খুলনা শিপইয়ার্ডে নৌবাহিনীর নতুন এলসিটি সংযোজন
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়াতে খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত তৃতীয় ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংকের লঞ্চিং সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই জলযানটি দেশের জলসীমায় প্রতিরক্ষা ও লজিস্টিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
দেশের জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডে নির্মিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তৃতীয় ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক বা এলসিটি আনুষ্ঠানিকভাবে পানিতে ভাসানো হয়েছে। শনিবার এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে নতুন এই জলযানটির লঞ্চিং সম্পন্ন করা হয়, যা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগেরই একটি অংশ।
খুলনা শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই লঞ্চিং অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং শিপইয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, এলসিটি-১০৪ নামে পরিচিত এই জাহাজটি তৈরির ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা বাড়াতে খুলনা শিপইয়ার্ড বিগত কয়েক বছর ধরেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় নৌবাহিনীর জন্য একাধিক ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক তৈরির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে তৃতীয়টির লঞ্চিং সম্পন্ন হলো।
নৌবাহিনীর অপারেশনাল কর্মকাণ্ডে এলসিটির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে সৈন্য স্থানান্তর, রসদ সরবরাহ এবং যেকোনো জরুরি অবস্থায় দ্রুত সাড়া দিতে এই ধরনের জলযান অত্যন্ত কার্যকর। নতুন এই এলসিটিটি আধুনিক নেভিগেশনাল সরঞ্জাম এবং শক্তিশালী ইঞ্জিন দ্বারা সজ্জিত, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় ও উত্তাল সমুদ্রেও সাবলীলভাবে কাজ করতে সক্ষম। জাহাজটির নকশা এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে যেন তা খুব কম গভীরতার পানিতেও অনায়াসে চলাচল করতে পারে, যা নদীমাতৃক বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতির সঙ্গে বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দায়িত্বশীলরা জানান, নিজস্ব প্রযুক্তিতে নৌবাহিনীর জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পটি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিদেশ থেকে জাহাজ আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় শিল্পকারখানায় এসব ভারী সরঞ্জাম তৈরির ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে। পাশাপাশি, শিপইয়ার্ডে দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে এবং প্রকৌশলবিদ্যায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
লঞ্চিং শেষে এখন জাহাজটিকে আউটফিটিং বা সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হবে। এরপর সমুদ্রে বিভিন্ন ধরনের ট্রায়াল বা পরীক্ষণ চালানো হবে। সমস্ত যাচাই-বাছাই ও কারিগরি মান নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরপরই এলসিটি-১০৪ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হবে। এই সংযোজন নৌবাহিনীর লজিস্টিক সাপোর্ট সক্ষমতাকে আরও এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য যে, খুলনা শিপইয়ার্ড দীর্ঘদিন ধরেই নৌবাহিনীর জাহাজ ও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের নির্ভরযোগ্য ঘাঁটি হিসেবে কাজ করে আসছে। নিজস্ব দক্ষ প্রকৌশলী এবং প্রযুক্তিবিদদের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে তৈরি করা হচ্ছে। এলসিটির এই নতুন সংযোজন দেশের সমুদ্রসীমায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও সুরক্ষায় এক নতুন গতির সঞ্চার করবে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]