যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতার ভারসাম্যের লড়াই এখন তুঙ্গে। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলই মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হলে তিনি কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের কোনো কক্ষ বা উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তবে তাদের উত্থাপিত যেকোনো বিল আটকে দিতে তিনি তার সাংবিধানিক ভেটো ক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাবেন। তিনি নিজেকে মিস্টার ভেটো হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথে তিনি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে প্রস্তুত আছেন।
নির্বাচনী বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য মার্কিন রাজনীতির মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তা ও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ বড় হয়ে দাঁড়ায়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। ট্রাম্পের এই হুশিয়ারি মূলত তার নিজের সমর্থকদের চাঙ্গা করার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে। ডেমোক্র্যাটরা যদি আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আধিপত্য বিস্তার করতে পারে, তবে হোয়াইট হাউসের সাথে কংগ্রেসের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হতে পারে। সে কারণেই ট্রাম্প আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রাখলেন যে, তিনি কোনো অবস্থাতেই ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ দাপট মেনে নেবেন না।
এদিকে, শুধু কেন্দ্রীয় রাজনীতিই নয়, স্থানীয় পর্যায়েও রিপাবলিকানদের আধিপত্য বজায় রাখা বা ভাঙার লড়াই বেশ জোরেশোরে চলছে। বিশেষ করে টেক্সাসের মতো রাজ্যগুলোতে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা উঠেপড়ে লেগেছেন পুরনো দুর্গগুলো ভেঙে নতুন করে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে। টেক্সাসের নির্বাচনী রাজনীতিতে ৩৭ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী টালারিকোর মতো তরুণ নেতৃত্বের উত্থান বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই লড়াই কেবল স্থানীয় নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণেও ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, দুই দলের প্রার্থীদের কথার লড়াই ততই তীব্র হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা প্রচার চালাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো ইস্যুগুলোতে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা মূলত অভিবাসন নীতি, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং ট্রাম্পের গৃহীত প্রকল্পগুলোর ওপর ভিত্তি করে ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভেটো দেওয়ার ঘোষণা একদিকে যেমন তার দলের কর্মীদের আশ্বস্ত করছে, অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ এটিকে ক্ষমতার অপব্যবহারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে। তবে নির্বাচনী ফলাফল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। ভোটারদের রায়ই নির্ধারিত করবে আগামী দিনে আমেরিকার রাজনীতি কোন পথে হাঁটবে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা কতটা কার্যকর হবে। সমগ্র বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলের দিকে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ৭:১৪ অপরাহ্ণ