খুঁজুন
, ,

দিল্লি-চণ্ডীগড় যাতায়াত সহজ করতে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে: সাশ্রয় হবে মূল্যবান সময়

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
দিল্লি-চণ্ডীগড় যাতায়াত সহজ করতে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে: সাশ্রয় হবে মূল্যবান সময়

ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে চণ্ডীগড় পর্যন্ত সড়কপথের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে। যানজট এড়াতে এবং দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি কমাতে নতুন এক এক্সপ্রেসওয়ে খুলে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে রাজধানী দিল্লি থেকে চণ্ডীগড়গামী যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট পর্যন্ত কমে আসবে। সড়ক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবল সাধারণ যাত্রীদের জন্যই স্বস্তিদায়ক হবে না, বরং উত্তর ভারতের পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণ করতে চাওয়া পর্যটকদের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও আরামদায়ক করে তুলবে।

প্রকল্পের অংশ হিসেবে অম্বালা-চণ্ডীগড় গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিশেষ করে অম্বালা থেকে মোহালি পর্যন্ত অংশটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নতুন সড়কপথটি নির্মাণের ফলে দীর্ঘদিনের যানজটের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। মূলত দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দেওয়ার সময় যে ধরনের যানজট বা সিগন্যাল জনিত বিড়ম্বনায় পড়তে হতো, নতুন এই এক্সপ্রেসওয়েতে সেগুলোর প্রভাব থাকবে না বললেই চলে। ফলে পণ্যবাহী পরিবহন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত যানবাহনগুলো খুব সহজে এবং কম সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবেই এই এক্সপ্রেসওয়েকে দেখা হচ্ছে। এর ফলে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলোর আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধি পাবে। নিয়মিত কর্মজীবী মানুষ যারা প্রতিদিন দিল্লি-চণ্ডীগড় রুটে যাতায়াত করেন, তাদের দৈনন্দিন জীবনের ওপর এই সময় সাশ্রয় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া উত্তর ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল যেমন হিমাচল প্রদেশ বা চণ্ডীগড় হয়ে যারা পর্যটনে বের হন, তাদের যাত্রাপথ এখন অনেক বেশি মসৃণ হবে।

প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিষয়গুলো মাথায় রেখে গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ের প্রযুক্তিগত মানদণ্ড বজায় রাখা হয়েছে। আধুনিক সড়ক নির্মাণের সব নিয়ম মেনে এই এক্সপ্রেসওয়ে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ বাড়লেও তা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। যাত্রী নিরাপত্তা এবং দ্রুতগতির কথা মাথায় রেখেই বিভিন্ন স্থানে সংযোগ সড়কগুলো পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এক্সপ্রেসওয়েটির শেষ পর্যায়ের কাজগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য কাজ করছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শীঘ্রই এটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এক্সপ্রেসওয়েটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর থেকে দিল্লি এবং চণ্ডীগড়ের মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। সড়ক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এটি ভারতের উত্তর অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি সঞ্চার করবে। এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিয়মিত ভ্রমণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ব্যালন ডি’অর জয়ের আর্থিক পুরস্কার ও ট্রফির রহস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
ব্যালন ডি’অর জয়ের আর্থিক পুরস্কার ও ট্রফির রহস্য

ফুটবল বিশ্বে ব্যক্তিগত অর্জনের কথা উঠলেই সবার আগে যে পুরস্কারটির নাম উচ্চারিত হয়, তা হলো ব্যালন ডি’অর। বছরজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে এই সোনালি ট্রফি হাতে তোলা প্রতিটি পেশাদার ফুটবলারের আজন্ম লালিত স্বপ্ন। তবে এই জাঁকজমকপূর্ণ পুরস্কারের নেপথ্যে রয়েছে এমন কিছু তথ্য, যা সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীদের অনেকেরই অজান। ট্রফিটির প্রকৃত দাম কত কিংবা এটি জয় করলে খেলোয়াড়রা সরাসরি কত টাকা অর্থ পুরস্কার হিসেবে পান, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল কাজ করে।

প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ব্যালন ডি’অর জেতার সঙ্গে বড় অঙ্কের কোনো চেক বা সরাসরি আর্থিক পুরস্কারের সম্পর্ক নেই। ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এই মহিমান্বিত পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠানে বিজয়ী খেলোয়াড়কে কেবল ট্রফিই প্রদান করা হয়। আয়োজক প্রতিষ্ঠান থেকে খেলোয়াড়কে সরাসরি কোনো অর্থ দেওয়া হয় না। অর্থাৎ, ব্যালন ডি’অর জয়ের পর বিজয়ী ফুটবলার কোনো নির্দিষ্ট প্রাইজমানি হাতে পান না। তবে এই পুরস্কারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ফুটবলারদের ব্যক্তিগত স্পন্সরশিপ ও ক্লাবের চুক্তির বিশাল অর্থনৈতিক প্রভাব।

ব্যালন ডি’অর জয়ের পর ফুটবলারদের উপার্জনের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। অধিকাংশ শীর্ষ খেলোয়াড়ের ক্লাব বা বুট স্পন্সরদের সঙ্গে এমন সব চুক্তি থাকে, যেখানে ব্যালন ডি’অর জয়ের শর্ত বা বোনাস যুক্ত থাকে। যখন কোনো ফুটবলার এই খেতাব অর্জন করেন, তখন তার ক্লাব বা বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বোনাস প্রদান করে। ফলে সরাসরি পুরস্কার হিসেবে কিছু না এলেও, পরোক্ষভাবে এই ট্রফি একজন খেলোয়াড়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের অর্থ যুক্ত হওয়ার পথ সুগম করে দেয়।

ট্রফিটির নিজস্ব মূল্যায়নও বেশ আকর্ষণীয়। ব্যালন ডি’অরের এই সোনালি ট্রফিটি তৈরির পেছনে রয়েছে নিপুণ কারিগরি দক্ষতা ও বিশেষ উপকরণের সংমিশ্রণ। এটি পুরোপুরি নিখাদ সোনা দিয়ে তৈরি নয়, বরং পিতলের ওপর সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়। ট্রফিটির ওজন প্রায় সাত কিলোগ্রাম। এর নকশা ও তৈরির প্রক্রিয়া বেশ জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। যদিও ট্রফিটির কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন, তবে এর উপাদান, শৈল্পিক মূল্য ও তৈরির খরচ মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা এর বাজারমূল্য কয়েক হাজার ইউরো থেকে শুরু করে তিন-চার হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করেন। তবে ফুটবল ইতিহাসে এই ট্রফির প্রকৃত মূল্য অর্থের চেয়ে অনেক বেশি, কারণ এটি খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

ব্যালন ডি’অরের জৌলুস শুধুমাত্র অর্থ বা ট্রফির ধাতব মূল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে খেলোয়াড় তার ব্র্যান্ড ভ্যালুকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে একজন খেলোয়াড়ের পরিচিতি, বাণিজ্যিক জনপ্রিয়তা এবং ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড হিসেবে প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায়। এর ফলে তিনি মাঠের বাইরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি ও এন্ডোর্সমেন্ট থেকে যে আয় করেন, তা ব্যালন ডি’অর জয়ের আসল আর্থিক প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ব্যালন ডি’অর নিজে সরাসরি নগদ অর্থ প্রদানের পুরস্কার না হলেও, এটি একজন ফুটবলারের আর্থিক ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের রূঢ় বাস্তবতায় উপকূলের প্রবীণরা: নিঃসঙ্গতায় কাটছে শেষবেলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
জলবায়ু পরিবর্তনের রূঢ় বাস্তবতায় উপকূলের প্রবীণরা: নিঃসঙ্গতায় কাটছে শেষবেলা

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এর সরাসরি ধাক্কায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সেখানকার প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জীবন। আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের দিকে তাকালে উপকূলের এই করুণ চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এলাকার হাওলাদার বাড়ির কাছে খালের পাড়ে ছোট এক খুপরি ঘরে দিন কাটে সত্তরের কোঠা পার করা শাহজাহান ও তার ষাটোর্ধ্ব স্ত্রী রাবেয়া বেগমের। ঘরটির চারপাশ ঘিরে শুধুই অথৈ জলরাশি। কিন্তু সেই পানি ব্যবহারের অযোগ্য। লোনা পানির আগ্রাসনে জনজীবন যেমন স্থবির হয়ে পড়েছে, তেমনি দীর্ঘস্থায়ী সংকট থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না তারা।

এক সময় যে ভিটেমাটিতে তারা সুখের সংসার গড়েছিলেন, আজ তা স্মৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়। জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডবে কৃষি জমি তলিয়ে গেছে, মিষ্টি পানির উৎসগুলো হারিয়েছে তার গুণাগুণ। চারিদিকে লোনা পানির বিস্তার ঘটায় চাষাবাদের উপায় নেই, দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজেও এই পানি ব্যবহার করা অসম্ভব। রাবেয়া বেগমের মতো প্রবীণ নারীরা দিনভর ঘরের দাওয়ায় বসে থাকেন, তাকিয়ে থাকেন দিগন্তজোড়া সেই বিষাক্ত জলরাশির দিকে। তাদের এই দীর্ঘ অপেক্ষার কারণ আর কিছুই নয়, একটু স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা। কিন্তু বার্ধক্যের ভারে ন্যুব্জ এই দম্পতি এখন কার্যত অসহায়। নিজেদের সবটুকু সম্বল হারিয়ে তারা আজ নিঃস্ব।

জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরূপ প্রভাব কেবল শাহজাহান বা রাবেয়া বেগমের একার সমস্যা নয়। সাতক্ষীরার মতো উপকূলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে শত শত প্রবীণ পরিবার আজ একই বাস্তবতার মুখোমুখি। তরুণ প্রজন্ম জীবিকার সন্ধানে শহরে পাড়ি জমালেও বয়সের ভারে ন্যুব্জ প্রবীণরা এই প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়া, পুষ্টিহীনতা আর সুপেয় পানির অভাবে দিন দিন শারীরিক অসুস্থতা বাড়ছে তাদের। অথচ এই বয়সে তাদের একটু প্রশান্তিতে থাকার কথা ছিল। কিন্তু লোনা পানির আগ্রাসন তাদের জীবনের শেষ অধ্যায়কে করেছে অনিশ্চিত ও যন্ত্রণাময়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য এই সংকট নতুন নয়, তবে এর তীব্রতা সময়ের সঙ্গে বাড়ছে। লোনা পানির কারণে কৃষিনির্ভর এই অর্থনীতিতে এখন চাষাবাদ অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেকেরই আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। প্রবীণরা যারা আজীবন কৃষি বা মৎস্য আহরণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা এখন হাত গুটিয়ে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। তরুণরা বাইরে থেকে কিছুটা সহায়তা পাঠালেও প্রবীণদের দীর্ঘস্থায়ী পুনর্বাসন ও স্বাস্থ্যসুরক্ষার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠেনি। ফলে তারা দিনের পর দিন নিঃসঙ্গতা ও অবহেলায় জীবন কাটাচ্ছেন।

উপকূলের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর এই সংকট নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের প্রয়োজন। কেবল ত্রাণ সহায়তা দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। জলবায়ু সহনশীল ঘরবাড়ি নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং প্রবীণদের জন্য বিশেষ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, উপকূলের এই জনপদ থেকে হারিয়ে যাবে প্রবীণদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার। লোনা পানির নিচে তলিয়ে থাকা সেই ছোট্ট খুপরি ঘরগুলোর সামনে বসে থাকা প্রবীণরা আজ কেবল সময়ের সাক্ষী হয়েই বেঁচে আছেন, যার পাশে দাঁড়িয়ে দেখার মতো মানুষের বড্ড অভাব।

গুলশানে কিংফিশার রেস্টুরেন্টে বিশেষ অভিযান, জব্দ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
গুলশানে কিংফিশার রেস্টুরেন্টে বিশেষ অভিযান, জব্দ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ

রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত জনপ্রিয় কিংফিশার রেস্টুরেন্টে আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিশেষ গোয়েন্দা দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই দীর্ঘ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও শুল্ক ফাঁকি দেওয়া অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় উদ্ধার করা হয়েছে। রেস্টুরেন্টটিতে এসব পানীয় মজুত করার পেছনে যথাযথ আইনি নথিপত্র বা অনুমোদন ছিল না বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে অবস্থিত এই রেস্টুরেন্টে এনবিআরের চারটি গোয়েন্দা ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল তল্লাশি শুরু করে। টানা তিন ঘণ্টা ব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন কর্নারে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল সংখ্যক মদের বোতল ও ক্যান উদ্ধার করা হয়, যার অধিকাংশই অবৈধভাবে মজুত করা ছিল।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল যে, উচ্চ শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যগুলো আইন অমান্য করে এবং যথাযথ শুল্ক পরিশোধ না করে রেস্টুরেন্টটিতে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে রাজস্ব বোর্ডের গোয়েন্দারা বেশ কিছুদিন ধরে ওই রেস্টুরেন্টের ওপর নজরদারি করছিলেন। এরপর অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং রবিবার গভীর রাতে কার্যকর করা হয়। অভিযানে জব্দকৃত এসব মদের বৈধ কোনো কাগজপত্র বা আমদানিসংক্রান্ত নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই বিশাল পরিমাণ বিদেশি মদ অবৈধভাবে মজুত করা হয়েছিল। উদ্ধার করা এসব পণ্যের মোট বাজারমূল্য ও শুল্ক ফাঁকির পরিমাণ নিরূপণের কাজ করছে এনবিআর। জব্দকৃত মদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনা গুলশান এলাকায় অবস্থিত অন্যান্য রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে শুল্ক সংক্রান্ত আইন না মেনে যারা ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের জন্য এই অভিযান একটি কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিযানের সময় রেস্টুরেন্টে কর্মরত কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কারা এই অবৈধ মদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছিলেন, তা জানার চেষ্টা করেছেন গোয়েন্দারা। জব্দকৃত পণ্যগুলো সরকারি গুদামে স্থানান্তর করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শুল্ক আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে এনবিআর সূত্রে আভাস দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর গুলশানে এই অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভোজনরসিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিংফিশার রেস্টুরেন্টের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা এনবিআরের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের নাম বা বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল বা বড় ধরনের জরিমানার মুখোমুখি হতে পারে কিংফিশার রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ
ব্যালন ডি’অর জয়ের আর্থিক পুরস্কার ও ট্রফির রহস্য জলবায়ু পরিবর্তনের রূঢ় বাস্তবতায় উপকূলের প্রবীণরা: নিঃসঙ্গতায় কাটছে শেষবেলা গুলশানে কিংফিশার রেস্টুরেন্টে বিশেষ অভিযান, জব্দ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ সৌদির তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলার দাবি হুথিদের দিল্লি-চণ্ডীগড় যাতায়াত সহজ করতে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে: সাশ্রয় হবে মূল্যবান সময় এল ক্লাসিকো পরবর্তী চুলচেরা বিশ্লেষণ: কার পারফরম্যান্স কেমন, কী বললেন কোচ ও খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অস্থিরতার ছাপ: ব্রাজিল ও সার্বিয়ার নির্বাচনে বড় পরিবর্তন, ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য পৌর এলাকার পানির সংকট নিরসনে শোধনাগার চালুর দাবি সার্বিয়ার রাজনীতিতে বড় অঘটন: ভুচিসের দীর্ঘ শাসনে ইতি, তরুণ শক্তির উত্থান পরিবেশ রক্ষা ও জাহাজভাঙা শিল্প: সরকারি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন
Advertisement