খুঁজুন
, ,

দরজায় টোকা আর হাসির হুল্লোড়: আজ নক নক কৌতুক দিবস

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
দরজায় টোকা আর হাসির হুল্লোড়: আজ নক নক কৌতুক দিবস

কখনও কী ভেবে দেখেছেন, দরজায় একটি সামান্য টোকা কীভাবে আনন্দের খোরাক হতে পারে? দৈনন্দিন ব্যস্ততার ভিড়ে আমরা যখন একটু হাসির জন্য উন্মুখ হয়ে থাকি, তখন এমন কিছু ছোট ছোট মুহূর্ত আমাদের ক্লান্তি ভুলিয়ে দিতে পারে। আজ ৩১ অক্টোবর, এমন এক দিন যা বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে নক নক কৌতুক দিবস হিসেবে। এই অদ্ভুত অথচ আনন্দদায়ক দিবসটি মূলত মানুষের সৃজনশীলতা এবং রসবোধকে উদযাপন করার একটি মাধ্যম। যখন কেউ দরজায় টোকা দেয় এবং ভেতর থেকে প্রশ্ন আসে কে, তখনই শুরু হয় এক মজার কথোপকথন। এই সাধারণ প্রশ্নোত্তরের মধ্য দিয়েই বেরিয়ে আসে নানা ধরনের কৌতুক, যা একে অপরকে হাসানোর এক অনন্য উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নক নক কৌতুক দিবস মূলত একটি ঘরোয়া আমেজের বহিঃপ্রকাশ। এই কৌতুকগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর গঠনশৈলী। এখানে সাধারণত কথোপকথনটি এভাবেই এগোয় যে, প্রথমজন নক নক বলে শুরু করেন। দ্বিতীয়জন জিজ্ঞাসা করেন কে। এরপর প্রথমজন কোনো একটি নামের অংশ বা শব্দের আংশিক উচ্চারণ করেন, যা শুনে দ্বিতীয়জন বিভ্রান্ত হয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কে? আর তখনই প্রথমজন সেই শব্দের পূর্ণ রূপটি বলে কৌতুকটি শেষ করেন। এই সহজ অথচ বুদ্ধিদীপ্ত শব্দের খেলার মাধ্যমেই লুকিয়ে থাকে আসল মজা। কখনও এই কৌতুকগুলো হয় বুদ্ধিদীপ্ত, আবার কখনও হয় স্রেফ বোকা বোকা বা অদ্ভুত, যা শুনে হাসি চেপে রাখা দায় হয়ে পড়ে।

বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ আজ এই দিবসটিকে ঘিরে তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে নক নক কৌতুক শেয়ার করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগেও এই কৌতুকগুলো নিজেদের আবেদন হারায়নি। বরং দ্রুত বার্তা আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্মে এগুলো এখন আরও নতুন নতুন রূপে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের কাছে এই ধরনের কৌতুকগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাদের সরল মনে এই শব্দের খেলার যে আনন্দ, তা এক নতুন মাত্রা যোগ করে। তবে বড়দের ক্ষেত্রেও এটি মানসিক চাপ কমানোর একটি চমৎকার ওষুধ হিসেবে কাজ করতে পারে। একটি কঠিন দিনের শেষে প্রিয় মানুষের সঙ্গে এই ধরনের টুকটাক কৌতুক শেয়ার করা মুহূর্তেই বিষণ্নতা দূর করতে সক্ষম।

কৌতুক বা জোকস আমাদের সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানুষ যখন থেকে কথা বলা শিখেছে, তখন থেকেই হাসি-তামাশার মাধ্যমে নিজেদের বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করেছে। নক নক কৌতুক দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের জটিল সমীকরণের বাইরেও আনন্দ পাওয়ার অনেক সহজ পথ খোলা আছে। মাত্র কয়েকটি শব্দের খেলা বা পরিস্থিতির হাস্যকর মোড় কীভাবে মানুষকে হাসাতে পারে, তার প্রমাণ মেলে এই বিশেষ দিনে। অনেক সময় এই কৌতুকগুলো খুব সাধারণ মনে হলেও, এগুলো তৈরির পেছনে এক ধরনের ভাষাগত কৌশল বা শব্দের দ্ব্যর্থবোধক ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। তাই যারা এই কৌতুকগুলো বলেন বা শোনেন, তাদেরও এই ভাষাগত নিপুণতা বেশ উপভোগ্য মনে হয়।

আজকের এই দিনে আপনিও চাইলে আপনার বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নক নক কৌতুকের একটি ছোট আসর বসাতে পারেন। হয়তো আপনার বলা কোনো একটি কৌতুক কারো খারাপ মন ভালো করে দেবে, অথবা কারো অট্টহাসিতে ঘর মুখর হয়ে উঠবে। দিনশেষে, সুস্থ থাকতে এবং ইতিবাচক থাকতে হাসির কোনো বিকল্প নেই। নক নক কৌতুক দিবস আমাদের শেখায় যে, আনন্দ খোঁজার জন্য বিশাল কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই, বরং চারপাশের ছোট ছোট ঘটনার মধ্যেই আমরা আনন্দ খুঁজে নিতে পারি। তাই আজকের দিনটি হোক হাসি আর আনন্দে পরিপূর্ণ, যেখানে প্রতিটি টোকা বয়ে আনুক নতুন কোনো কৌতুকের বারতা।

সমুদ্রের গভীরে ট্রেনযাত্রার অনন্য অভিজ্ঞতা হংকংয়ে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
সমুদ্রের গভীরে ট্রেনযাত্রার অনন্য অভিজ্ঞতা হংকংয়ে

ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে হংকং সবসময়ই এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। আধুনিক শহরের ব্যস্ততার মাঝেও প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে পর্যটকরা ভিড় জমান শহরের বিভিন্ন থিম পার্কে। হংকংয়ের ওশান পার্ক তেমনি এক জনপ্রিয় স্থান। এই পার্কের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ওশান এক্সপ্রেস নামে পরিচিত বিশেষ এক ট্রেন। সাধারণ ট্রেনযাত্রার সাথে এর পার্থক্য হলো, এই ট্রেনটি যাত্রীদের নিয়ে যায় সমুদ্রের তলদেশ ভ্রমণের এক অনন্য অভিজ্ঞতায়। যারা সমুদ্রের নিচে সাবমেরিন ভ্রমণের স্বাদ পেতে চান, তাদের জন্য এই ট্রেন এক চমৎকার সুযোগ তৈরি করেছে।

ওশান এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে যাত্রীদের মনে হয় তারা যেন সাবমেরিনের ভেতর বসে সমুদ্রের গভীরে ডুব দিচ্ছেন। প্রায় ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে এই ট্রেন চলাচল করে। মাত্র চার মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাপথ পর্যটকদের এক অসাধারণ অনুভূতির মুখোমুখি দাঁড় করায়। সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিবেশ এবং আলোর কারসাজি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যা চোখের সামনে সমুদ্রের তলদেশের এক কাল্পনিক চিত্র ফুটিয়ে তোলে। ট্রেনের ভেতর বসা যাত্রী যখন এই টানেলের ভেতর দিয়ে পার হন, তখন মনে হতে পারে সত্যিই কোনো সাবমেরিনে চড়ে পানির নিচ দিয়ে এগিয়ে চলেছেন।

হংকংয়ের পর্যটন খাতে ওশান পার্কের অবদান অনস্বীকার্য। এখানে প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক ভিড় করেন। পার্কটির বিভিন্ন রাইড ও প্রদর্শনীগুলোর মধ্যে ওশান এক্সপ্রেসের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। মূলত এটি একটি ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম হিসেবে কাজ করলেও পর্যটকদের কাছে এটি একটি রাইড বা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার নাম। পার্কের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের সময় দর্শনার্থীরা কেবল ট্রেনের কামরায় বসে থাকেন না, বরং এই স্বল্প সময়ের যাত্রায় সমুদ্রের রহস্যময় দুনিয়ার এক কৃত্রিম আবহ উপভোগ করেন।

প্রযুক্তির এই আধুনিক উৎকর্ষতা ওশান পার্ক কর্তৃপক্ষকে পর্যটকদের কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। ওশান এক্সপ্রেসের মাধ্যমে তারা এমন এক পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যা শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সীদেরই সমানভাবে আনন্দ দেয়। সমুদ্রের নিচে কোনো যান ভ্রমণের চিন্তা সাধারণ মানুষের জন্য রোমাঞ্চকর। প্রযুক্তির সহায়তায় সেই চিন্তা যখন বাস্তবে রূপ নেয়, তখন তার আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যায়। হংকংয়ের ওশান পার্কের এই ট্রেনটি ঠিক সেই কাজটিই করছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক ধরনের পর্যটন সুবিধা থাকলেও ওশান এক্সপ্রেসের মতো এমন সুড়ঙ্গপথে ট্রেনযাত্রার অভিজ্ঞতা বেশ বিরল। যারা হংকং ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন বা যারা সমুদ্র নিয়ে কৌতূহলী, তাদের জন্য এই পার্কের ওশান এক্সপ্রেস মিস করার মতো নয়। পার্কটিতে প্রবেশ করার পর এই ট্রেনে চড়া এক বাধ্যতামূলক ও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভ্রমণের জন্য যারা ভিন্ন কিছু খুঁজছেন, তারা অনায়াসেই এই সাবমেরিন সদৃশ ট্রেনের অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। সমুদ্রের তলদেশ ভ্রমণ যে কেবল সাবমেরিনেই সম্ভব নয়, বরং সাধারণ ট্রেনযাত্রাতেও তার কিছুটা আমেজ পাওয়া যেতে পারে—তা ওশান এক্সপ্রেসের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিদিন শত শত যাত্রী এই ট্রেনে চড়ে হংকংয়ের ওশান পার্কের সৌন্দর্য উপভোগ করেন, যা তাদের স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী এক ছাপ রেখে যায়।

রাজশাহীতে কিশোর অপরাধের উদ্বেগজনক বিস্তার: সক্রিয় ৩৫টি গ্যাং

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
রাজশাহীতে কিশোর অপরাধের উদ্বেগজনক বিস্তার: সক্রিয় ৩৫টি গ্যাং

রাজশাহী নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর অলিগলি থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ, পার্ক, লেক ও ফ্লাইওভারের মতো জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী জেলা ও নগরী জুড়ে অন্তত ৩৫টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। অদ্ভুত ও আক্রমণাত্মক সব নাম ব্যবহারকারী এসব দলের সদস্যরা সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয়দের মধ্যে এসব কিশোরদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব গ্যাংয়ের নামকরণও বেশ অদ্ভুত। কোনোটির নাম ফালতু আবার কোনোটির নাম রাখা হয়েছে সিংহামের মতো সিনেমার চরিত্রের নামে। তবে নামের হাস্যরস থাকলেও তাদের কার্যকলাপ মোটেও হালকা নয়। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মূলত সামাজিক অবক্ষয় এবং অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারির অভাবেই কোমলমতি কিশোররা অপরাধ জগতের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা শুধু এলাকায় আধিপত্য বিস্তারই নয়, বরং নানা ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ছে।

গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের তালিকার মধ্যে রয়েছে ছিনতাই, মারধর, সংঘবদ্ধ হামলা, চাঁদাবাজি এবং যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অপরাধ। এছাড়াও মাদক ব্যবসায় জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে দলবদ্ধ হয়ে মহড়া দেওয়া এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও নারীদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনাও এখন নৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তাদের আচরণে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং অনেকেই এসব কিশোরদের ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।

রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে মোটরবাইক চালানো এবং দলবদ্ধভাবে হৈ-হুল্লোড় করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রায়শই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে নগরীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র এবং ফ্লাইওভারের মতো এলাকাগুলো এখন তাদের প্রধান আড্ডাস্থল। এসব স্থানে তারা সন্ধ্যা বা রাতের বেলায় জড়ো হয়ে অপরাধের পরিকল্পনা করে থাকে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

কিশোর অপরাধের এই বাড়বাড়ন্ত রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হলেও পরিস্থিতির স্থায়ী কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইনি ব্যবস্থা দিয়ে কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কিশোরদের মাঠ পর্যায়ের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত রাখতে পারলে তাদের বিপথগামী হওয়া রোধ করা সম্ভব হতে পারে। একই সাথে অভিভাবকদের সচেতনতা ও সন্তানদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই কেবল এই কিশোর গ্যাং কালচার থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামরিক বাজেট বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাধারণ ধর্মঘট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামরিক বাজেট বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাধারণ ধর্মঘট

ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ ইতালিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং উন্নততর কর্মপরিবেশ ও মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ ও ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে যখন হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ শ্রমিক নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষে রাজপথে নেমে আসেন। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সরকারের সামরিক খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা এই আন্দোলনের সূচনা করেন।

দেশটির তৃণমূল পর্যায়ের ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন ‘ইউনিওনে সিন্দাকালে দি বাজে’র আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই ২৪ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। এই আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে ইতালির প্রায় ৪০টিরও বেশি শহরে। রাজধানীর রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে রাজপথে জড়ো হন, যার ফলে জনজীবন ও পরিবহন ব্যবস্থায় এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবির তালিকায় রয়েছে উচ্চতর মজুরি কাঠামো, শক্তিশালী ও মানসম্মত গণসেবা নিশ্চিতকরণ এবং বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানো।

বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে আকাশচুম্বী হচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন নির্বাহ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির সমালোচনা করে বলেন, সরকারের উচিত এই অর্থ দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণ, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ব্যয় করা। তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এই বিক্ষোভকে আরও জোরালো করে তুলেছে, যারা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে শঙ্কিত।

ইতালির অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি এবং মূল্যস্ফীতির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। এবারের ধর্মঘট মূলত সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা। শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার জনবান্ধব অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ না করছে এবং সাধারণ মানুষের দাবি দাওয়া পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বিভিন্ন শহরে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার তথ্য পাওয়া গেলেও, সামগ্রিকভাবে দিনব্যাপী এই কর্মসূচি ছিল ব্যাপক এবং সুশৃঙ্খল। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রেখেছে যাতে বড় কোনো সহিংসতা না ঘটে। সরকার অবশ্য এখনও এসব দাবির প্রেক্ষিতে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে চলমান এই ধর্মঘট ইতালির বর্তমান সরকার ও নীতিনির্ধারকদের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন দেখার বিষয়। তবে এটা স্পষ্ট যে, অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে ইতালির সাধারণ মানুষের ধৈর্য এখন শেষ সীমানায় পৌঁছেছে এবং তারা রাজপথে নেমে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেছেন।

সর্বশেষ
সমুদ্রের গভীরে ট্রেনযাত্রার অনন্য অভিজ্ঞতা হংকংয়ে রাজশাহীতে কিশোর অপরাধের উদ্বেগজনক বিস্তার: সক্রিয় ৩৫টি গ্যাং ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামরিক বাজেট বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাধারণ ধর্মঘট দরজায় টোকা আর হাসির হুল্লোড়: আজ নক নক কৌতুক দিবস শোকজের পরও রাজনৈতিক প্রচার: ঠাকুরগাঁওয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ইসির ইউক্রেনকে ২১০ কোটি ডলারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেন কেঁপে উঠছে পৃথিবী: রহস্যের জট খুলতে নাজেহাল বিজ্ঞানীরা প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা: আইনি জটিলতা নিরসনের পরও চলছে ধীরগতি প্রবাসীদের দেশে ফেরা ও লাগেজের বিড়ম্বনা: এক অদৃশ্য চাপ রাজধানীর কলাবাগানে ককটেল বিস্ফোরণ: আটক চার
Advertisement