বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের দুই পরিচিত ব্যক্তিত্ব নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলামকে নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, তারা জাতীয় ক্রিকেট পার্টি বা এনসিপি নামক কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত হচ্ছেন কি না, তা নিয়ে জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই তথ্যের সত্যতা এবং তাদের রাজনৈতিক অভিযাত্রা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
এম নাজমুল ইসলামের নাম অতীতেও বিভিন্ন সময় ক্রীড়া প্রশাসনের বিতর্কে উঠে এসেছে। বিশেষ করে যখন তিনি বিসিবি পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, তখন একটি নির্দিষ্ট বক্তব্য তাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়লে বা কোনো কারণে খেলতে না পারলে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে তার দেওয়া বক্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই সময়ে তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রিকেটাররা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা কোয়াব তার পদত্যাগের দাবিতে আল্টিমেটাম পর্যন্ত দিয়েছিল। সেই বিতর্কিত অধ্যায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তার নতুন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার খবরে ক্রীড়ামহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ক্রিকেট কোচ এবং বিশ্লেষক হিসেবে নাজমুল আবেদীন ফাহিমের সুনাম রয়েছে। দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে তার দীর্ঘদিনের অবদান অনস্বীকার্য। একজন সফল কোচ হিসেবে তিনি বহু তারকার পথপ্রদর্শক ছিলেন। তার মতো একজন ব্যক্তি রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন কি না, তা নিয়েও অনুরাগীদের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক খবরগুলোতে যে তথ্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা মূলত একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ। এনসিপি নামের কোনো দল কিংবা সংগঠনে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো বিবৃতি বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি যা নিশ্চিত করতে পারে যে তারা সরাসরি রাজনীতিতে নাম লেখাতে চলেছেন।
রাজনীতিতে ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণ নতুন কিছু নয়। অতীতেও অনেক খেলোয়াড় ও সংগঠক সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নিয়েছেন। তবে নাজমুল আবেদীন এবং নাজমুল ইসলামকে ঘিরে যে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে, তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন। ক্রিকেটপাড়া বা সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে এই খবরটি বেশ কৌতুহলোদ্দীপক হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আপাতত এই পুরো বিষয়টি গুঞ্জনের পর্যায়েই রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিশেষে, দেশের ক্রীড়াঙ্গন যখন উন্নয়নের নতুন নতুন ধাপ পেরিয়ে যাচ্ছে, তখন ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা মাঠের ক্রিকেটে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ক্রীড়া ও রাজনীতির মেলবন্ধন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সবসময়ই গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনগুলোতে এই গুঞ্জন কতটা বাস্তবে রূপ নেয় বা আদৌ তারা এনসিপির মতো কোনো প্ল্যাটফর্মে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন কি না। আপাতত সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই সংবাদটি কেবলমাত্র জল্পনা-কল্পনার সীমাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ