খুঁজুন
, ,

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় ঠেকাতে ভেটো ক্ষমতার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় ঠেকাতে ভেটো ক্ষমতার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতার ভারসাম্যের লড়াই এখন তুঙ্গে। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলই মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হলে তিনি কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের কোনো কক্ষ বা উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তবে তাদের উত্থাপিত যেকোনো বিল আটকে দিতে তিনি তার সাংবিধানিক ভেটো ক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাবেন। তিনি নিজেকে মিস্টার ভেটো হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথে তিনি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে প্রস্তুত আছেন।

নির্বাচনী বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য মার্কিন রাজনীতির মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তা ও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ বড় হয়ে দাঁড়ায়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। ট্রাম্পের এই হুশিয়ারি মূলত তার নিজের সমর্থকদের চাঙ্গা করার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে। ডেমোক্র্যাটরা যদি আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আধিপত্য বিস্তার করতে পারে, তবে হোয়াইট হাউসের সাথে কংগ্রেসের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হতে পারে। সে কারণেই ট্রাম্প আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রাখলেন যে, তিনি কোনো অবস্থাতেই ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ দাপট মেনে নেবেন না।

এদিকে, শুধু কেন্দ্রীয় রাজনীতিই নয়, স্থানীয় পর্যায়েও রিপাবলিকানদের আধিপত্য বজায় রাখা বা ভাঙার লড়াই বেশ জোরেশোরে চলছে। বিশেষ করে টেক্সাসের মতো রাজ্যগুলোতে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা উঠেপড়ে লেগেছেন পুরনো দুর্গগুলো ভেঙে নতুন করে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে। টেক্সাসের নির্বাচনী রাজনীতিতে ৩৭ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী টালারিকোর মতো তরুণ নেতৃত্বের উত্থান বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই লড়াই কেবল স্থানীয় নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণেও ভূমিকা রাখবে।

নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, দুই দলের প্রার্থীদের কথার লড়াই ততই তীব্র হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা প্রচার চালাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো ইস্যুগুলোতে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা মূলত অভিবাসন নীতি, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং ট্রাম্পের গৃহীত প্রকল্পগুলোর ওপর ভিত্তি করে ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভেটো দেওয়ার ঘোষণা একদিকে যেমন তার দলের কর্মীদের আশ্বস্ত করছে, অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ এটিকে ক্ষমতার অপব্যবহারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে। তবে নির্বাচনী ফলাফল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। ভোটারদের রায়ই নির্ধারিত করবে আগামী দিনে আমেরিকার রাজনীতি কোন পথে হাঁটবে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা কতটা কার্যকর হবে। সমগ্র বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলের দিকে।

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দাবিতে সাভার‑আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
   
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দাবিতে সাভার‑আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ

গাজীপুর ও রাজধানীর মিরপুরে রবিবার সীমিত মাত্রায় শুরু হওয়া পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০ টাকার দাবী আজ (২ নভেম্বর) সাভার‑আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিস্তৃত হয়েছে। শ্রমিকরা রাস্তায় গিয়ে মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভের শৃঙ্খল চালিয়ে গেছেন।

সাভার‑আশুলিয়া এলাকায় প্রায় ২৬৪টি পোশাক কারখানা রয়েছে; এই সব কারখানার শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে প্রধান সড়কগুলো অবরুদ্ধ করে, ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি করে এবং গৃহস্থালীর পণ্য সরবরাহে বাধা দেয়। কর্মীরা মঞ্চে মাইক্রোফোনে তাদের দাবি পুনরাবৃত্তি করে, যেখানে মজুরি না বাড়লে উৎপাদন বন্ধের হুমকি দেয়া হয়েছে।

বিক্ষোভের সময় কিছু শ্রমিকের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটেছে। পুলিশ গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য গুলিবর্ষণ, ড্রাইভিং রেজার এবং গ্যাস ব্যবহার করেছে; ফলে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিছু এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্র পাওয়া গিয়েছে, যেখানে শ্রমিকরা গাড়ি ও সাময়িক কাঠামোতে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদকে তীব্রতর করেছে।

নারায়ণগঞ্জেও একই রকম পরিস্থিতি দেখা গেছে। শ্রমিকরা স্থানীয় রাস্তায় গিয়ে গাড়ি থামিয়ে, মজুরি না বাড়লে উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে, তবে কিছু সময়ে ধাওয়া‑পাল্টা এবং গুলিবর্ষণ ঘটেছে। এখানে কোনো বড় অগ্নিকাণ্ডের রিপোর্ট না থাকলেও, কিছু ছোটখাটো দাহ্য বস্তু পুড়িয়ে প্রতিবাদকে তীব্র করা হয়েছে।

পুলিশের মুখ্য মুখপাত্রের মতে, বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান দায়িত্ব। তিনি জানান, অবৈধভাবে রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করা, গুলিবর্ষণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়া হবে। তবে শ্রমিকদের দাবির প্রতি সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি এখনও স্পষ্ট নয়; মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।

পোশাকশ্রমিকদের বর্তমান ন্যূনতম মজুরি ২০,০০০ টাকা; তারা দাবি করে যে ৩০,০০০ টাকায় বৃদ্ধি পেলে জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা হবে। শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বলছে, যদি এই দাবি পূরণ না হয়, তবে তারা উৎপাদন বন্ধের হুমকি পুনরায় জানাবে, যা দেশের রপ্তানি আয় এবং কর্মসংস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিক্ষোভের ফলে সাভার‑আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের প্রধান রাস্তায় গাড়ি চলাচল ব্যাহত হয়েছে; কিছু বাস ও ট্রাকের রুট পরিবর্তন করতে হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রয় হ্রাসের মুখোমুখি হয়েছে এবং কর্মচারীরা নিরাপত্তা উদ্বেগে কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, শ্রমিকদের এই ধরনের সমন্বিত আন্দোলন দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। মজুরি বৃদ্ধি না হলে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পেতে পারে, তবে অতিরিক্ত মজুরি চাপের ফলে উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারকে উভয় দিকের স্বার্থ বিবেচনা করে দ্রুত সমঝোতা করা জরুরি।

আজকের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে, শ্রমিক ও পুলিশ উভয়েরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে কি সমঝোতা হবে, নাকি বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়বে, তা সময়ই বলবে।

অস্ট্রেলিয়ায় এআইইউবির প্রতিনিধিত্বে একাডেমিক সহযোগিতা জোরদার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
   
অস্ট্রেলিয়ায় এআইইউবির প্রতিনিধিত্বে একাডেমিক সহযোগিতা জোরদার

২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে এআইইউবির (American International University‑Bangladesh) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস‑চেয়ারম্যান, পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের (এপিইউবি) সেক্রেটারি‑জেনারেল ইশতিয়াক আবেদীন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। তিনি বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সহযোগিতা বিস্তারের লক্ষ্যে গঠিত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের অংশ ছিলেন।

সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে দু’দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একাডেমিক পার্টনারশিপ, যৌথ গবেষণা প্রকল্প এবং ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন প্রোগ্রামের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ আলোচনায় দু’পক্ষই দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষার্থী বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের নতুন মডেল গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়।

এরপর অস্ট্রেলিয়ান ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশনের (অস্ট্রেড) সদর দফতরে একটি বৈঠকে ইশতিয়াক আবেদীন অস্ট্রেডের এলোদি জুরনে, ভিক সিং, মোস্তাফিজুর রহমান এবং স্যান্ডি সেনেভিরের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এখানে দুই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা, স্টার্ট‑আপ ইকোসিস্টেমের সংযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিত করা হয়। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম এবং স্কলারশিপ স্কিম চালু করার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের (এবিবিএফ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপের সময়ও ইশতিয়াক আবেদীন উচ্চশিক্ষা ছাড়াও বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার দরজা খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এবিবিএফের সঙ্গে আলোচনায় দু’দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ইন্টার্নশিপ ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম স্থাপনের সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়।

একই সময়ে এআইইউবির জনসংযোগ কর্মকর্তা সাদি ইসলাম আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন (AIIC 2026)‑এ অংশ নেন, যা সিডনির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী শিক্ষা সংস্থার প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ, নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র এবং পার্টনারশিপের মডেল নিয়ে মতবিনিময় করেন। সাদি ইসলাম এআইইউবির দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম গড়ে তোলার পরিকল্পনা শেয়ার করেন।

সামগ্রিকভাবে, এই সফরটি বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার উচ্চশিক্ষা খাতের মধ্যে সেতুবন্ধন শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইশতিয়াক আবেদীন ও এআইইউবির প্রতিনিধিদের লক্ষ্য হল দু’দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী পার্টনারশিপ গড়ে তোলা, গবেষণার মানোন্নয়ন করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ সৃষ্টি করা। ভবিষ্যতে এই ধরনের সহযোগিতা উভয় দেশের অর্থনৈতিক ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালানের মামলায় মিনহাজের পাঁচ দিনের রিমান্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালানের মামলায় মিনহাজের পাঁচ দিনের রিমান্ড

রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিনব কৌশলে স্বর্ণ পাচারের অভিযোগে আটক মোহাম্মাদ মিনহাজ নামের এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়। মামলার নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ধৃত মিনহাজ গত কয়েকদিন আগে বিমানবন্দর দিয়ে ভ্রমণের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে পড়েন। তল্লাশির এক পর্যায়ে তার পায়ুপথে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ডিম্বাকৃতির স্বর্ণের পেস্ট জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা এই স্বর্ণের ওজন প্রায় ১ কেজি ৬৬২ গ্রাম বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। অবৈধভাবে দেশে স্বর্ণ প্রবেশের চেষ্টার ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তদন্তকারী সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মো. হাবিবুল হাসিব আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিলেন। আদালতে উপস্থাপন করা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আটক ব্যক্তি এই চোরাচালানের সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য কি না, বা কারা এর নেপথ্যে কাজ করছে, তা উদ্ঘাটন করা জরুরি। এ ছাড়াও উদ্ধার করা স্বর্ণ কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, তা নিশ্চিত হতে মিনহাজকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। শুনানি শেষে বিচারক আবেদন পর্যালোচনা করে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আসামি মিনহাজ স্বর্ণ পাচারের বিষয়টি গোপনীয় রাখার জন্য শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশে ডিমের মতো আকৃতি দিয়ে বিশেষ মণ্ড তৈরি করে লুকিয়ে রেখেছিলেন। এয়ারপোর্টের স্ক্যানিং ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হলে বিষয়টি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে জব্দ করা স্বর্ণের মণ্ড থেকে বিশদ প্রক্রিয়া চালিয়ে মূল স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় বিমানবন্দর এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিনহাজ নিজের অপরাধের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছে, তবে সেসব তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং এই চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করার লক্ষ্যে রিমান্ডে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর আগে থেকেই বিমানবন্দর দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালান বন্ধে শুল্ক গোয়েন্দা ও বিমানবন্দর পুলিশ তৎপর রয়েছে। এই ঘটনার পর পাচারকারী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আদালতে হাজির করার পর মিনহাজকে এখন পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই ঘটনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিমান্ড চলাকালীন প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সর্বশেষ
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দাবিতে সাভার‑আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ অস্ট্রেলিয়ায় এআইইউবির প্রতিনিধিত্বে একাডেমিক সহযোগিতা জোরদার বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালানের মামলায় মিনহাজের পাঁচ দিনের রিমান্ড মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় ঠেকাতে ভেটো ক্ষমতার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের এক মাসের ব্যবধানে ফের বাড়ল এলপিজির দাম সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শুরু কুমিল্লায় আবাসিক মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার শিক্ষক ওমর আবদুল্লাহর বিয়ে নিয়ে ধর্মীয় বিতর্ক: অবৈধ দাবির নেপথ্যে কী? মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল রাখলেন চেম্বার আদালত আইটি পেশার পাশাপাশি খাবারের ব্যবসায় সফল দুই তরুণ, মাসে আয় ৬ লাখ রুপি
Advertisement