মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল রাখলেন চেম্বার আদালত
সাবেক সংসদ সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কারামুক্তির পথ সুগম হলো। উচ্চ আদালতের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনটি আজ খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে হাইকোর্ট থেকে প্রাপ্ত তার জামিন বহাল থাকছে এবং তার মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না বলে আইনজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
সোমবার সকালে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালতে এই জামিন সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। এরপর আদালত সুনির্দিষ্টভাবে কোনো আদেশ প্রদান না করার অর্থ হলো, হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের আদেশটি বহাল রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিন স্থগিতের আবেদন করলেও আদালত তাতে সাড়া দেননি। স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ায়, এখন প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর পর তার কারামুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এর আগে, গত রবিবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে জামিন প্রদানের আদেশ দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের সেই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাষ্ট্রপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করে। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি ছিল, অপরাধের ধরণ ও মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে জামিন দেওয়া সমীচীন হয়নি। তবে আজ চেম্বার আদালত রাষ্ট্রপক্ষের সেই আবেদন নাকচ করে দেওয়ায় উচ্চ আদালতের জামিন আদেশই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কারাভোগ করছিলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। তার বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া এখনো চলমান থাকলেও, বর্তমান জামিন আদেশটি তার জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। তার আইনজীবী প্যানেল আশা করছেন, উচ্চ আদালতের এই আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পরপরই প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি মুক্তি পাবেন।
আইনজীবীদের মতে, চেম্বার আদালতে জামিন বহাল থাকার এই ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মামলার মেরিট এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করেই উচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, তার মুক্তির পরবর্তী আইনি পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্রপক্ষ কীভাবে গ্রহণ করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জামিনের কোনো ধরনের আইনি জটিলতা আপাতত আর নেই বলেই নিশ্চিত হওয়া গেছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]