গাজীপুর ও রাজধানীর মিরপুরে রবিবার সীমিত মাত্রায় শুরু হওয়া পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০ টাকার দাবী আজ (২ নভেম্বর) সাভার‑আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিস্তৃত হয়েছে। শ্রমিকরা রাস্তায় গিয়ে মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভের শৃঙ্খল চালিয়ে গেছেন।
সাভার‑আশুলিয়া এলাকায় প্রায় ২৬৪টি পোশাক কারখানা রয়েছে; এই সব কারখানার শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে প্রধান সড়কগুলো অবরুদ্ধ করে, ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি করে এবং গৃহস্থালীর পণ্য সরবরাহে বাধা দেয়। কর্মীরা মঞ্চে মাইক্রোফোনে তাদের দাবি পুনরাবৃত্তি করে, যেখানে মজুরি না বাড়লে উৎপাদন বন্ধের হুমকি দেয়া হয়েছে।
বিক্ষোভের সময় কিছু শ্রমিকের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটেছে। পুলিশ গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য গুলিবর্ষণ, ড্রাইভিং রেজার এবং গ্যাস ব্যবহার করেছে; ফলে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিছু এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্র পাওয়া গিয়েছে, যেখানে শ্রমিকরা গাড়ি ও সাময়িক কাঠামোতে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদকে তীব্রতর করেছে।
নারায়ণগঞ্জেও একই রকম পরিস্থিতি দেখা গেছে। শ্রমিকরা স্থানীয় রাস্তায় গিয়ে গাড়ি থামিয়ে, মজুরি না বাড়লে উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে, তবে কিছু সময়ে ধাওয়া‑পাল্টা এবং গুলিবর্ষণ ঘটেছে। এখানে কোনো বড় অগ্নিকাণ্ডের রিপোর্ট না থাকলেও, কিছু ছোটখাটো দাহ্য বস্তু পুড়িয়ে প্রতিবাদকে তীব্র করা হয়েছে।
পুলিশের মুখ্য মুখপাত্রের মতে, বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান দায়িত্ব। তিনি জানান, অবৈধভাবে রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করা, গুলিবর্ষণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়া হবে। তবে শ্রমিকদের দাবির প্রতি সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি এখনও স্পষ্ট নয়; মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।
পোশাকশ্রমিকদের বর্তমান ন্যূনতম মজুরি ২০,০০০ টাকা; তারা দাবি করে যে ৩০,০০০ টাকায় বৃদ্ধি পেলে জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা হবে। শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বলছে, যদি এই দাবি পূরণ না হয়, তবে তারা উৎপাদন বন্ধের হুমকি পুনরায় জানাবে, যা দেশের রপ্তানি আয় এবং কর্মসংস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিক্ষোভের ফলে সাভার‑আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের প্রধান রাস্তায় গাড়ি চলাচল ব্যাহত হয়েছে; কিছু বাস ও ট্রাকের রুট পরিবর্তন করতে হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রয় হ্রাসের মুখোমুখি হয়েছে এবং কর্মচারীরা নিরাপত্তা উদ্বেগে কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, শ্রমিকদের এই ধরনের সমন্বিত আন্দোলন দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। মজুরি বৃদ্ধি না হলে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পেতে পারে, তবে অতিরিক্ত মজুরি চাপের ফলে উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারকে উভয় দিকের স্বার্থ বিবেচনা করে দ্রুত সমঝোতা করা জরুরি।
আজকের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে, শ্রমিক ও পুলিশ উভয়েরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে কি সমঝোতা হবে, নাকি বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়বে, তা সময়ই বলবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ৮:১৫ অপরাহ্ণ