খুঁজুন
, ,

শেরেবাংলা ও কবি জসীমউদ্‌দীন: এক ঐতিহাসিক সম্পর্কের আখ্যান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
শেরেবাংলা ও কবি জসীমউদ্‌দীন: এক ঐতিহাসিক সম্পর্কের আখ্যান

পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের সাহিত্য ও কর্মজীবন নানা ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। তাঁর জীবনদর্শনের আলোচনায় শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দুই দিকপালের পরিচয়পর্বটি কেবল একটি সাধারণ সাক্ষাৎ ছিল না, বরং তা তৎকালীন বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের এক বিশেষ সন্ধিক্ষণকে নির্দেশ করে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই পরিচয়পর্বটি ঘটেছিল ১৯২৯ অথবা ১৯৩০ সালের দিকে। সেই সময় কবি জসীমউদ্‌দীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলছিলেন। অন্যদিকে, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক তখন রাজনৈতিকভাবে কিছুটা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন। তিনি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের রাজনীতির বাইরে এসে বাংলার কৃষক ও সাধারণ প্রজা সমাজকে একত্রিত করার এক নতুন ও কঠিন ব্রত গ্রহণ করেছিলেন।

এই দুই কালজয়ী ব্যক্তিত্বের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির নেপথ্যে ছিলেন সৈয়দ আবদুর রব নামের একজন নিভৃতচারী কিন্তু অসাধারণ উদ্যমী মানুষ। শেরেবাংলার স্মৃতিচারণামূলক লেখায় জসীমউদ্‌দীন অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে আবদুর রবের কথা উল্লেখ করেছেন। ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে যেতে বসা এই মানুষটির অবদান ছিল বহুমুখী। কাকতালীয়ভাবে, কবি জসীমউদ্‌দীন এবং সৈয়দ আবদুর রবের জন্ম সাল একই, অর্থাৎ ১৯০৩ সাল। ভৌগোলিকভাবেও তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা ছিল, কারণ উভয়েরই জন্মভূমি ছিল ফরিদপুর জেলায়। জসীমউদ্‌দীনের পৈতৃক নিবাস ছিল তাম্বূলখানা গ্রামে এবং সৈয়দ আবদুর রবের বাড়ি ছিল গেরদা এলাকায়।

সৈয়দ আবদুর রব প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন দীর্ঘস্থায়ী করতে না পারলেও সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতেন প্রবলভাবে। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটাতে তিনি ১৯২৮ সালে ফরিদপুর শহরে গড়ে তোলেন খাদেমুল এনছান সমিতি। এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন তৎকালীন স্থানীয় জমিদার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী এবং সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্বয়ং সৈয়দ আবদুর রব। এই সমিতিটি ছিল সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে এক ব্যতিক্রমী সামাজিক উদ্যোগ। সমাজসেবা, শিক্ষার বিস্তার, ধর্মীয় কুসংস্কার দূরীকরণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যকার শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করত এই সংস্থাটি। তৎকালীন সমাজকাঠামোর যে জটিল সমস্যাগুলো ছিল, তার সমাধানে সমিতির ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।

ফরিদপুরকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও সৈয়দ আবদুর রবের কর্মযজ্ঞ দ্রুত বিস্তৃত হতে থাকে। ১৯৩২ সালে তিনি এই সমিতির প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তরিত করেন এবং এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় কেন্দ্রীয় খাদেমুল এনছান সমিতি। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি সমাজ ও মানুষের সেবায় দুটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন, যাদের নাম ছিল মুয়াজ্জিন এবং সার্ভেন্ট অব হিউম্যানিটি। লক্ষণীয় বিষয় হলো, ফরিদপুরে থাকাকালীনই তিনি এই পত্রিকাগুলো প্রকাশনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অত্যন্ত সৃজনশীল ও মননশীল ধারার এই পত্রিকাগুলোতে কবি জসীমউদ্‌দীন তো লিখতেনই, পাশাপাশি সেকালের প্রখ্যাত লেখক ও মণীষীদের লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হতো। কাজী নজরুল ইসলাম এবং বেগম রোকেয়ার মতো ব্যক্তিত্বদের লেখা এই পত্রিকায় স্থান পাওয়া তৎকালীন সময়ে এক অনন্য ঘটনা ছিল। একটি আঞ্চলিক সমিতির উদ্যোগে এমন মানসম্পন্ন প্রকাশনা কেবল সাহসের পরিচয়ই ছিল না, বরং এটি সমাজের আলোকবর্তিকা হিসেবেও কাজ করেছিল। মূলত সৈয়দ আবদুর রবের মতো মানুষেরাই পর্দার আড়ালে থেকে বাংলার বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক বিকাশে যে নিরলস অবদান রেখে গেছেন, তা আজ নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।

পরিবেশ রক্ষা ও জাহাজভাঙা শিল্প: সরকারি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
পরিবেশ রক্ষা ও জাহাজভাঙা শিল্প: সরকারি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় একটি খাত হলো জাহাজভাঙা শিল্প। বিগত কয়েক দশকে এই শিল্প বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিবেশগত মানদণ্ড বজায় রাখা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রশ্নে এই শিল্প নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিশেষ করে পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ঘোষিত নীতি ও পরিকল্পনার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে গৃহীত কিছু উদ্যোগের অসামঞ্জস্যতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশ সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ ছাড়া এই শিল্পের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক এজেন্ডা হিসেবে বিবেচিত। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অঙ্গীকার করা হয়েছে যে, কোনো শিল্পই পরিবেশের ক্ষতি করে উন্নয়নের মডেল হতে পারবে না। কিন্তু দৃশ্যমান বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই এই অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠছে। জাহাজভাঙা ইয়ার্ডগুলোতে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যে নিয়মাবলী রয়েছে, তা কঠোরভাবে পরিপালন করা জরুরি। অথচ সাম্প্রতিক কিছু উদ্যোগে দেখা যাচ্ছে, পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিবর্তে ত্বরিত উন্নয়নের নামে নিয়ম শিথিল কিংবা নজরদারিতে ঘাটতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এটি সামগ্রিক পরিবেশ নীতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাহাজভাঙা শিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ, ভারী ধাতু এবং অন্যান্য বিষাক্ত বর্জ্য সঠিক উপায়ে অপসারণ না করা হলে তা উপকূলীয় অঞ্চলের সমুদ্র পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করে। গত কয়েক বছরে এই শিল্পের আধুনিকায়নের কথা বলা হলেও ইয়ার্ডগুলোর অধিকাংশতেই আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। সরকারি নীতিমালায় স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সেগুলো বাস্তবায়নে যে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নামে পরিবেশ আইনকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বা নিয়ম শিথিল করার মানসিকতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

জাহাজভাঙা শিল্পের আধুনিকায়ন মানে শুধু উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো নয়, বরং শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করাও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন ইয়ার্ড নির্মাণের বিষয়টি অনেক আগে থেকেই আলোচিত হলেও এর সংখ্যা কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না। সরকার যদি সত্যিই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়, তবে শিল্পমালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে। কোনো বিশেষ ব্যবসায়িক সুবিধা প্রদানের জন্য পরিবেশের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হলে তা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তুসংস্থান রক্ষা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব এবং এক্ষেত্রে কোনো আপসের অবকাশ থাকার কথা নয়।

ভবিষ্যতের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে হলে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ নীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। জাহাজভাঙা শিল্পের ক্ষেত্রে যে অসামঞ্জস্যতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা নিরসনকল্পে সরকারি সংস্থাসমূহকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের তদারকি আরও শক্তিশালী করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। উন্নয়নের স্বার্থে পরিবেশের ক্ষতি স্বীকার করে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নীতি ও কর্মপরিকল্পনার মধ্যে সামঞ্জস্য রেখেই কেবল এই শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব জাহাজভাঙা শিল্প গড়ে তোলার পথে হাঁটতে হবে। অন্যথায়, পরিবেশগত বিপর্যয়ের দায়ভার কেবল শিল্পখাতের নয়, গোটা রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

শাকিব খানের সঙ্গে কাজের প্রশ্নে মুখ খুললেন নায়িকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
শাকিব খানের সঙ্গে কাজের প্রশ্নে মুখ খুললেন নায়িকা

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বর্তমানে তার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিজীবনের নানা বিষয় নিয়ে বেশ সরব। বিভিন্ন সময়ে তার অভিনীত সিনেমা ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা চললেও তিনি তার কাজে মনোযোগ দিতেই বেশি পছন্দ করেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সুন্দর সিদ্ধান্তটি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সেই সঙ্গে ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করা নিয়ে প্রযোজক ও পরিচালকদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও নিজের মতামত স্পষ্ট করেছেন।

ক্যারিয়ারের শুরুতে বা মাঝপথে অনেক অভিনেতাই বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। এই অভিনেত্রীর মতে, ক্যারিয়ারের শুরুতে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত তার আজকের অবস্থানের জন্য দায়ী। তিনি মনে করেন, সঠিক সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোই একজন শিল্পীকে দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য এনে দেয়। যদিও অনেক সময় সেই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে চারপাশ থেকে নানামুখী চাপ বা প্রশ্ন আসে, তবুও দিনশেষে নিজের বিবেক ও ভালোলাগা থেকেই তিনি সবকিছুর বিচার করেন। তিনি জানান, অতীতে নেওয়া বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ছিল তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। সেই সিদ্ধান্তগুলো না নিলে হয়তো আজকের এই পরিচিতি তিনি অর্জন করতে পারতেন না।

ঢালিউডের গণ্ডি পেরিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম কিংবা ওয়েবের কাজ নিয়েও আজকাল অনেক শিল্পী ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস বা ছোট ভিডিও তৈরির প্রবণতা বাড়লেও, তিনি মনে করেন, একজন শিল্পীর আসল পরিচয় থাকে তার সৃজনশীল কাজের মধ্যে। রিলস তৈরির নেশা বা কতক্ষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানো হলো, সে বিষয়গুলো নিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা রয়েছে, তা নিয়ে তিনি তেমন একটা মাথা ঘামান না। বরং তিনি মনে করেন, গুণগত মানসম্পন্ন কাজে মনোনিবেশ করাই একজন শিল্পীর মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত।

সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের সঙ্গে তার কাজের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন। শাকিব খান বর্তমান সময়ে ঢাকাই সিনেমার সবচেয়ে বড় তারকা, যাকে নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন অনেক অভিনেত্রীরই থাকে। এই প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, শাকিব খান নিঃসন্দেহে একজন গুণী শিল্পী। তার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা বা একসঙ্গে কাজ করা নিয়ে কোনো অভিনেত্রীরই আপত্তি থাকার কথা নয়। তিনি আরও বলেন, যদি কোনো প্রযোজক বা পরিচালক মনে করেন যে তারা শাকিব খানের বিপরীতে তাকে নিয়ে কোনো প্রকল্প তৈরি করবেন, তবে তার দিক থেকে কোনো আপত্তি নেই।

একজন অভিনেত্রী হিসেবে সবসময়ই নতুন চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করার আকাঙ্ক্ষা থাকে। গৎবাঁধা গল্পের বাইরে গিয়ে ভিন্নধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করাই তার বর্তমান লক্ষ্য। শাকিব খানের মতো বড় ক্যানভাসের শিল্পীর সঙ্গে কাজের সুযোগ হলে তিনি অবশ্যই সেটি গ্রহণ করবেন, তবে তা হতে হবে মানসম্মত কোনো চিত্রনাট্য বা গল্পের প্রয়োজনে। চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি গল্পের গভীরতাকেও তিনি এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

সবশেষে, নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আশাবাদী। মিডিয়ার গসিপ বা নেতিবাচক প্রচারণাকে তিনি কখনোই গুরুত্ব দেননি। বরং দর্শকদের ভালোবাসা ও নির্মাতাদের আস্থাই তার এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। নতুন নতুন প্রজেক্টের কাজ নিয়ে তিনি বর্তমানে ব্যস্ত আছেন এবং খুব শীঘ্রই দর্শকদের সামনে নতুন চমক নিয়ে হাজির হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

ব্রাজিলের রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন: লুলা দা সিলভার জয়কে গণতন্ত্রের সুরক্ষা হিসেবে দেখছেন সমর্থকরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ব্রাজিলের রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন: লুলা দা সিলভার জয়কে গণতন্ত্রের সুরক্ষা হিসেবে দেখছেন সমর্থকরা

ব্রাজিলের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পালাবদলের সাক্ষী হলো বিশ্ব। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও তীব্র উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলে শেষ পর্যন্ত বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বামপন্থী নেতা লুলা দা সিলভা। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে আরেকটি বড় সাফল্যের মুকুট পরলেন তিনি। এবারের নির্বাচনটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বিশেষ করে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণে ব্রাজিলের রাজনৈতিক মেরুকরণ ছিল স্পষ্ট।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী ভাষণে লুলা দা সিলভা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে তার ভাষণের মূল সুর ছিল রাজনৈতিক ঐক্যের বার্তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করা। সমর্থকদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি উল্লেখ করেছেন যে, এই জয় কেবল তার ব্যক্তিগত কোনো অর্জন নয়; বরং এটি ব্রাজিলের দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত গত কয়েক বছরে দেশটির রাজনীতিতে যে বিভাজন তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

নির্বাচনে লুলার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কট্টর ডানপন্থী নেতা ফ্লাভিও বলসোনারো। ভোটের লড়াইয়ে তাদের মধ্যে ব্যবধান ছিল খুবই সামান্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সামান্য ব্যবধানই প্রমাণ করে যে ব্রাজিল বর্তমানে আদর্শগতভাবে কতটা দ্বিধাবিভক্ত। একদিকে বলসোনারোর জাতীয়তাবাদী ও কট্টরপন্থী মতাদর্শ, অন্যদিকে লুলার সামাজিক ও কল্যাণমুখী রাজনীতির আদর্শ—এই দুইয়ের লড়াইয়ে দেশটির ভোটাররা চূড়ান্তভাবে লুলার ওপর আস্থা রেখেছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই লুলা দা সিলভা বারবার দেশটির সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছেন। তার সমর্থকদের মতে, লুলার এই প্রত্যাবর্তন দক্ষিণ আমেরিকার এই বিশাল দেশটিতে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে বিজয়ী হওয়ার পরপরই তার সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিভক্ত জাতিকে একত্রিত করা। তার আগের মেয়াদের অভিজ্ঞতা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে তার জনপ্রিয়তা তাকে এই কঠিন সময়ে পথ দেখাতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন তার দলের নীতিনির্ধারকরা।

লুলার বিজয়ী ভাষণ শোনার জন্য রাজধানীসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে অসংখ্য মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। তাদের স্লোগান ও উচ্ছ্বাসে মুখরিত ছিল রাজপথ। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি ছিল এই নির্বাচনের দিকে, কারণ ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি দক্ষিণ আমেরিকার পুরো ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। লুলার এই বিজয় সে কারণেই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ও আলোচিত হচ্ছে।

এখন অপেক্ষা নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের। লুলার সামনে এখন বড় দায়িত্ব হলো নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা এবং দেশজুড়ে বিরাজমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করা। ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে লুলার এই দ্বিতীয় ইনিংস কতটা সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে, তা দেখার জন্য এখন অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বিশ্ব।

সর্বশেষ
পরিবেশ রক্ষা ও জাহাজভাঙা শিল্প: সরকারি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন শেরেবাংলা ও কবি জসীমউদ্‌দীন: এক ঐতিহাসিক সম্পর্কের আখ্যান শাকিব খানের সঙ্গে কাজের প্রশ্নে মুখ খুললেন নায়িকা ব্রাজিলের রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন: লুলা দা সিলভার জয়কে গণতন্ত্রের সুরক্ষা হিসেবে দেখছেন সমর্থকরা ব্রাজিলের ক্ষমতায় ফিরলেন লুলা, নাটকীয় জয়ের মধ্য দিয়ে চতুর্থ মেয়াদের সূচনা উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ২৯ অক্টোবর প্রকাশ সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পতন, অস্বীকার হুথিদের দুবাই ও দাম্মাম রুটে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট স্থগিত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত রেকর্ডের ডামাডোলে শেষ ১৮তম সামার অ্যাথলেটিকস
Advertisement