খুঁজুন
, ,

রাজনৈতিক দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের সংকট: মনোনয়ন বাণিজ্য ও পারিবারিক নেতৃত্বের আধিপত্য

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
রাজনৈতিক দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের সংকট: মনোনয়ন বাণিজ্য ও পারিবারিক নেতৃত্বের আধিপত্য

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোতে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে প্রার্থী মনোনয়ন পর্যন্ত প্রতিটি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোতে জবাবদিহিতার জায়গাটি দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের চেয়ে ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পাচ্ছে। বিশেষ করে মনোনয়ন বাণিজ্য এবং পারিবারিক নেতৃত্বের প্রভাব দলগুলোর গঠনতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

রাজনীতিতে মনোনয়ন বাণিজ্য এমন একটি ওপেন সিক্রেট বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যা দলের তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। বিএনপির মতো বড় দলে প্রায় এক দশক ধরে কোনো কাউন্সিল অনুষ্ঠিত না হওয়া অভ্যন্তরীণ স্থবিরতারই বহিঃপ্রকাশ। এই দীর্ঘ সময়ে দলে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার পথ যেমন রুদ্ধ হয়েছে, তেমনি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামতের গুরুত্ব কমে গেছে। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাউন্সিল না হওয়ার বিষয়টি সাংগঠনিক দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। একই চিত্র দেখা যায় নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির মতো বড় দলগুলোর ক্ষেত্রেও। অভিযোগ রয়েছে, এই দলগুলোতেও প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে মেধা বা যোগ্যতার চেয়ে আর্থিক লেনদেন ও লবিংয়ের প্রভাব অনেক বেশি শক্তিশালী।

গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু এই তিনটি দলই নয়, দেশের অন্তত দশটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের কাঠামো অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। অধিকাংশ দলেই শীর্ষ নেতৃত্ব বংশপরম্পরায় বা পারিবারিক বলয় থেকে নির্ধারিত হচ্ছে। ক্ষমতার এই কেন্দ্রীভবন দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করছে। যখন কোনো দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা একটি পরিবারের বা অল্প কিছু ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত থাকে, তখন সেখানে সাধারণ কর্মী বা ত্যাগী নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এটি দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নষ্ট করছে এবং নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি রাজনৈতিক দলের শক্তি নির্ভর করে তার তৃণমূল কর্মীদের সক্রিয়তা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর। কিন্তু বর্তমানে দেশের অধিকাংশ দলই ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের প্রভাব এতটাই বেশি যে, সেখানে দলের গঠনতন্ত্রের চেয়েও ব্যক্তির ইচ্ছাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হচ্ছে। কাউন্সিল না করার প্রবণতা বা নামকাওয়াস্তে কাউন্সিল করার সংস্কৃতি দলগুলোকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে। মনোনয়ন বাণিজ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে কলুষিত করছে এবং অর্থের বিনিময়ে প্রার্থী নির্বাচনের এই রেওয়াজ দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

রাজনৈতিক দলগুলোতে সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় এই সংকট নিরসন হচ্ছে না। জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচনের সংস্কৃতি ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত এই অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বকে অবশ্যই তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং তৃণমূলের প্রকৃত অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, গণতান্ত্রিক রাজনীতির যে মূল ভিত্তি, তা নড়বড়ে হয়ে পড়বে এবং সাধারণ জনগণের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর গ্রহণযোগ্যতা আরও হ্রাস পাবে।

মিরপুরে পরিস্থিতির উন্নতি, স্বাভাবিক যান চলাচল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
   
মিরপুরে পরিস্থিতির উন্নতি, স্বাভাবিক যান চলাচল

দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার অস্থিরতা ও উত্তেজনার পর অবশেষে মিরপুরের পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সকাল থেকে এলাকাটিতে যে থমথমে ভাব বিরাজ করছিল, বর্তমানে তা কেটে গেছে এবং সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালের দিকে হঠাৎ করেই মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এক পর্যায়ে এই বিক্ষোভ থেকে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর ফলে রাজধানী ঢাকার এই অন্যতম ব্যস্ত এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে আশপাশের এলাকাগুলোতেও। টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা দফায় দফায় সংঘর্ষের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তির শিকার হন কর্মজীবী ও সাধারণ যাত্রীরা।

পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে নামে। তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। শ্রমিকদের শান্ত করার পাশাপাশি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিপুল সংখ্যায় মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিক্ষোভকারীরা সড়ক থেকে সরে যাওয়ার পরই মূলত যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। বর্তমানে মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সড়কে যেন নতুন করে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং তল্লাশি চালাচ্ছে।

সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পোশাক শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কোনো সংঘাত যেন বড় কোনো অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে যারা সরাসরি জড়িত ছিল, তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য বিশেষ তৎপরতা চালাচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী।

এদিকে সড়ক স্বাভাবিক হওয়ার পর মিরপুরের জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় খুলতে দেখা গেছে। গণপরিবহন চলাচল শুরু করায় দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান ঘটেছে। তবে এলাকাটি জুড়ে এখনও পুলিশের কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হঠাৎ করে শুরু হওয়া এই বিশৃঙ্খলায় তারা বেশ ভীত ছিলেন, তবে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় এখন কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। আপাতত মিরপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন অব্যাহত রাখা হয়েছে।

আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় শিবচরে জামায়াত নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় শিবচরে জামায়াত নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাইজুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এই ঘটনার জেরে রবিবার সকালে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে তাইজুল ইসলামের বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। উত্তেজিত জনতা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তাইজুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর নিলখী ইউনিয়ন শাখার একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। রবিবার সকালে শত শত নারী-পুরুষ সংঘবদ্ধ হয়ে ওই জামায়াত নেতার বাড়িতে চড়াও হন। এক পর্যায়ে তারা বাড়িটি ঘিরে ফেলে ভাঙচুর শুরু করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা একাধিক ব্যক্তি জানান, পরিস্থিতি এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বিক্ষুব্ধ মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙচুর চালায়। এ সময় ওই নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে দেখা যায়নি। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ জড়ো হয়ে ওই নেতার কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুরের মাধ্যমে তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটান। ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলার তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে জনমনে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক নেতা হওয়া সত্ত্বেও এমন একটি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ স্থানীয়রা মেনে নিতে পারছেন না। অভিযুক্ত ওই নেতা ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও গ্রামজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা গুঞ্জন চলছে। তবে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেয়নি।

এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু: আবেদনের সময়সীমা ও বিস্তারিত নির্দেশিকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু: আবেদনের সময়সীমা ও বিস্তারিত নির্দেশিকা

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ বা উত্তরপত্র পুনরায় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য এই আবেদনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। যারা পরীক্ষার ফলাফলে সন্তুষ্ট নন অথবা যাদের প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে কোনো সংশয় রয়েছে, তারা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বোর্ড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফল পুনর্নিরীক্ষণের এই আবেদন প্রক্রিয়া আজ ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এই সুবিধার আওতায় আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে তাদের আবেদন জমা দিতে পারবেন। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। তাই আগ্রহীদের অবশ্যই এই সময়ের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদনের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং অনলাইনভিত্তিক করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের আবেদনের জন্য শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট লিঙ্কে গিয়ে শিক্ষার্থীর রোল নম্বর এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে ইনপুট দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর প্রদর্শিত নির্দেশিকা অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন করে আবেদন সম্পন্ন করা যাবে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য বোর্ডের নির্ধারিত ফি বা চার্জ অনলাইনে বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এই পুনর্নিরীক্ষণ বা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে। অনেকে দেখা যায় পরীক্ষার সময় যেমনটি আশা করেছিলেন, মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সে অনুযায়ী নম্বর পাননি। এ ধরনের জটিলতা নিরসনে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শিক্ষা বোর্ডগুলো এই প্রক্রিয়াটি সহজতর করেছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আবেদনকারীদের প্রতিটি খাতার নম্বর পুনরায় যাচাই করা হবে এবং কোনো অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে তা সংশোধন করে ফলাফল আপডেট করা হবে।

শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে যে, আবেদন করার সময় রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর যেন নির্ভুলভাবে দেওয়া হয়। কোনো ধরনের ভুল তথ্যের কারণে আবেদন প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া মোবাইল নম্বর সঠিকভাবে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে, যাতে পরবর্তীতে বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য বা আপডেট থাকলে তা সহজেই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো যায়। আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে শিক্ষার্থীরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের হেল্পলাইন বা ওয়েবসাইটের সহায়তায় যোগাযোগ করতে পারবেন।

পরীক্ষার খাতা পুনরায় দেখার এই সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক। যদিও এর মাধ্যমে কেবল প্রাপ্ত নম্বর যোগফল বা বাদ পড়া প্রশ্নের উত্তরের মূল্যায়ন পুনরায় পরীক্ষা করা হয়, এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি আস্থার জায়গা তৈরি করে। সাত দিনের এই সময়সীমার মধ্যে যারা পুনর্নিরীক্ষণ করতে ইচ্ছুক, তাদের দ্রুততার সাথে আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দিচ্ছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। আশা করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ফলাফল সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

সর্বশেষ
মিরপুরে পরিস্থিতির উন্নতি, স্বাভাবিক যান চলাচল আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় শিবচরে জামায়াত নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু: আবেদনের সময়সীমা ও বিস্তারিত নির্দেশিকা চোটের কারণে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ছিটকে গেলেন রোনান সুলিভান সাজেক রুটে পাল্টাপাল্টি অবরোধে স্থবির যান চলাচল, চরম ভোগান্তিতে পর্যটক ও স্থানীয়রা রাজনৈতিক দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের সংকট: মনোনয়ন বাণিজ্য ও পারিবারিক নেতৃত্বের আধিপত্য মিরপুর ১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিকাণ্ড মিরপুর‑১০-এ শ্রমিকদের প্রতিবাদে পুলিশ নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন মৌসুমের সূচনা, তবে জাহাজ চলাচল এখনও স্থগিত ইরান তেহরান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হামলার হুমকি, নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে
Advertisement