খুঁজুন
, ,

সাভারে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
সাভারে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী গ্রেফতার

ঢাকার সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ওই মাদ্রাসার মালিক ও প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে। এই জঘন্য অপরাধের ঘটনায় মাদ্রাসাছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বুধবার ঘটেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন মাওলানা মো. আব্দুল বারী, যিনি ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এই ঘটনার সময় প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী অভিযুক্তকে সহায়তা করেছেন এবং বিষয়টি গোপন রাখার জন্য শিশুটিকে হুমকি দিয়েছেন। শিশুটির পরিবার অভিযোগ করেছে যে, ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং তাকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি এখন প্রধান বিবেচ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. আব্দুল বারী আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের কয়েকটি দল মাঠে কাজ করছে। তার অবস্থান শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা নিয়েও কাজ চলছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এই মাদ্রাসায় এমন কর্মকাণ্ডে তারা হতবাক। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যখন শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের আলো অন্বেষণ করতে যায়, সেখানে এমন অনভিপ্রেত ও জঘন্য ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশু ও নারী নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই মামলার তদন্তে কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শনের সুযোগ নেই। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে খুব দ্রুত গ্রেফতার করা হবে বলে পুলিশ আশ্বস্ত করেছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং তাকে মানসিকভাবে সুস্থ করে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কাউন্সেলিং ও সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন সমাজকর্মীরা।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে। পালিয়ে থাকা অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশের সীমান্ত দিয়ে যেন পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর কালিমা লেপন করে। তাই বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি করে অপরাধীকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোই এখন পুলিশের মূল লক্ষ্য।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর মধ্যকার পবিত্র সম্পর্ককে পুঁজি করে যারা এমন অপরাধ করে, তাদের সামাজিক ও আইনগতভাবে একঘরে করে দেওয়া জরুরি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

মসজিদে রাজনৈতিক আলোচনা নিয়ে দ্বন্দ্ব: কুষ্টিয়ায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৪

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মসজিদে রাজনৈতিক আলোচনা নিয়ে দ্বন্দ্ব: কুষ্টিয়ায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৪

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় মসজিদে রাজনৈতিক আলোচনা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর কুর্শা ইউনিয়নের তারা চাঁদ মন্ডল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় উপাসনালয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আলোচনার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই বিবাদ শেষ পর্যন্ত হাতাহাতিতে গড়ায়, যার ফলে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন আসরের নামাজের পর মসজিদ প্রাঙ্গণে সমবেত হয়েছিলেন দুই দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। নামাজের পরপরই সেখানে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা তোলার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। এক পর্যায়ে তর্কের রেশ ধরে দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। মসজিদে উপস্থিত অন্যান্য মুসল্লিরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও বিবাদমান পক্ষগুলোর উত্তেজনার কারণে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

এই সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে কুর্শা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির জয়নাল আবেদীন এবং ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক স্বপন শেখ রয়েছেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তবে আহতের সংখ্যা চারজন হলেও তাদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে রাজনৈতিক আলোচনা ও এর জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মুসল্লিদের অনেকেই এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ধর্মীয় উপাসনালয়ের পবিত্রতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। সেখানে রাজনৈতিক এজেন্ডা বা বিতর্কিত আলোচনা চালানো ধর্মীয় রীতির পরিপন্থী। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার মতপার্থক্য মাঠপর্যায়ে সহিংস রূপ নেওয়া উদ্বেগের কারণ।

ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে কি না, তা নিয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত রয়েছেন এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার সম্পর্ক বা সমীকরণ নানা সময়ে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে দল দুটির মধ্যে কিছুটা সমন্বয় থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রায়শই তাদের মধ্যে মতের অমিল ও ছোটখাটো দ্বন্দ্বের খবর পাওয়া যায়। এবারের ঘটনাটি রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি স্থানীয় সাংগঠনিক শৃঙ্খলার অভাবকেও সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কুর্শা ইউনিয়নের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ চায়, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ধর্মীয় বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানে কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক বা সংঘাত না ঘটে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সচেতন থাকবে এবং নিজ নিজ কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দেবে।

বগুড়ায় অ্যাপে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বগুড়ায় অ্যাপে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার

বগুড়া জেলায় ডিজিটাল ওয়ালেট অ্যাপের মাধ্যমে অভিনব প্রতারণার একটি চক্রকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। বিনিয়োগের নামে প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ এবং অবৈধ ইলেকট্রনিক লেনদেনের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে তাদেরকে আটক করা হয়।

বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই চক্রটি একটি বিশেষ ডিজিটাল ওয়ালেট অ্যাপ ব্যবহার করে তাদের প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। তারা সাধারণ মানুষকে অতি অল্প সময়ে টাকা দ্বিগুণ বা বেশি মুনাফা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত। এ ধরনের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই তাদের পাতানো ফাঁদে পা দিতেন এবং বিনিয়োগের নামে টাকা জমা দিতেন।

অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধের কাজে সরাসরি ব্যবহৃত চারটি স্মার্টফোন এবং পাঁচটি সিম কার্ড। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই সিম কার্ডগুলো ব্যবহার করেই তারা প্রতারণার কাজ চালাত এবং গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করত। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে খুব কৌশলে সাধারণ মানুষের ডিজিটাল ওয়ালেটে নজর রাখত এবং অবৈধভাবে লেনদেন সম্পন্ন করত। প্রযুক্তিকে পুঁজি করে কীভাবে মানুষের সরলতাকে ব্যবহার করা যায়, সেই ছক তারা আগে থেকেই কষে রেখেছিল। ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং তাদের বিস্তৃতি কতদূর, তা যাচাই করতে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাপভিত্তিক প্রতারণা বা ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগের নামে প্রলোভন দেখালে বা অপরিচিত অ্যাপে লেনদেন করতে বললে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে অতি মুনাফার লোভ দেখিয়ে এমন অনেক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি ডিজিটাল জালিয়াতি করে থাকে, যা থেকে সাধারণ মানুষকে সবসময় সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের এই সফল অভিযানটি স্থানীয়ভাবে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পরিবর্তে সাইবার অপরাধে লিপ্ত হওয়া এই চক্রের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। পুলিশ জানিয়েছে, যারা এই চক্রের খপ্পরে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে চার্জশিট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এই ধরণের অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও তারা উল্লেখ করেন। সাধারণ মানুষকে যেকোনো ডিজিটাল বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানের বৈধতা এবং অ্যাপের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করার জন্য বারবার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।

রাজশাহীর কাটাখালীতে ঘরের মেঝের নিচে গোপন মাদকের আস্তানা, গ্রেফতার দুই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
রাজশাহীর কাটাখালীতে ঘরের মেঝের নিচে গোপন মাদকের আস্তানা, গ্রেফতার দুই

রাজশাহী মহানগরীর কাটাখালী এলাকায় মাদকের কারবারিদের এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর আস্তানার সন্ধান পেয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সাধারণ মানুষের নজর এড়াতে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে একটি বসতবাড়ির মেঝের নিচে টাইলস তুলে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল মাদকের গোপন ভাণ্ডার বা গোডাউন। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এই আস্তানার খোঁজ মেলে এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরএমপির একটি চৌকস দল কাটাখালীতে অভিযান পরিচালনা করে। প্রাথমিক অবস্থায় বাড়িটিতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা গেলেও তল্লাশি চালানোর সময় মেঝের টাইলসের অংশে অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে। পরবর্তীকালে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সেখানে তল্লাশি চালিয়ে মেঝের নিচ থেকে কৌশলে লুকিয়ে রাখা একটি গোপন কুঠুরির সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই গোপন কক্ষটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় ছিল না সেখানে কিছু লুকানো আছে।

অভিযান পরিচালনাকারী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই গোপন গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৩ হাজার ৭০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এটি একটি উচ্চমাত্রার ব্যথানাশক ওষুধ হলেও মাদক কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে এটিকে নেশাজাতীয় দ্রব্য হিসেবে অপব্যবহার করে আসছে। মাদকের চালানের পাশাপাশি ওই স্থান থেকে মাদক বিক্রির নগদ ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, যা কারবারিদের বড় ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি স্পষ্ট করে। এছাড়াও জব্দ করা হয়েছে একটি মোবাইল ফোন, যা মাদক চোরাচালান ও বিক্রির নেটওয়ার্ক শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছে তদন্তকারী দল।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, মাদক কারবারের নেটওয়ার্কটি কেবল ওই নির্দিষ্ট বাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজনের বাড়িতে আলাদাভাবে তল্লাশি চালিয়ে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজাও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, অপরাধীরা বেশ সুসংগঠিতভাবে বিভিন্ন স্থানে মাদক মজুত করে আসছিল। স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের বিস্তার রোধে আরএমপির এই অভিযানকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদক কারবারিরা নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম নস্যাৎ করা সম্ভব হচ্ছে। এই ঘটনার নেপথ্যে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং মাদকগুলো কোথা থেকে আসছিল—তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মাদক সিন্ডিকেটের আরও হোতা ও সহযোগীদের নাম বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

রাজশাহীর সাধারণ সচেতন নাগরিকরা মাদকের এমন ভয়াবহ বিস্তার দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, লোকালয়ের ভেতর বিশেষ কক্ষ বা ভূগর্ভস্থ আস্তানা তৈরি করে মাদক ব্যবসায়ীদের এমন কর্মকাণ্ড রুখতে এলাকাবাসীর সজাগ দৃষ্টি রাখা জরুরি। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, জনমনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদকের কালো থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আরএমপি বদ্ধপরিকর।

সর্বশেষ
মসজিদে রাজনৈতিক আলোচনা নিয়ে দ্বন্দ্ব: কুষ্টিয়ায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৪ সাভারে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী গ্রেফতার বগুড়ায় অ্যাপে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার রাজশাহীর কাটাখালীতে ঘরের মেঝের নিচে গোপন মাদকের আস্তানা, গ্রেফতার দুই আজকের খেলার সূচি: টিভিতে চোখ রাখবেন যেভাবে ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির নতুন ইতিহাস গড়লেন হ্যারি ব্রুক পাবনায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন দুই আরোহী ইন্টারনেট স্বাধীনতায় সামান্য উন্নতি বাংলাদেশের, উদ্বেগের কেন্দ্রে গণমাধ্যম ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত ও করণীয় শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা গণঅধিকার পরিষদের
Advertisement