালের মতো একটি দেশে ক্রিকেটের প্রতি ক্রমবর্ধমান এই আগ্রহ সাকিবের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সব কিছু দেখা খেলোয়াড়কেও নতুন করে ভাবাচ্ছে। নেপাল প্রিমিয়ার লিগের এই আসর ভবিষ্যতে দেশটির ক্রিকেটে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং সাকিব আল হাসানের অংশগ্রহণ এই টুর্নামেন্টের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, নেপালে খেলতে আসা সাকিব আল হাসান কেবল তার পেশাদার দায়িত্বই পালন করছেন না, বরং দর্শকদের এই ক্রিকেট উন্মাদনার সাথে মিশে গিয়ে মাঠের ক্রিকেটে নতুন এক মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করছেন। তার এই উপস্থিতি যেমন নেপালি দর্শকদের আনন্দ দিচ্ছে, তেমনি সাকিব নিজেও এই নতুন অভিজ্ঞতায় বেশ সন্তুষ্ট। খেলার মাঠ ছাড়িয়ে দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়ার এই ঘটনাটি তার এই সফরকে স্মরণীয় করে রাখবে।

ইউক্রেনে ভয়াবহ রুশ হামলা: একদিনে নিহত ২০, দিনিপ্রোতে প্রাণহানি ১৪ জনের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
   
ইউক্রেনে ভয়াবহ রুশ হামলা: একদিনে নিহত ২০, দিনিপ্রোতে প্রাণহানি ১৪ জনের

ইউক্রেনে চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পক্ষ থেকে ভয়াবহ এক হামলা চালানো হয়েছে। এই দিনের ধারাবাহিক আক্রমণে দেশটির অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও জনপদ লক্ষ্য করে চালানো এই হামলা দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলেছে। বিশেষ করে জনাকীর্ণ রেলস্টেশনে হামলাটি মানবিক নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে দিনিপ্রো শহরে। শহরের অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশনে রাশিয়ার একটি ড্রোন সরাসরি আঘাত হানে। ব্যস্ততম এই গণপরিবহন কেন্দ্রে হামলার সময় বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আচমকা ঘটে যাওয়া এই ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলেই ১৪ জন প্রাণ হারান। রেলস্টেশনটি মানুষের যাতায়াতের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা এমন মর্মান্তিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হামলার পরপরই রেলস্টেশন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা তৎপরতা শুরু করেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকস্মিক এই হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একই দিনে শুধুমাত্র দিনিপ্রো নয়, বরং ইউক্রেনের অন্যান্য প্রাদেশিক শহরেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে। দিনের আলোয় ব্যস্ত শহরগুলোতে চালানো এই হামলায় আরও ৫ জন নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো যে এখন আর নিরাপদ নয়, এই হামলা তা আরও একবার প্রমাণ করল। দিনের বেলায় চালানো এই অভিযানগুলোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ছিল সাধারণ মানুষ ও তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। যুদ্ধের ভয়াবহতা এখন ইউক্রেনের সাধারণ নাগরিকদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, রাজধানী কিয়েভও এই হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি। গভীর রাতে কিয়েভে চালানো রাশিয়ার এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। গভীর রাতের এই আক্রমণটি ছিল আকস্মিক, যার ফলে শহরবাসীর জন্য নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করা বেশ কঠিন ছিল। গত ২৪ ঘণ্টার এই ধারাবাহিক আক্রমণ প্রমাণ করে যে ইউক্রেনের সর্বত্রই রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে আকাশপথে ড্রোন, অন্যদিকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র—এই দ্বিমুখী হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউক্রেনের জনজীবন।

ইউক্রেনের সামরিক বিশ্লেষক ও কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ধরণের হামলা মূলত সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার একটি কৌশলগত অংশ। যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রায়ই দাবি করা হয় যে তারা শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে রেলস্টেশন, আবাসিক এলাকা এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলোই হামলার প্রধান শিকার হচ্ছে। যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট নিরসনে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষ দিন দিন আরও অসহায় হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ, পানি ও যাতায়াত ব্যবস্থার মতো মৌলিক পরিষেবাগুলো এই হামলার ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বর্তমানে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধার তৎপরতা চলমান রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়ার এই ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব এখনো পরিলক্ষিত হয়নি। ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ এখন কেবল যুদ্ধের আতঙ্ক আর প্রিয়জন হারানোর শোক নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। একদিনে ২০ জনের মৃত্যু ইউক্রেনের জন্য একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার দাবি জোরদার হয়েছে। যুদ্ধের এই প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের জীবন এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপানফেরত বিমানে ত্রুটি, ইঞ্জিন সচল ছিল: অতিরিক্ত প্রেস সচিব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
প্রধানমন্ত্রীর জাপানফেরত বিমানে ত্রুটি, ইঞ্জিন সচল ছিল: অতিরিক্ত প্রেস সচিব

জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, ঘটনাটি গুরুতর কিছু ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানের ইঞ্জিন ঠিক ছিল; পাখায় সামান্য সমস্যা দেখা দিয়েছিল এবং তা ঠিক করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীরা ওই ফ্লাইটে ছিলেন। জাপান থেকে তাঁদের নিয়ে আসা বিমানটির ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য কারা, তারা কবে কাজ শুরু করবে কিংবা তদন্তের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা কত—এসব বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অতিরিক্ত প্রেস সচিবের বক্তব্যে সমস্যার মাত্রা সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেলেও ত্রুটিটি ঠিক কীভাবে ধরা পড়ে, তা কোন পর্যায়ে নজরে আসে এবং মেরামতে কত সময় লাগে—সে বিষয়ে বিস্তারিত নেই। একইভাবে পাখার কোন অংশে সমস্যা হয়েছিল, কী ধরনের কারিগরি পরীক্ষা করা হয় কিংবা ফ্লাইটের যাত্রাপথে কোনো পরিবর্তন আনতে হয়েছিল কি না, তাও স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে তদন্তের আগে ত্রুটির সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ঘটনার পর বিমানটির যান্ত্রিক অবস্থা এবং ত্রুটির কারণ খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তের লক্ষ্য হিসেবে ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানের কথা জানানো হয়েছে। তবে কমিটি কেবল পাখার সমস্যাটিই পর্যালোচনা করবে, নাকি উড্ডয়নের আগে ও চলাকালে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ও বিবেচনায় নেবে—এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তদন্তের ফল পাওয়া গেলে এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে।

সফরসঙ্গীদের সঙ্গে একই বিমানে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তও ঘটনাটির আলোচনায় এসেছে। অন্য বিমানে ফেরার সুযোগ থাকলেও প্রধানমন্ত্রী সফরসঙ্গীদের রেখে যাননি—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিকল্প বিমানটি কোথা থেকে বা কীভাবে পাওয়ার কথা ছিল, সেটি প্রস্তুত ছিল কি না, কিংবা এ নিয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা জানা যায়নি। তাই সিদ্ধান্তটির বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা না থাকায় এর বাইরে কোনো কারণ নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

যান্ত্রিক ত্রুটির খবর প্রকাশের পর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের বক্তব্যে দুটি বিষয় আলাদা করে উঠে এসেছে: ইঞ্জিনে ত্রুটি ছিল না এবং পাখায় সামান্য সমস্যা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সমস্যাটি ঠিক করা হয়। তবে ঠিক করার কাজটি কোথায় এবং কোন পর্যায়ে হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়নি। এ কারণে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার মুহূর্ত, সমাধানের প্রক্রিয়া কিংবা পরবর্তী কারিগরি যাচাই সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।

চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর ফেরার ফ্লাইটে এ ধরনের ঘটনা হওয়ায় তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ত্রুটির উৎস এবং সেটি কীভাবে সামাল দেওয়া হয়েছে, তা নির্ধারণে কারিগরি অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে। তবে কমিটির কাজ শেষ হওয়ার আগে কোনো নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি বা দায়িত্বে থাকা কোনো পক্ষকে দায়ী করার তথ্য নেই। অতিরিক্ত প্রেস সচিবও ঘটনাটিকে বড় কিছু নয় বলে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তদন্তের ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কারণ সম্পর্কে তাঁর ওই প্রাথমিক বক্তব্যের বাইরে সিদ্ধান্ত টানা যাবে না।

বিমানটিতে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তাঁর স্ত্রী ও সফরসঙ্গীরা ছিলেন—তাই ত্রুটির বিষয়টি তাঁদের বহনকারী পুরো ফ্লাইটের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাখার সামান্য সমস্যাটি ঠিক করা হয়েছিল এবং ইঞ্জিন সচল ছিল। তবে বিমানের যাত্রা, অবতরণ বা যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নির্দিষ্ট বিবরণ এই তথ্যের মধ্যে নেই। এসব বিষয়ে অনুমান না করে তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান ও পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত।

এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, জাপান থেকে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে একটি যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল, অতিরিক্ত প্রেস সচিব সেটিকে সীমিত মাত্রার বলে বর্ণনা করেছেন এবং কারণ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ত্রুটির পূর্ণ বিবরণ ও তদন্তের সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলে ঘটনার প্রকৃতি, সমাধানের পদ্ধতি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—তা আরও পরিষ্কার হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন

জাপান সফর শেষে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই কমিটি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে।

জাপান থেকে দেশে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর বিমান উড্ডয়ন ও পরিচালনায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে গঠিত এই কমিটি ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছে মূলত জাপান সফর শেষে ফেরার পথে। তিনি জানান, ফ্লাইটের ইঞ্জিনে কোনো সমস্যা ছিল না, তবে বিমানের ডানার অংশে একটি কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছিল। এই ত্রুটি দ্রুত চিহ্নিত করে তা মেরামত করা সম্ভব হয়। তিনি এটিকে খুব বড় কোনো বিষয় নয় বলে উল্লেখ করলেও, সরকারি কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইটে এমন কারিগরি সীমাবদ্ধতা জনমনে উদ্বেগের জন্ম দেয়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তাজনিত বিষয় হওয়ায় সরকার পুরো ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। ফ্লাইটের যান্ত্রিক এই ত্রুটিটি আকস্মিক কি না, নাকি রক্ষণাবেক্ষণজনিত কোনো অবহেলা ছিল, তা বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ফিরছিল। আকাশপথে থাকার সময় এই ত্রুটি ধরা পড়লে তা দ্রুত সংশোধনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বা অন্য কেউ কোনো ধরনের বিপদের সম্মুখীন হননি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বহনকারী বিমানের ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও উড্ডয়নের আগে কঠোর নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই করা হয়। তবুও দীর্ঘ যাত্রাপথে বা উড্ডয়ন অবস্থায় এমন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়াটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিমানের কারিগরি লগবুক, রক্ষণাবেক্ষণের তথ্য এবং ফ্লাইটের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও পাইলটদের বক্তব্য যাচাই করা হবে। যদি কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করার কথা জানানো হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে নারাজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্রীয় ফ্লাইটের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে বিমানের কারিগরি ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কোনো দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

সর্বশেষ
ইউক্রেনে ভয়াবহ রুশ হামলা: একদিনে নিহত ২০, দিনিপ্রোতে প্রাণহানি ১৪ জনের প্রধানমন্ত্রীর জাপানফেরত বিমানে ত্রুটি, ইঞ্জিন সচল ছিল: অতিরিক্ত প্রেস সচিব প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন ইসরায়েলি নির্বাচনে জয়ী নেতানিয়াহুকে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন নেপালের ক্রিকেট উন্মাদনায় মুগ্ধ সাকিব আল হাসান লাঞ্চের ঠিক আগ মুহূর্তে নাঈমের ব্রেক-থ্রু, সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ পাঁচ হলুদ কার্ডেও কেন নিষেধাজ্ঞা নেই মেসির, কী এই বিশেষ নিয়ম গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন পোশাক শ্রমিক ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি ভিয়েতনামের ফু কুক দ্বীপ: প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর নির্জনতার খোঁজে
Advertisement