চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চোরাই ল্যাপটপ ও মোবাইলসহ গ্রেফতার এক
চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মো. শরীফ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে চোরাই ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত ব্যক্তি আগে থেকেই একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পুলিশের তালিকায় ছিলেন বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ধৃত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যা চোরাই মালামাল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম মো. শরীফ। তার বয়স ২৬ বছর বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে শরীফকে আটক করার পর তাকে তল্লাশি করে একটি ল্যাপটপ এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এই ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি করা হয়েছিল বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মো. শরীফ কেবল এই ঘটনার সঙ্গেই জড়িত নন, বরং তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই থানায় পাঁচটি মামলা দায়ের করা রয়েছে। অর্থাৎ, সে একজন পেশাদার অপরাধী হিসেবে পুলিশি নজরদারিতে ছিল। অতীতে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর কারণে সে পুলিশের কাছে পরিচিত মুখ। বিভিন্ন সময় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।
বাকলিয়া থানার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, নগরীতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান নিয়মিত চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা পূর্বের মামলাগুলোর পাশাপাশি নতুন করে উদ্ধারকৃত চোরাই মালামাল সংক্রান্ত আরেকটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে, যাতে চোরাই সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মো. শরীফের গ্রেফতারের ফলে ওই এলাকায় চুরির প্রবণতা কিছুটা কমবে বলে তারা আশা করছেন। এছাড়া উদ্ধারকৃত ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনটির মালিক কে বা কারা, তা শনাক্ত করার প্রক্রিয়াও চলছে। প্রকৃত মালিকদের খুঁজে বের করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পুলিশের এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের মতে, নিয়মিত এমন অভিযান পরিচালিত হলে অপরাধীরা সক্রিয় হওয়ার সাহস পাবে না। গ্রেফতারকৃত শরীফকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য সব ধরনের আইনি নথি প্রস্তুত করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তার কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ চেকপোস্ট ও নিয়মিত টহল জোরদার করেছে পুলিশ। চুরি, ছিনতাই এবং মাদক কারবারের মতো অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শরীফের গ্রেফতারের বিষয়টি নগরীর অপরাধ দমনে পুলিশের একটি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]