চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধে জড়াচ্ছেন বাংলাদেশিরা
ভালো চাকরির আশায় রাশিয়ায় যাওয়া কয়েকজন বাংলাদেশি তরুণ প্রতারণার শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে জড়িয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে। কাজের কথা বলে তাঁদের বিদেশে নেওয়ার পর দালালের খপ্পরে পড়ে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। যুদ্ধে কেউ মারা গেলে তাঁর মরদেহও দেশে ফিরছে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কতজন বাংলাদেশি জড়িয়েছেন, তাঁদের পরিচয় কী, কিংবা ঠিক কোন পথে তাঁদের রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বিদেশে কাজের প্রত্যাশা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছে যাওয়ার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। তরুণেরা চাকরি পাবেন—এমন আশায় দেশ ছাড়ছেন; কিন্তু তাঁদের গন্তব্য বা কাজের প্রকৃতি সম্পর্কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সত্য কি না, তা যাচাই করা তাঁদের পক্ষে কঠিন হতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারকেরা তাঁদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফেলছে বলে অভিযোগ। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর কীভাবে তাঁদের ওপর যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার চাপ তৈরি হয়, তা নিয়ে প্রকাশিত বিবরণে নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
দালালের ভূমিকার কথা এই ঘটনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তবে ওই ব্যক্তিরা কীভাবে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাঁদের কাছে কী ধরনের চাকরির প্রস্তাব দেন, যাত্রার খরচ বা কাগজপত্রের ব্যবস্থা কে করে—এসব প্রশ্নের উত্তর জানা যায়নি। কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হয়েছে কি না, কিংবা প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা আগে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য নেই। ফলে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট নিয়োগপদ্ধতি বা সংগঠিত কোনো নেটওয়ার্কের কথা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে বাধ্য হওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে না ফেরার বিষয়টি উদ্বেগজনক। তবে কতজন মারা গেছেন, তাঁদের মৃত্যুর খবর পরিবার কীভাবে পেয়েছে, কিংবা মরদেহ ফেরত আনার চেষ্টা হয়েছে কি না—এসব তথ্য প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখ নেই। ফলে প্রত্যেক ঘটনার অবস্থা এক রকম বলে ধরে নেওয়া যাবে না। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মরদেহের অবস্থান নিশ্চিত করার মতো তথ্য ছাড়া ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্রও স্পষ্ট নয়।
বিদেশে চাকরি নিতে আগ্রহীদের জন্য এই ঘটনা নিয়োগের শর্ত ও কাজের ধরন যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা সামনে আনে। চাকরির প্রতিশ্রুতি, নিয়োগদাতার পরিচয়, চুক্তির ভাষা, ভিসার ধরন এবং যাত্রার নথি—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে স্পষ্ট তথ্য থাকা জরুরি। শুধু মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে বিদেশযাত্রার সিদ্ধান্ত নিলে পরে কাজের প্রকৃতি বা অবস্থান সম্পর্কে আপত্তি জানানোর সুযোগ সীমিত হতে পারে। তবে এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট তরুণেরা কোন নথিতে সম্মতি দিয়েছেন, সে তথ্য জানা যায়নি।
এ ধরনের অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা যাচাইয়ে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের বক্তব্য, নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয়, যাত্রাসংক্রান্ত নথি এবং রাশিয়ায় তাঁদের বর্তমান অবস্থার তথ্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে কারও মৃত্যু হয়ে থাকলে পরিচয় ও মৃত্যুর পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য এসব প্রশ্নের উত্তর দেয় না; তাই ঘটনার পরিসর বা দায়ীদের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো ভিত্তি নেই। তবে ভালো চাকরির আশায় যাওয়া তরুণদের প্রতারণা করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ এবং নিহতদের মরদেহ দেশে না ফেরার বিষয়—দুটিই দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য অনুসন্ধানের দাবি রাখে।
এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, রাশিয়ায় কাজের প্রত্যাশায় যাওয়া বাংলাদেশি তরুণদের একটি অংশ প্রতারণা ও দালালের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের নিরাপত্তা, পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে যাচাইকৃত তথ্য সামনে আনা প্রয়োজন। একইভাবে দেশে থাকা পরিবারগুলো যেন স্বজনের খবর পেতে পারে এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে মরদেহ ফেরানোর পথ সম্পর্কে জানতে পারে, সে বিষয়েও স্পষ্টতা দরকার। নির্দিষ্ট সংখ্যা, নাম বা ঘটনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত দাবি না করে এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধানই সবচেয়ে জরুরি।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]