খুঁজুন
, ,

যশোর বিএনপি কার্যালয়ে চালু হলো ২ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
যশোর বিএনপি কার্যালয়ে চালু হলো ২ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা

যশোর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। বুধবার, ২১ অক্টোবর দুপুরে দুই কিলোওয়াট উৎপাদনক্ষমতার এই ব্যবস্থা উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। রাজনৈতিক দলের কোনো কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ চালুর ঘটনা দেশে প্রথম বলে জানানো হয়েছে।

কার্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ব্যবস্থাটি স্থাপন করা হয়েছে। উদ্বোধনের সময় প্রতিমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করেন। এর মাধ্যমে দলীয় কার্যালয়ের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর কথা বলা হয়েছে। তবে উদ্বোধনের দিন কত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে, কার্যালয়ের দৈনিক চাহিদা কত কিংবা উৎপাদিত বিদ্যুতের কত অংশ সরাসরি ব্যবহৃত হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ব্যবস্থাটির উৎপাদনক্ষমতা দুই কিলোওয়াট। এই সংখ্যা থেকে স্থাপিত সিস্টেমের নির্ধারিত ক্ষমতা বোঝা যায়; নির্দিষ্ট দিনে বাস্তবে কত বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, তা আলাদা হিসাবের বিষয়। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সূর্যালোকের প্রাপ্যতা ও ব্যবহারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। ফলে ঘোষিত ক্ষমতাকে প্রতিদিন একই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যায় না।

রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর ঘটনাটি একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় নবায়নযোগ্য শক্তি যুক্ত হওয়ার দৃষ্টান্ত। তবে একটি কার্যালয়ে ব্যবস্থা চালু হওয়া মানেই অন্য কার্যালয়গুলোতেও একই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন নয়। দেশের সব রাজনৈতিক দলের কার্যালয় বা সরকারি-বেসরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিস্তার সম্পর্কেও এ ঘটনায় কোনো সামগ্রিক পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

নিজস্ব অর্থায়নে স্থাপন করার বিষয়টি উদ্যোগটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক। অর্থায়নের পরিমাণ, স্থাপনে কত সময় লেগেছে, যন্ত্রপাতির ধরন কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার—এসব তথ্য প্রকাশিত বিবরণে নেই। তাই প্রকল্পটির মোট ব্যয় বা দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় সম্পর্কে নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়। এসব তথ্য ছাড়া উদ্যোগটির আর্থিক সাশ্রয়ের পরিমাণও নির্ধারণ করা যাবে না।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভবনের ছাদে বসানো হয়েছে বলে এটিকে ছাদভিত্তিক ব্যবস্থা বলা হচ্ছে। তবে এতে ব্যাটারি রয়েছে কি না, বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সংযোগব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে কি না, অথবা উৎপাদিত বিদ্যুতের উদ্বৃত্ত অংশ কীভাবে ব্যবহৃত হবে—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ব্যবস্থাটির কারিগরি বিন্যাস কিংবা বিদ্যুৎ বিতরণ সম্পর্কে অনুমান করা ঠিক হবে না।

কার্যালয়ের নিজস্ব প্রয়োজন মেটানোর কথা থাকলেও ব্যবস্থাটি চালুর পর বিদ্যুৎ বিল কতটা কমবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। সেই হিসাবের জন্য উৎপাদন, ব্যবহার, বিদ্যুতের দাম এবং ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের তথ্য প্রয়োজন। উদ্বোধনের খবরের সঙ্গে এসব পরিমাপ প্রকাশ করা হয়নি। ভবিষ্যতে নিয়মিত উৎপাদন ও ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলে উদ্যোগটির বাস্তব ফলাফল বোঝা সহজ হবে।

দেশে প্রথম কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ চালুর এই ঘটনা মূলত একটি নির্দিষ্ট স্থাপনায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সূচনার খবর। এর বাইরে বৃহত্তর কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত, অন্য কার্যালয়ে একই ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা কিংবা জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর অবদানের বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাই ঘটনাটিকে তার নির্দিষ্ট পরিসরেই দেখা প্রয়োজন।

যশোর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দুই কিলোওয়াট ক্ষমতার ছাদভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হলো। এ উদ্যোগের কার্যকারিতা মূল্যায়নে পরবর্তী সময়ে কত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে এবং কার্যালয়ের ব্যবহারে তার কী প্রভাব পড়ছে, সেই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো, কার্যালয়টি নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে এবং ২১ অক্টোবর প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সেটি উদ্বোধন করেছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাচেষ্টা মামলায় দিলীপ আগরওয়ালের ৪ দিনের রিমান্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৬ পূর্বাহ্ণ
   
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাচেষ্টা মামলায় দিলীপ আগরওয়ালের ৪ দিনের রিমান্ড

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা এবং আ. জব্বার নামে এক আন্দোলনকারীকে গুলি করে গুরুতর জখম করার মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার, ২১ অক্টোবর, আদালত এ আদেশ দেন।

মামলাটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা। অভিযোগ অনুযায়ী, আন্দোলন চলার সময়ে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আ. জব্বার গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। মামলার অভিযোগে এই হামলা ও গুলির ঘটনাকে হত্যাচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়; মামলার অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

দিলীপ কুমার আগরওয়াল ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এই মামলায় তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। রিমান্ডের আদেশের ফলে মামলাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে শুনানিতে কী কী যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে, তদন্তের দায়িত্বে কারা রয়েছেন কিংবা জিজ্ঞাসাবাদের নির্দিষ্ট বিষয় কী—এসব বিষয়ে পাওয়া তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

আদালতের এই আদেশের আগের দিন, মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, গুলশান থানায় করা মানিলন্ডারিং আইনের একটি মামলায়ও দিলীপ আগরওয়ালের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল। ওই মামলায় তাঁকে এক দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়। ফলে দুই দিনের ব্যবধানে তাঁর বিরুদ্ধে করা পৃথক দুই মামলায় আদালত রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন। একটি মামলা মানিলন্ডারিং আইনের, অন্যটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হামলা ও গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগসংক্রান্ত।

দুই মামলার বিষয়বস্তু এক নয়। গুলশান থানার মামলাটি মানিলন্ডারিং আইনের অধীন; আর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা মামলায় ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা এবং আ. জব্বারকে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ রয়েছে। তাই প্রতিটি মামলার অভিযোগ ও তদন্তের বিষয় আলাদাভাবে বিবেচিত হবে। আদালতের এক মামলার আদেশ অন্য মামলার অভিযোগের নিষ্পত্তি নয়।

উত্তরা পশ্চিমের মামলায় আ. জব্বারকে গুলি করে গুরুতর জখম করার অভিযোগটি ঘটনার কেন্দ্রীয় দিক। পাশাপাশি ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগও মামলায় রয়েছে। আদালত দিলীপ আগরওয়ালকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিলেও, প্রাপ্ত তথ্যে ঘটনার সুনির্দিষ্ট তারিখ, হামলার সময়, ব্যবহৃত অস্ত্রের বিবরণ কিংবা আহত ব্যক্তির চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা জানানো হয়নি। এ কারণে এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

রিমান্ডের আদেশ মামলার তদন্ত-প্রক্রিয়ার একটি ধাপ। এ আদেশে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হয় না, কিংবা তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় না। অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সেগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাইয়ের বিষয়টি পরবর্তী ধাপের সঙ্গে যুক্ত। এই মামলায়ও অভিযোগের প্রকৃতি ও আদালতের রিমান্ড আদেশকে পৃথকভাবে দেখা জরুরি।

একই ব্যক্তিকে ঘিরে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই মামলায় রিমান্ডের আদেশ হওয়ায় মামলা দুটির পার্থক্য স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন। মঙ্গলবারের আদেশটি গুলশান থানার মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় এক দিনের জন্য; বুধবারের আদেশটি উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার হামলা ও গুলির ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় চার দিনের জন্য। উভয় ক্ষেত্রেই আদালতের আদেশের মেয়াদ ও মামলার ধরন আলাদা।

এ পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগে করা মামলায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। একই ঘটনায় আ. জব্বার গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। এর আগের দিন মানিলন্ডারিং আইনের আরেক মামলায় তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল। মামলাগুলোর পরবর্তী কার্যক্রম ও অভিযোগের নিষ্পত্তি আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগোবে।

সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তিতে কারাদণ্ড ও জরিমানা, প্রবাসীদেরও দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তিতে কারাদণ্ড ও জরিমানা, প্রবাসীদেরও দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান

সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ। দেশটিতে এ কাজে জড়িত হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা অথবা দুই দণ্ডই হতে পারে। সংঘবদ্ধভাবে ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য শাস্তির মাত্রা আরও বেশি: সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ রিয়াল জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এই আইন সৌদি নাগরিকদের পাশাপাশি সেখানে বসবাসরত বিদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

আইনের বিধান অনুযায়ী, ভিক্ষাবৃত্তির অপরাধে শাস্তি হিসেবে কারাদণ্ড ও জরিমানার একাধিক বিকল্প রয়েছে। তবে ‘সর্বোচ্চ’ দণ্ডের উল্লেখ মানে প্রত্যেক ঘটনায় একই সাজা হবে—এমন নয়। নির্দিষ্ট ঘটনায় কী শাস্তি হবে, তা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো বিস্তারিত তথ্য এখানে নেই। তাই সম্ভাব্য শাস্তি বোঝার সময় সর্বোচ্চ সীমা এবং বাস্তবে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে নির্ধারিত দণ্ডকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

সংঘবদ্ধভাবে ভিক্ষা করার ক্ষেত্রে আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি সাধারণ ভিক্ষাবৃত্তির তুলনায় বেশি রাখা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান আছে; আদালত উভয় দণ্ডও দিতে পারে। তবে কোন আচরণ বা পরিস্থিতিকে সংঘবদ্ধ ভিক্ষাবৃত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে, কিংবা কোনো মামলায় সেই বিধান কীভাবে প্রয়োগ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট বিবরণ পাওয়া যায়নি। ফলে কোনো ব্যক্তির দায় বা মামলার ফল সম্পর্কে আগাম সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক হবে না।

সৌদি আরবে কর্মরত ও বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভিক্ষাবৃত্তির অপরাধে দণ্ডিত বিদেশিদের সাজা শেষ হওয়ার পর দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবে পুনরায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কথাও বলা হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞাটি কত দিনের, কোন শর্তে তা কার্যকর হবে, কিংবা সব ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য কি না—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তাই এ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত অনুমান করে বলা যাবে না।

বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য পরিণতি শুধু কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। সাজা শেষে দেশ ছাড়তে হতে পারে এবং ভবিষ্যতে সৌদি আরবে প্রবেশের পথও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। যাঁরা সেখানে চাকরি করেন, ব্যবসা করেন কিংবা পরিবারের সঙ্গে থাকেন, তাঁদের জন্য এমন পরিণতি ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য আইনি পরিণতির সাধারণ বর্ণনা; কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি সম্পর্কে আলাদা তথ্য ছাড়া তার ফল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

আইনে সাধারণ এবং সংঘবদ্ধ ভিক্ষাবৃত্তির জন্য শাস্তির সীমা আলাদা করে উল্লেখ থাকায়, একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু শুধু কয়েকজন মানুষের উপস্থিতি থেকেই কোনো ঘটনায় সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রমাণিত হয়—এমন সিদ্ধান্তে আসা যায় না। একইভাবে, কারও কাছে সাহায্য চাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা কীভাবে আইনের আওতায় পড়বে, তারও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে নেই। তাই ঘটনার প্রকৃতি না জেনে নির্দিষ্ট আইনি শ্রেণি বা শাস্তি নিশ্চিত করে বলা উচিত নয়।

সৌদি আরবে থাকা প্রবাসীদের জন্য একটি বিষয় পরিষ্কার: ভিক্ষাবৃত্তিকে আয় বা সহায়তা পাওয়ার নিরীহ উপায় হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই; দেশটিতে এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আর্থিক সমস্যায় পড়লে ভিক্ষায় যুক্ত হওয়ার বদলে বৈধ সহায়তা বা পরামর্শের পথ খোঁজা নিরাপদ। কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের জন্য ঠিক কোন সহায়তা পাওয়া যাবে, তা তাদের অবস্থা ও স্থানীয় নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই অজানা তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সংস্থা বা প্রক্রিয়ার নাম বলা সমীচীন নয়।

আইনটির শাস্তির পরিসর মনে রাখাও জরুরি। ব্যক্তিগতভাবে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত থাকার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা হতে পারে; সংঘবদ্ধভাবে জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ রিয়াল জরিমানার বিধান আছে। উভয় ক্ষেত্রেই কারাদণ্ড ও জরিমানা একসঙ্গে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এগুলো সর্বোচ্চ সীমা—কোনো নির্দিষ্ট মামলায় ঠিক কত দণ্ড হবে, তা এই তথ্য থেকে বলা যায় না।

প্রবাসীদের জন্য আরও মনে রাখা দরকার, দণ্ডিত বিদেশিদের সাজা শেষে দেশে পাঠানো এবং পুনরায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে। এসব সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনায় সৌদি আরবে অবস্থানরত কারও ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়ানো উচিত নয়। কোনো ব্যক্তি ইতিমধ্যে আইনি সমস্যায় পড়লে সাধারণ খবরের ভিত্তিতে নিজের মামলার পরিণতি অনুমান না করে যোগ্য আইনি পরামর্শ নেওয়াই বিচক্ষণতা। কারণ, অপরাধের ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থা এবং প্রযোজ্য সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ছাড়া নির্দিষ্ট ফলাফল বলা সম্ভব নয়।

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে বিএনপি দলটিকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে ১১ দলের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের মূল অভিযোগ, বিএনপি দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করার সুযোগ পাচ্ছে। তবে অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের যে বিবরণ পাওয়া গেছে, তাতে এ যোগাযোগের ধরন, কবে বা কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, কিংবা কোন বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ নেই। ফলে তাঁর অভিযোগটি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই উপস্থাপনযোগ্য; এর পক্ষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

তিনি বিএনপিকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘তারা আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে।’ এই বক্তব্যে তিনি ক্ষমতাসীন বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরির জন্য দলটিকে দায়ী করেন। তবে বক্তব্যে উল্লিখিত ‘দিল্লি’ বলতে কার সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। একইভাবে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথিত আঁতাতের কোনো নির্দিষ্ট বৈঠক, সিদ্ধান্ত বা সমঝোতার বিবরণও পাওয়া যায়নি।

অনুষ্ঠানটি ছিল বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে। দলটি ১১ দলের শরিক—উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গোলাম পরওয়ারের উপস্থিতি ও বক্তব্যের বিবরণে এ পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উদ্বোধনী আয়োজনে আর কারা উপস্থিত ছিলেন, কারা বক্তব্য দিয়েছেন, কিংবা কার্যালয়টি কোথায় অবস্থিত—এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই। তাই প্রতিবেদনটিতে অনুষ্ঠানসংক্রান্ত নিশ্চিত তথ্যের বাইরে অংশগ্রহণকারী বা আয়োজনের অন্য কোনো বিবরণ যোগ করা হচ্ছে না।

গোলাম পরওয়ারের অভিযোগে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—দুই রাজনৈতিক দলের নাম এসেছে। তাঁর বক্তব্যে বিএনপির বিরুদ্ধে দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বোঝাপড়া করার অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু ওই বক্তব্যে অভিযোগের পক্ষে কোনো দলিল, যোগাযোগের মাধ্যম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম বা নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়েছে—এমন তথ্য নেই। অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো বিবরণও প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে পাওয়া যায়নি।

এ কারণে বক্তব্যের প্রতিবেদন করতে গিয়ে অভিযোগ ও প্রতিষ্ঠিত তথ্যের পার্থক্য স্পষ্ট রাখা জরুরি। গোলাম পরওয়ার যে অভিযোগ করেছেন, সেটি তাঁর বক্তব্য। অন্যদিকে, কার্যালয় উদ্বোধনের স্থান, সময় ও আয়োজক দলের পরিচয় অনুষ্ঠানের বিবরণে উল্লেখিত তথ্য। অভিযোগকে যাচাই করা ঘটনা হিসেবে দেখানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখানে নেই। আওয়ামী লীগকে রাজনীতির সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়ে তাঁর মন্তব্যও একই বক্তব্যের অংশ; এর বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপের বিবরণ দেওয়া হয়নি।

বক্তব্যে বিএনপি বা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ার উল্লেখ নেই। ফলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অবস্থান কী, তারা অভিযোগের জবাব দিয়েছে কি না, কিংবা আলোচিত যোগাযোগ সম্পর্কে তাদের বক্তব্য আছে কি না—তা এই বিবরণ থেকে জানা যায় না। কোনো পক্ষের প্রতিক্রিয়া না থাকলে তা অনুমান করে লেখা যায় না; একইভাবে অভিযোগের জবাবে কোনো অস্বীকৃতি বা সমর্থনও আরোপ করা যায় না।

গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য তাঁর অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ: তিনি বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কথিত সমঝোতাকে সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, এতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর বাইরে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ, দলগুলোর আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক বা কোনো সিদ্ধান্তের কথা তিনি বলেছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর বক্তব্যের সারবস্তু তুলে ধরার পাশাপাশি অপ্রমাণিত দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন না করাই সংবাদ পরিবেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার দুপুরের ওই অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের বিস্তারিত বিবরণে গোলাম পরওয়ারের অভিযোগের নির্দিষ্ট প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জবাব অন্তর্ভুক্ত নেই। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে বিএনপি বা আওয়ামী লীগের বক্তব্য প্রকাশ পেলে অভিযোগের বিভিন্ন দিক আরও পরিষ্কার হতে পারে। আপাতত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বিএনপির বিরুদ্ধে দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন।

সর্বশেষ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাচেষ্টা মামলায় দিলীপ আগরওয়ালের ৪ দিনের রিমান্ড সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তিতে কারাদণ্ড ও জরিমানা, প্রবাসীদেরও দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার যশোর বিএনপি কার্যালয়ে চালু হলো ২ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, আলিসের অভিষেক গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চাওয়া আঁখির পাশে প্রধানমন্ত্রী নারীদের ব্যবসা ও অর্থ নিয়ে অভিজ্ঞতার কথা বললেন ক্যাটরিনা চুক্তির পর প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল পাঠাচ্ছে রাশিয়া কালাই থানায় কাঠের বাটাম নিয়ে হামলা, আহত তিন পুলিশ সদস্য বাংলাদেশে বয়সের আগেই বিয়ে হয় ৪৭.২ শতাংশ নারীর, ইউনিসেফের ৩ নির্দেশনা
Advertisement