স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় জামিন বাতিল: কারাগারে পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসক রাসেল
যৌতুকের দাবিতে চিকিৎসক স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসক রাসেল মোরশেদকে। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রৌনক জাহান তাকির এ আদেশ দেন। মামলার শুনানির জন্য নির্ধারিত দিনে অভিযুক্ত চিকিৎসক রাসেল এবং বাদী ডা. ফারহা করিম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাদীপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামির জামিন বাতিলের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। ভুক্তভোগী স্ত্রী নিজেও একজন চিকিৎসক। স্বামী কর্তৃক অব্যাহত নির্যাতনের শিকার হয়ে অবশেষে তিনি আইনের আশ্রয় নেন। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। পূর্ববর্তী শুনানিতে আসামি আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন। তবে মামলার নতুন ধার্য তারিখে বাদীপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন যে, জামিনে থাকার সুযোগে আসামি মামলার সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে আসামি ডা. রাসেল মোরশেদকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের এই আদেশ সম্পর্কে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সিদ্দিকুর রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যৌতুকের জন্য চিকিৎসক স্ত্রীকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শুনানি শেষে বিচারক এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন থেকে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত চিকিৎসককে কারাবন্দি থাকতে হবে। আদালতে উপস্থিত থাকা আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে এবং মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ সুরক্ষিত রাখতে এই আদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চিকিৎসক দম্পতির পারিবারিক কলহের এই ঘটনাটি চিকিৎসা মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে পেশাগত পর্যায়ে দুজন চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও পারিবারিক পর্যায়ে যৌতুক প্রথা ও নির্যাতনের মতো ঘটনা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট আদালত। জামিন বাতিলের পর পুলিশ হেফাজতে অভিযুক্ত চিকিৎসককে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এই মামলায় এখন আইন অনুযায়ী পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]