আইটি পেশার পাশাপাশি খাবারের ব্যবসায় সফল দুই তরুণ, মাসে আয় ৬ লাখ রুপি
কর্পোরেট জগতের ব্যস্ততা আর আইটি খাতের গৎবাঁধা জীবন থেকে বেরিয়ে এসে ভিন্ন কিছু করার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। তবে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে সফল হওয়ার গল্প সচরাচর দেখা যায় না। সম্প্রতি ভারতের নয়ডায় এমন এক নজির স্থাপন করেছেন দুই তরুণ প্রযুক্তিবিদ। নিয়মিত চাকরির পাশাপাশি খাবারের ব্যবসায় নেমে তারা কেবল মুনাফাই অর্জন করছেন না, বরং সাধারণ মানুষের মাঝেও দারুণ সাড়া ফেলেছেন। তাদের এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে লাহাম।
নয়ডার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় তাদের এই ছোট্ট ফুড কার্টটি এখন এলাকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। এই ফুড কার্টের মূল বৈশিষ্ট্য হলো তাদের বিশেষ এক আইটেম, যার নাম রাখা হয়েছে নামকিন গোশত। এটি এতটাই সুস্বাদু এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে, প্রতিদিন সন্ধ্যায় কার্ট খোলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব খাবার বিক্রি হয়ে যায়। স্থানীয়দের আগ্রহ এত বেশি যে, প্রায়ই দেখা যায় খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক গ্রাহককে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। গত শনিবার রাতের একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয়দের আলোচনায় উঠে আসে। কার্টের সামনে দীর্ঘ লাইন এবং খাবার শেষ হয়ে যাওয়ার পর এক শিশুর মন খারাপ করার ঘটনা থেকেই বোঝা যায় যে, লাহামের খাবারের চাহিদা কতটা তুঙ্গে।
এই দুই তরুণের মূল পেশা মূলত তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। দিনের বেলায় তারা আইটি কোম্পানিতে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন এবং দিনশেষে সন্ধ্যায় সময় বের করে এই ফুড কার্টটি পরিচালনা করেন। তাদের কাজের প্রতি এই নিষ্ঠা এবং শখের কাজকে পেশাদারিত্বের সাথে মিশিয়ে ফেলার মানসিকতা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তিবিদ হয়েও রান্নার কাজে তাদের এই পারদর্শিতা অবাক করার মতোই। তারা নিজের হাতে খাবার তৈরি এবং পরিবেশন করেন, যা গ্রাহকদের কাছে আরও আস্থাশীল করে তুলেছে।
আর্থিক দিক থেকেও তাদের এই নতুন যাত্রা অত্যন্ত সফল। সূত্র অনুযায়ী, বর্তমান ব্যবসার গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের এই ফুড কার্ট থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬ লাখ রুপি আয় হচ্ছে। একটি ছোট্ট ফুড কার্টের জন্য এই অঙ্ক সত্যিই ঈর্ষণীয়। আইটি খাতের বেতনের পাশাপাশি এই বাড়তি আয় এবং নিজের উদ্যোগের সফলতা তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে তারা শুধু আয়ের দিকেই মনোযোগ দেননি, বরং খাবারের মান এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও যথেষ্ট সতর্ক থাকেন।
বর্তমান সময়ে চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মধ্যে দাঁড়িয়ে এই দুই তরুণ প্রমাণ করেছেন যে, ইচ্ছা থাকলে এবং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে যে কোনো পেশার মানুষই নিজের প্রতিভাকে নতুনভাবে মেলে ধরতে পারেন। প্রথাগত আইটি ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তারা খাবারের ব্যবসায় যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখা তরুণদের জন্য একটি চমৎকার উদাহরণ। তবে তারা এখনই আইটি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছেন কিনা, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আপাতত তাদের লক্ষ্য হলো এই সফলতাকে ধরে রাখা এবং আরও বেশি মানুষের কাছে তাদের খাবারের স্বাদ পৌঁছে দেওয়া। তাদের এই এগিয়ে চলা ভারতের স্টার্টআপ সংস্কৃতির এক নতুন ধারার সূচনা করেছে, যেখানে দক্ষ পেশাজীবীরা কেবল ডেস্কের সামনেই আটকে না থেকে সৃজনশীল কাজেও নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করছেন।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]