স্থানীয় নির্বাচনে গ্রহণযোগ্য ও বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাময় প্রার্থী বাছাইয়ের আহ্বান তারেক রহমানের
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটে জয়ের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিতে নেতাকর্মীদের বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, বর্তমান সরকার অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না। এ অবস্থায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন প্রার্থী বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান, যিনি জনসমর্থন নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হতে পারবেন।
২১ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রামের র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে-ভিউয়ে বিএনপির এক সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ বার্তা দেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতি ও প্রার্থী নির্বাচনের প্রসঙ্গেই তার বক্তব্য আসে। তবে কোন কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আগে হতে পারে, প্রার্থী মনোনয়নের সময়সূচি কী হবে কিংবা বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি কী—এসব বিষয়ে বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণে নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
তারেক রহমানের বক্তব্যে প্রার্থী বাছাইয়ের দুটি দিক স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে: সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা এবং জনগণের ভোটে জয়ের সামর্থ্য। অর্থাৎ কেবল দলীয় পরিচয় বা সাংগঠনিক অবস্থান নয়, ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার সক্ষমতাকেও সিদ্ধান্তের বিবেচনায় রাখার কথা বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মনোনয়ন নিয়ে বিভক্তি এড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এসব মানদণ্ড কীভাবে যাচাই করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
নির্বাচনে সরকারের হস্তক্ষেপ না করার কথা বলার মধ্য দিয়ে তারেক রহমান নির্বাচন পরিচালনায় সরকারের ভূমিকা সম্পর্কেও অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি অতীতের সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের আচরণের তুলনা করে বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনেও আগের মতো হস্তক্ষেপ করা হবে না। বক্তব্যে এই আশ্বাসের বাইরে নির্বাচন পরিচালনা, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিবরণ দেওয়া হয়নি। তাই তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হিসেবে সরকারি হস্তক্ষেপ না করার ঘোষণা এবং দলীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার নির্দেশনাই সামনে এসেছে।
স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এ নির্বাচনে ভোটাররা নিজ নিজ এলাকার প্রতিনিধিদের বেছে নেন। তারেক রহমানের বক্তব্যে তাই দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি ভোটারদের পছন্দ ও সমর্থনকে প্রার্থী বাছাইয়ের সময় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্য থেকে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থী, মনোনয়নপ্রত্যাশী কিংবা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে কোনো নাম বা সম্ভাবনার কথা নিশ্চিতভাবে বলার অবকাশ নেই।
সাংগঠনিক সভায় দেওয়া বার্তায় ঐক্যের বিষয়টিও প্রাধান্য পেয়েছে। নেতাকর্মীরা একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করবেন—এমন আহ্বানই জানিয়েছেন তিনি। তবে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কী ধরনের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, সভায় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা মনোনয়ন নিয়ে মতপার্থক্য থাকলে তা কীভাবে মেটানো হবে—এসব তথ্য প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখ নেই। ফলে বক্তব্যের এই অংশকে নেতাকর্মীদের প্রতি রাজনৈতিক আহ্বান হিসেবেই তুলে ধরা যায়; এর বাইরে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা বলা যায় না।
তারেক রহমানের বক্তব্যে স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের দিকনির্দেশনা রয়েছে, কিন্তু নির্বাচন কবে হবে বা কোন পর্যায়ের নির্বাচন নিয়ে দলীয় প্রস্তুতি চলছে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। একইভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য জরিপ, কমিটি বা অন্য কোনো যাচাইব্যবস্থার কথা তিনি বলেছেন—এমন তথ্যও নেই। তাঁর ঘোষণার তাৎপর্য তাই এই পর্যায়ে সীমিত: সরকার হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনসমর্থনসম্পন্ন প্রার্থী বেছে নিতে বলেছেন।
চট্টগ্রামের সভায় দেওয়া এই বার্তা স্থানীয় নির্বাচনের আগে দলীয় কর্মীদের জন্য একটি রাজনৈতিক নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর বাস্তব প্রয়োগ নির্ভর করবে দল কীভাবে প্রার্থী বাছাই করে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোটারদের গ্রহণযোগ্যতা কীভাবে বিবেচনায় নেয়, তার ওপর। তবে এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্তের কোনো অতিরিক্ত বিবরণ পাওয়া যায়নি। আপাতত তারেক রহমানের বক্তব্যের কেন্দ্রীয় আহ্বান হলো—নেতাকর্মীরা যেন বিভক্ত না হয়ে এমন প্রার্থীকে বেছে নেন, যিনি জনগণের ভোটে জয়ী হওয়ার মতো গ্রহণযোগ্যতা রাখেন।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]