যশোর বিএনপি কার্যালয়ে চালু হলো ২ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৫ পূর্বাহ্ণ

যশোর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। বুধবার, ২১ অক্টোবর দুপুরে দুই কিলোওয়াট উৎপাদনক্ষমতার এই ব্যবস্থা উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। রাজনৈতিক দলের কোনো কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ চালুর ঘটনা দেশে প্রথম বলে জানানো হয়েছে।

কার্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ব্যবস্থাটি স্থাপন করা হয়েছে। উদ্বোধনের সময় প্রতিমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করেন। এর মাধ্যমে দলীয় কার্যালয়ের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর কথা বলা হয়েছে। তবে উদ্বোধনের দিন কত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে, কার্যালয়ের দৈনিক চাহিদা কত কিংবা উৎপাদিত বিদ্যুতের কত অংশ সরাসরি ব্যবহৃত হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ব্যবস্থাটির উৎপাদনক্ষমতা দুই কিলোওয়াট। এই সংখ্যা থেকে স্থাপিত সিস্টেমের নির্ধারিত ক্ষমতা বোঝা যায়; নির্দিষ্ট দিনে বাস্তবে কত বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, তা আলাদা হিসাবের বিষয়। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সূর্যালোকের প্রাপ্যতা ও ব্যবহারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। ফলে ঘোষিত ক্ষমতাকে প্রতিদিন একই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যায় না।

রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর ঘটনাটি একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় নবায়নযোগ্য শক্তি যুক্ত হওয়ার দৃষ্টান্ত। তবে একটি কার্যালয়ে ব্যবস্থা চালু হওয়া মানেই অন্য কার্যালয়গুলোতেও একই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন নয়। দেশের সব রাজনৈতিক দলের কার্যালয় বা সরকারি-বেসরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিস্তার সম্পর্কেও এ ঘটনায় কোনো সামগ্রিক পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

নিজস্ব অর্থায়নে স্থাপন করার বিষয়টি উদ্যোগটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক। অর্থায়নের পরিমাণ, স্থাপনে কত সময় লেগেছে, যন্ত্রপাতির ধরন কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার—এসব তথ্য প্রকাশিত বিবরণে নেই। তাই প্রকল্পটির মোট ব্যয় বা দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় সম্পর্কে নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়। এসব তথ্য ছাড়া উদ্যোগটির আর্থিক সাশ্রয়ের পরিমাণও নির্ধারণ করা যাবে না।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভবনের ছাদে বসানো হয়েছে বলে এটিকে ছাদভিত্তিক ব্যবস্থা বলা হচ্ছে। তবে এতে ব্যাটারি রয়েছে কি না, বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সংযোগব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে কি না, অথবা উৎপাদিত বিদ্যুতের উদ্বৃত্ত অংশ কীভাবে ব্যবহৃত হবে—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ব্যবস্থাটির কারিগরি বিন্যাস কিংবা বিদ্যুৎ বিতরণ সম্পর্কে অনুমান করা ঠিক হবে না।

কার্যালয়ের নিজস্ব প্রয়োজন মেটানোর কথা থাকলেও ব্যবস্থাটি চালুর পর বিদ্যুৎ বিল কতটা কমবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। সেই হিসাবের জন্য উৎপাদন, ব্যবহার, বিদ্যুতের দাম এবং ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের তথ্য প্রয়োজন। উদ্বোধনের খবরের সঙ্গে এসব পরিমাপ প্রকাশ করা হয়নি। ভবিষ্যতে নিয়মিত উৎপাদন ও ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলে উদ্যোগটির বাস্তব ফলাফল বোঝা সহজ হবে।

দেশে প্রথম কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ চালুর এই ঘটনা মূলত একটি নির্দিষ্ট স্থাপনায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সূচনার খবর। এর বাইরে বৃহত্তর কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত, অন্য কার্যালয়ে একই ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা কিংবা জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর অবদানের বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাই ঘটনাটিকে তার নির্দিষ্ট পরিসরেই দেখা প্রয়োজন।

যশোর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দুই কিলোওয়াট ক্ষমতার ছাদভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হলো। এ উদ্যোগের কার্যকারিতা মূল্যায়নে পরবর্তী সময়ে কত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে এবং কার্যালয়ের ব্যবহারে তার কী প্রভাব পড়ছে, সেই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো, কার্যালয়টি নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে এবং ২১ অক্টোবর প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সেটি উদ্বোধন করেছেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন