ধর্মীয় পোশাকের আড়ালে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে: জহির উদ্দিন স্বপন
বর্তমানে সমাজে এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে ধর্মীয় লেবাস বা পোশাক ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যকে পুঁজি করে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ফায়দা লোটার যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক নৈতিক কাঠামোর জন্য হুমকি স্বরূপ। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন এমন মন্তব্য করে এই প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আজকাল অনেক ক্ষেত্রেই ধর্মের চর্চাকে প্রকৃত উপাসনা হিসেবে না দেখে একটি অভিনয় বা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
সোমবার বরিশাল নগরীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সম্প্রীতি বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুভূতির সুযোগ নিয়ে অনেকে নিজের আখের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত। বিশেষ করে ওয়াজের ময়দানে ইসলাম ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা প্রচারের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিকৃত কথাবার্তা ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ধর্মের পবিত্রতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। ধর্মের মূল কথা হলো শান্তি, সততা ও মানবিকতা, অথচ বর্তমান সময়ে ধর্মের খোলস পরে যারা এসব কাজ করছে, তারা শুরু থেকেই মূল শিক্ষা ও আদর্শকে উপেক্ষা করে আসছে।
জহির উদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেন যে, ধর্মীয় লেবাস কেবল পোশাকের ওপর নির্ভর করে না, এটি হৃদয়ের বিশ্বাসের বিষয়। যখন কোনো ব্যক্তি ধর্মীয় পোশাককে সামাজিক স্ট্যাটাস বা নিজের অন্ধকার জগৎ আড়াল করার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন, তখন তা পুরো ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর জন্য অসম্মানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ধর্মকে পুঁজি করে স্বার্থসিদ্ধির এই অপচেষ্টা কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিচ্ছে। তিনি সমাজের সচেতন মহলকে এই ধরনের ভণ্ডামির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারাও বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বলেন, ধর্মের নামে উগ্রবাদ বা ব্যবসায়িক মনোভাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মচর্চার নামে যারা নাটকীয়তা করছে, তাদের শনাক্ত করে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব রাষ্ট্রের পাশাপাশি পরিবারেরও রয়েছে। জহির উদ্দিন স্বপন তার বক্তব্যে আরও জোর দিয়ে বলেন, অশুভ শক্তির এই প্রতিযোগিতা রোধ করতে হলে ধর্মীয় শিক্ষার সঠিক প্রচার নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ করে সমাজে প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা ধর্মের নামে যারা অসংলগ্ন বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তাদের বয়কট করতে শুরু করেছে। ধর্মের পবিত্রতা বজায় রাখতে এবং যারা এটিকে পুঁজি করে ফায়দা লুটছে তাদের মুখোশ উন্মোচনে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]