খুঁজুন
, ,

বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হাসনাত আবদুল্লাহ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হাসনাত আবদুল্লাহ

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলগুলোর ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা-৪ আসনের প্রতিনিধি হাসনাত আবদুল্লাহ। রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ক্ষমতার অপব্যবহারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডকে। তার মতে, একটি গণতান্ত্রিক দেশে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কিংবা প্রত্যক্ষ মদতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা নজরদারি চালানো কোনোভাবেই কাম্য বা আইনসম্মত হতে পারে না।

সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল কাজ হলো জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারকে সহায়তা করা। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে এসব সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। তিনি এমন একটি পরিস্থিতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যেখানে রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে গোয়েন্দা শক্তিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যদি সরকারের পক্ষ হয়ে বিরোধী দলের ওপর গোয়েন্দাগিরি করার প্রকাশ্য ঘোষণা দেয়, তবে তা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি কোনো একক দলের প্রশ্ন নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর একটি বড় আঘাত। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এই সংস্থাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজে নিয়োজিত থাকাটা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপ্রধান প্রকাশ্যে বিরোধী দলগুলোর ওপর নজরদারির ঘোষণা দিতে পারেন কি না, তা নিয়ে সাংবিধানিক ও নৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরপেক্ষ রাখা এবং তাদের প্রকৃত দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করাই সরকারের প্রধান কাজ হওয়া উচিত। যদি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের পিছু লাগানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের কাছে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থার জায়গাটি নষ্ট হয়ে যায়। হাসনাত আবদুল্লাহ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, অবিলম্বে এই বিতর্কিত চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি রক্ষায় সচেষ্ট হতে হবে এবং কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার মাধ্যম হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে।

তিনি তার বক্তৃতায় আরও জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবে, আলোচনা-সমালোচনা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ভিন্নমতকে দমানোর জন্য রাষ্ট্রের শক্তিশালী গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা কোনো সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ হতে পারে না। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর গোয়েন্দাগিরির মাধ্যমে এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরির যে চেষ্টা চলছে, তা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্রের গোয়েন্দা বাহিনীকে দলীয়করণ করা হলে শেষ পর্যন্ত তা রাষ্ট্রের জন্যই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হাসনাত আবদুল্লাহর এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রের গোয়েন্দা নজরদারি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের যে বিতর্ক, তা তার এই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে সামনে এলো। রাজনীতির মাঠে এখন প্রশ্ন উঠছে, আসলেই কী রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহারের মাধ্যমে বিরোধী মতকে স্তব্ধ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, নাকি এটি নিছক রাজনৈতিক উত্তাপের একটি অংশ। সব মিলিয়ে, গোয়েন্দা নজরদারি নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর এই ক্ষোভ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

৩৪ বছরে পদার্পণ করলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
   
৩৪ বছরে পদার্পণ করলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার বিশাল এক ক্ষেত্র জুড়ে থাকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আজ সাফল্যের ৩৪ বছর পূর্ণ করলো। ১৯৯২ সালের ২০ অক্টোবর এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা আজ দেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান ভরসার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মূল ক্যাম্পাসসহ এর আওতাধীন নগর কার্যালয়গুলোতে বর্ণাঢ্য সাজসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের প্রধান ভবনগুলোতে শোভা পাচ্ছে শুভেচ্ছা সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করা হবে।

দেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে এটি লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে। গ্রাম ও শহরের সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি তার নিজস্ব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে, যেখানে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোকে একটি প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে এনে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এটি আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সারা দেশে অসংখ্য অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে, যেখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে লাখো শিক্ষার্থী তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করছেন। সময়ের সাথে সাথে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, ভর্তি প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক কাজের আধুনিকায়ন করায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেক কমেছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সকলেই আনন্দঘন পরিবেশে দিনটি উদযাপন করছেন। তবে শুধু আনন্দ আয়োজনই নয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের বিগত দিনের অর্জনগুলো পর্যালোচনা করার পাশাপাশি আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করা এবং বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে তারা এগিয়ে যেতে চায়।

এই বিশেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সকলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। ক্যাম্পাসের আঙিনায় শিক্ষার্থীদের পদচারণা এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আমেজ এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আনন্দঘন মুহূর্ত দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন প্রেরণা যোগাবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পিএসজির বিপক্ষে রক্ষণভাগের দুর্বলতায় মৌসুমের প্রথম হার বার্সেলোনার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
   
পিএসজির বিপক্ষে রক্ষণভাগের দুর্বলতায় মৌসুমের প্রথম হার বার্সেলোনার

চ্যাম্পিয়নস লিগের এবারের আসরে দারুণ ছন্দে থাকা বার্সেলোনাকে হারের তিক্ত স্বাদ দিয়েছে ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেই। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত এই হাই ভোল্টেজ ম্যাচে স্বাগতিক পিএসজি ৪-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে কাতালান ক্লাবটিকে। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটিই বার্সেলোনার প্রথম পরাজয়। এই হারের মাধ্যমে নিজেদের অপরাজিত থাকার দৌড়ও থেমে গেল স্প্যানিশ দলটির জন্য।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। ঘরের মাঠে দর্শক সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে পিএসজি বার্সেলোনার রক্ষণে বেশ কিছু চাপ সৃষ্টি করে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন দেজিরে দুয়ে। পিছিয়ে পড়েও বার্সেলোনা হতাশ না হয়ে পাল্টা আক্রমণের কৌশল নেয়। তবে প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় বার্সেলোনাকে।

বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বার্সেলোনা ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায়। ৫৫ মিনিটে জাভি এসপার্টের দুর্দান্ত গোলে ম্যাচে সমতা ফিরলে বার্সেলোনা শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফেরে। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পিএসজির আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা বার্সেলোনার রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দ্রুতই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এরপরের সময়ে পিএসজি একে একে আরও গোল আদায় করে নিলে ব্যবধান বড় হতে থাকে। বার্সেলোনা দুইবার সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগের ছন্দহীনতার কারণে তাদের বড় ব্যবধানে পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে। পুরো ম্যাচজুড়েই পিএসজির কৌশল ছিল বার্সেলোনার মিডফিল্ডকে নিষ্ক্রিয় রাখা, যাতে তারা ফরোয়ার্ডদের কাছে বল পাঠাতে না পারে। কৌশলগত এই লড়াইয়ে বার্সেলোনার কোচ অনেকটাই পিএসজির পরিকল্পনার কাছে হার মেনেছেন বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

ম্যাচের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বার্সেলোনা বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও ফিনিশিং এবং গোলমুখে শট নেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। অন্যদিকে পিএসজি সুযোগ পাওয়া মাত্রই লক্ষ্যভেদ করতে ভুল করেনি। রক্ষণভাগে ভুল এবং পিএসজির গতিময় ফরোয়ার্ডদের সামলাতে না পারার ব্যর্থতা এই ম্যাচে বার্সেলোনার পরাজয়ের বড় কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই জয়ের ফলে পিএসজি পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান মজবুত করল। অন্যদিকে বার্সেলোনাকে এখন নিজেদের ভুলগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে, কারণ সামনে তাদের জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগের আরও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বাকি রয়েছে।

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বার্সেলোনার কোচ দলের রক্ষণভাগের পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ইউরোপীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ছোট ছোট ভুলের চড়া মাসুল দিতে হয়, যা তারা এই ম্যাচে পেয়েছে। অন্যদিকে পিএসজির শিবিরে এখন জয়ের আনন্দ। কোচ এবং খেলোয়াড়রা এই জয়কে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। বার্সেলোনার জন্য এই হার বড় ধাক্কা হলেও তারা চাইবে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের ধারায় ফিরতে। লিগ পর্বের এই ম্যাচটি কেবল একটি পরাজয় নয়, বরং বার্সেলোনার বর্তমান দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করার একটি সুযোগ হিসেবেই দেখছে ফুটবল বোদ্ধারা। আগামী ম্যাচগুলোতে বার্সেলোনা রক্ষণভাগে কি ধরনের পরিবর্তন আনে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল উৎসব: ফোডেনের হ্যাটট্রিকে বিধ্বস্ত এইকে এথেন্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল উৎসব: ফোডেনের হ্যাটট্রিকে বিধ্বস্ত এইকে এথেন্স

ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের শক্তির জানান আবারও নতুন করে দিল ম্যানচেস্টার সিটি। মঙ্গলবার রাতে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে গ্রিসের ক্লাব এইকে এথেন্সের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এই জায়ান্টরা। ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানের এই জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন ম্যানসিটির তরুণ ফরোয়ার্ড ফিল ফোডেন। তার অসাধারণ হ্যাটট্রিকে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে। ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত ছন্দ দেখিয়েছে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের শুরুর দিকেই গোলের দেখা পায় ম্যানচেস্টার সিটি। মাত্র ১২ মিনিটের মাথায় স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। ম্যাচের এই গোলটি যেন সিটির খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় রক্ষণভাগে কিছুটা অগোছালো হয়ে পড়ে এইকে এথেন্স। প্রথমার্ধেই নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ম্যানসিটির আক্রমণভাগের সামনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি সফরকারী দল। প্রথমার্ধে আধিপত্য ধরে রেখে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে সিটিজেনরা।

ম্যাচের মধ্যভাগে নিজেদের সেরা ফর্মে দেখা যায় ফিল ফোডেনকে। একের পর এক ড্রিবলিং আর নিখুঁত শটে তিনি এথেন্সের রক্ষণভাগের পরীক্ষা নিয়েছেন। দ্বিতীয় ভাগে খেলার ধার আরও বাড়ে। ফোডেন তার হ্যাটট্রিক পূরণ করেন অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে। তার প্রতিটি গোলই ছিল যেন নিখুঁত পরিকল্পনার প্রতিফলন। সিটির হয়ে অন্য দুই গোল এসেছে এলিয়ট অ্যান্ডারসন এবং রায়ান শেরকির পা থেকে। রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক—উভয় ক্ষেত্রেই দারুণ সমন্বয় ছিল গার্দিওলার শিষ্যদের খেলায়।

এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল ম্যানচেস্টার সিটি। এথেন্সের বিপক্ষে এই জয় তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য বড় ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। কোচ পেপ গার্দিওলা দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের এমন পারফরম্যান্স দলের গভীরতাকেই প্রমাণ করে। অন্যদিকে, এইকে এথেন্সের জন্য এটি ছিল বেশ বড় একটি ধাক্কা। ইতিহাদে তারা যেভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ খুব একটা পায়নি তারা।

ম্যাচ শেষে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। ঘরের মাঠে এমন দুর্দান্ত ফুটবল উপভোগ করতে পেরে দর্শকরা বেশ তৃপ্ত। চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় মঞ্চে এমন জয় যে কোনো দলের জন্যই বিশেষ কিছু। ম্যানচেস্টার সিটি এখন তাদের পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। দল হিসেবে তারা যেভাবে খেলছে, তাতে আসন্ন ম্যাচগুলোতেও প্রতিপক্ষরা তাদের হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ পাবে না। ফোডেনের এই হ্যাটট্রিক কেবল একটি জয় নয়, বরং ম্যানসিটির শিরোপা প্রত্যাশার পথে একটি বড় বারুদ হিসেবে কাজ করবে।

সর্বশেষ
৩৪ বছরে পদার্পণ করলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পিএসজির বিপক্ষে রক্ষণভাগের দুর্বলতায় মৌসুমের প্রথম হার বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল উৎসব: ফোডেনের হ্যাটট্রিকে বিধ্বস্ত এইকে এথেন্স অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন: পিছিয়ে পড়েও জয় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হাসনাত আবদুল্লাহ প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে রাষ্ট্র চললেও তাদের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক কিউআর কোড প্রযুক্তির পথে ঢাকা খালেদা জিয়ার মতো সাজপোশাকের বিষয়টি অস্বীকার করলেন মেঘনা আলম ইশরাকের পদত্যাগে সাংবিধানিক কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল
Advertisement