ইলন মাস্কের নিউরালিংক থেকে টেলিপ্যাথি ও ব্লাইন্ডসাইটের নতুন চিপের সূচনা
সিলিকন ভ্যালির অন্যতম উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠান নিউরালিংক, ইলন মাস্কের নেতৃত্বে, টেলিপ্যাথি ও ব্লাইন্ডসাইট নামে দুইটি উচ্চপ্রযুক্তি ভিত্তিক ব্রেন‑কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI) চিপের প্রোটোটাইপ সম্পন্ন করেছে বলে প্রকাশ করেছে। এই চিপগুলো মানব মস্তিষ্কের সিগন্যালকে সরাসরি ডিজিটাল ডেটায় রূপান্তর করে, ফলে শব্দের মাধ্যমে না শোনার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা দৃশ্যমান তথ্য গ্রহণ করতে সক্ষম হবে এবং দুজনের মধ্যে শব্দবিহীন যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
নিউরালিংক কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টেলিপ্যাথি চিপ মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট নিউরন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে চিন্তা‑চিন্তার সিগন্যালকে রিয়েল‑টাইমে অন্য ডিভাইসে প্রেরণ করতে পারে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবহারকারী তার চিন্তা সরাসরি অন্যের কাছে পাঠাতে পারবে, যা ভবিষ্যতে ভাষা বাধা অতিক্রমের নতুন উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে, ব্লাইন্ডসাইট চিপ দৃষ্টিশক্তি হারানো রোগীদের জন্য ভিজ্যুয়াল তথ্যকে মস্তিষ্কের ভিজ্যুয়াল কর্টেক্সে সরাসরি প্রেরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে নিউরালিংক চিপটি বিদ্যুৎহীন, সেলফ‑পাওয়ারড এবং মস্তিষ্কের টিস্যুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপাদান দিয়ে তৈরি। কোম্পানি দাবি করে যে চিপের আকার এক চা চামচের চেয়ে ছোট এবং এটি মস্তিষ্কের পৃষ্ঠে অল্প আঘাতের মাধ্যমে স্থাপন করা সম্ভব। এছাড়া, ডেটা এনক্রিপশন ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য উন্নত সাইবার সিকিউরিটি প্রোটোকল যুক্ত করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীর মস্তিষ্কের তথ্য অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষের কাছে না পৌঁছায়।
ইলন মাস্কের মতে, এই প্রযুক্তি শুধুমাত্র চিকিৎসা ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষা, গেমিং এবং দূরবর্তী কাজের পরিবেশেও বিপ্লব ঘটাতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, টেলিপ্যাথি চিপের মাধ্যমে একাধিক ব্যবহারকারী একই সময়ে একে অপরের সঙ্গে মস্তিষ্ক‑মস্তিষ্ক সংযোগ স্থাপন করতে পারবে, যা ভবিষ্যতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা দেবে। তবে, এই ধরনের প্রযুক্তির নৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে গোপনীয়তা, ডেটা মালিকানা এবং সম্ভাব্য অপব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে।
নিউরালিংক এখন চিপের ক্লিনিকাল ট্রায়াল পর্যায়ে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আগামী দুই বছর মধ্যে প্রথম মানব পরীক্ষার সূচনা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই সময়ে কোম্পানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সঙ্গে সহযোগিতা করে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য বিস্তৃত ডেটা সংগ্রহ করবে। যদি সফল হয়, টেলিপ্যাথি ও ব্লাইন্ডসাইট চিপের বাণিজ্যিক রিলিজ মানব মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়িয়ে নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে বিশ্লেষকরা আশাবাদী।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]