দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার
দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে বিএনপি দলটিকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে ১১ দলের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের মূল অভিযোগ, বিএনপি দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করার সুযোগ পাচ্ছে। তবে অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের যে বিবরণ পাওয়া গেছে, তাতে এ যোগাযোগের ধরন, কবে বা কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, কিংবা কোন বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ নেই। ফলে তাঁর অভিযোগটি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই উপস্থাপনযোগ্য; এর পক্ষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
তিনি বিএনপিকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘তারা আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে।’ এই বক্তব্যে তিনি ক্ষমতাসীন বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরির জন্য দলটিকে দায়ী করেন। তবে বক্তব্যে উল্লিখিত ‘দিল্লি’ বলতে কার সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। একইভাবে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথিত আঁতাতের কোনো নির্দিষ্ট বৈঠক, সিদ্ধান্ত বা সমঝোতার বিবরণও পাওয়া যায়নি।
অনুষ্ঠানটি ছিল বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে। দলটি ১১ দলের শরিক—উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গোলাম পরওয়ারের উপস্থিতি ও বক্তব্যের বিবরণে এ পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উদ্বোধনী আয়োজনে আর কারা উপস্থিত ছিলেন, কারা বক্তব্য দিয়েছেন, কিংবা কার্যালয়টি কোথায় অবস্থিত—এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই। তাই প্রতিবেদনটিতে অনুষ্ঠানসংক্রান্ত নিশ্চিত তথ্যের বাইরে অংশগ্রহণকারী বা আয়োজনের অন্য কোনো বিবরণ যোগ করা হচ্ছে না।
গোলাম পরওয়ারের অভিযোগে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—দুই রাজনৈতিক দলের নাম এসেছে। তাঁর বক্তব্যে বিএনপির বিরুদ্ধে দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বোঝাপড়া করার অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু ওই বক্তব্যে অভিযোগের পক্ষে কোনো দলিল, যোগাযোগের মাধ্যম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম বা নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়েছে—এমন তথ্য নেই। অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো বিবরণও প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে পাওয়া যায়নি।
এ কারণে বক্তব্যের প্রতিবেদন করতে গিয়ে অভিযোগ ও প্রতিষ্ঠিত তথ্যের পার্থক্য স্পষ্ট রাখা জরুরি। গোলাম পরওয়ার যে অভিযোগ করেছেন, সেটি তাঁর বক্তব্য। অন্যদিকে, কার্যালয় উদ্বোধনের স্থান, সময় ও আয়োজক দলের পরিচয় অনুষ্ঠানের বিবরণে উল্লেখিত তথ্য। অভিযোগকে যাচাই করা ঘটনা হিসেবে দেখানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখানে নেই। আওয়ামী লীগকে রাজনীতির সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়ে তাঁর মন্তব্যও একই বক্তব্যের অংশ; এর বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপের বিবরণ দেওয়া হয়নি।
বক্তব্যে বিএনপি বা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ার উল্লেখ নেই। ফলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অবস্থান কী, তারা অভিযোগের জবাব দিয়েছে কি না, কিংবা আলোচিত যোগাযোগ সম্পর্কে তাদের বক্তব্য আছে কি না—তা এই বিবরণ থেকে জানা যায় না। কোনো পক্ষের প্রতিক্রিয়া না থাকলে তা অনুমান করে লেখা যায় না; একইভাবে অভিযোগের জবাবে কোনো অস্বীকৃতি বা সমর্থনও আরোপ করা যায় না।
গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য তাঁর অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ: তিনি বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কথিত সমঝোতাকে সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, এতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর বাইরে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ, দলগুলোর আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক বা কোনো সিদ্ধান্তের কথা তিনি বলেছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর বক্তব্যের সারবস্তু তুলে ধরার পাশাপাশি অপ্রমাণিত দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন না করাই সংবাদ পরিবেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার দুপুরের ওই অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের বিস্তারিত বিবরণে গোলাম পরওয়ারের অভিযোগের নির্দিষ্ট প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জবাব অন্তর্ভুক্ত নেই। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে বিএনপি বা আওয়ামী লীগের বক্তব্য প্রকাশ পেলে অভিযোগের বিভিন্ন দিক আরও পরিষ্কার হতে পারে। আপাতত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বিএনপির বিরুদ্ধে দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]