বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাচেষ্টা মামলায় দিলীপ আগরওয়ালের ৪ দিনের রিমান্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:১৬ পূর্বাহ্ণ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা এবং আ. জব্বার নামে এক আন্দোলনকারীকে গুলি করে গুরুতর জখম করার মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার, ২১ অক্টোবর, আদালত এ আদেশ দেন।

মামলাটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা। অভিযোগ অনুযায়ী, আন্দোলন চলার সময়ে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আ. জব্বার গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। মামলার অভিযোগে এই হামলা ও গুলির ঘটনাকে হত্যাচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়; মামলার অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

দিলীপ কুমার আগরওয়াল ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এই মামলায় তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। রিমান্ডের আদেশের ফলে মামলাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে শুনানিতে কী কী যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে, তদন্তের দায়িত্বে কারা রয়েছেন কিংবা জিজ্ঞাসাবাদের নির্দিষ্ট বিষয় কী—এসব বিষয়ে পাওয়া তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

আদালতের এই আদেশের আগের দিন, মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, গুলশান থানায় করা মানিলন্ডারিং আইনের একটি মামলায়ও দিলীপ আগরওয়ালের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল। ওই মামলায় তাঁকে এক দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়। ফলে দুই দিনের ব্যবধানে তাঁর বিরুদ্ধে করা পৃথক দুই মামলায় আদালত রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন। একটি মামলা মানিলন্ডারিং আইনের, অন্যটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হামলা ও গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগসংক্রান্ত।

দুই মামলার বিষয়বস্তু এক নয়। গুলশান থানার মামলাটি মানিলন্ডারিং আইনের অধীন; আর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা মামলায় ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা এবং আ. জব্বারকে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ রয়েছে। তাই প্রতিটি মামলার অভিযোগ ও তদন্তের বিষয় আলাদাভাবে বিবেচিত হবে। আদালতের এক মামলার আদেশ অন্য মামলার অভিযোগের নিষ্পত্তি নয়।

উত্তরা পশ্চিমের মামলায় আ. জব্বারকে গুলি করে গুরুতর জখম করার অভিযোগটি ঘটনার কেন্দ্রীয় দিক। পাশাপাশি ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগও মামলায় রয়েছে। আদালত দিলীপ আগরওয়ালকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিলেও, প্রাপ্ত তথ্যে ঘটনার সুনির্দিষ্ট তারিখ, হামলার সময়, ব্যবহৃত অস্ত্রের বিবরণ কিংবা আহত ব্যক্তির চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা জানানো হয়নি। এ কারণে এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

রিমান্ডের আদেশ মামলার তদন্ত-প্রক্রিয়ার একটি ধাপ। এ আদেশে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হয় না, কিংবা তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় না। অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সেগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাইয়ের বিষয়টি পরবর্তী ধাপের সঙ্গে যুক্ত। এই মামলায়ও অভিযোগের প্রকৃতি ও আদালতের রিমান্ড আদেশকে পৃথকভাবে দেখা জরুরি।

একই ব্যক্তিকে ঘিরে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই মামলায় রিমান্ডের আদেশ হওয়ায় মামলা দুটির পার্থক্য স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন। মঙ্গলবারের আদেশটি গুলশান থানার মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় এক দিনের জন্য; বুধবারের আদেশটি উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার হামলা ও গুলির ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় চার দিনের জন্য। উভয় ক্ষেত্রেই আদালতের আদেশের মেয়াদ ও মামলার ধরন আলাদা।

এ পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগে করা মামলায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। একই ঘটনায় আ. জব্বার গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। এর আগের দিন মানিলন্ডারিং আইনের আরেক মামলায় তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল। মামলাগুলোর পরবর্তী কার্যক্রম ও অভিযোগের নিষ্পত্তি আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগোবে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন