খুঁজুন
, ,

লিপ সেকেন্ড থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বিশ্ব: ২০২৭ সালে কার্যকর হবে নতুন সময় গণনা

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
লিপ সেকেন্ড থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বিশ্ব: ২০২৭ সালে কার্যকর হবে নতুন সময় গণনা

সময়ের সূক্ষ্ম হিসাব নিয়ে গত কয়েক দশক ধরে চলে আসা বিতর্ক ও আলোচনার ইতি টানতে যাচ্ছে বিশ্ব। ঘড়ির কাঁটায় সময় সমন্বয় করার জন্য যে লিপ সেকেন্ডের ধারণাটি প্রচলিত ছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আগামী ২০২৭ সালের পর থেকে আর লিপ সেকেন্ডের প্রয়োজন হবে না এবং এই পদ্ধতি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইন্টারন্যাশন্যাল ব্যুরো অফ ওয়েটস অ্যান্ড মেজারমেন্টস-এর সাম্প্রতিক এই ঘোষণা বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

লিপ সেকেন্ড মূলত পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির সঙ্গে পারমাণবিক ঘড়ির সময়ের সামঞ্জস্য বজায় রাখার একটি প্রক্রিয়া ছিল। পৃথিবী তার অক্ষে সবসময় সমান গতিতে ঘোরে না। কখনও এর ঘূর্ণন গতি সামান্য ধীর হয়ে যায়, আবার কখনও গতি বাড়ে। পৃথিবীর ঘূর্ণন ও পারমাণবিক ঘড়ির এই পার্থক্যের কারণে সময়ের হিসাবে গরমিল দেখা দেয়। এই সূক্ষ্ম পার্থক্য দূর করতে ১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩২ বার বৈশ্বিক সময়ের সঙ্গে অতিরিক্ত এক সেকেন্ড যোগ করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত এক সেকেন্ডটিই পরিচিত ‘লিপ সেকেন্ড’ নামে। তবে এই সামান্য মনে হওয়া এক সেকেন্ড প্রযুক্তি বিশ্বে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে সক্ষম।

বর্তমান যুগে ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, জিপিএস সিস্টেম, আধুনিক ব্যাংকিং লেনদেন এবং বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিটি খুঁটিনাটি ডিজিটাল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল। এই নেটওয়ার্কগুলো অত্যন্ত নিখুঁত পারমাণবিক ঘড়ির সময়ের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। লিপ সেকেন্ড যখন যোগ করা হয়, তখন বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল অবকাঠামোতে এক ধরনের অস্থিরতা বা ট্রাফিক জ্যামের মতো পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। যদিও সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে আমরা এটি টেরই পাই না, কিন্তু সফটওয়্যার সিস্টেমের জন্য এই বিরতি বা বাড়তি সেকেন্ড বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। কখনো কখনো এই প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও থাকে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘নেগেটিভ লিপ সেকেন্ড’ বা নেতিবাচক লিপ সেকেন্ডের ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ গবেষণার সারমর্ম হলো, বর্তমান প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের যুগে এভাবে বারবার সময়ের সঙ্গে হেরফের করা আর নিরাপদ নয়। প্রযুক্তির এই জটিল নেটওয়ার্ককে নির্বিঘ্ন রাখতে লিপ সেকেন্ডের মতো অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা বাদ দেওয়া এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ২০২৭ সালের মে মাসের পর থেকে এই নিয়মটি আর কার্যকর থাকবে না। অর্থাৎ তখন থেকে ঘড়ির কাঁটা আর নতুন করে লিপ সেকেন্ডের কারণে বাধাগ্রস্ত হবে না বা নতুন কোনো সেকেন্ড যুক্ত হবে না।

এই পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বড় সুবিধা পাবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। জিপিএস ন্যাভিগেশন, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল এবং ডিজিটাল লেনদেনের সার্ভারগুলো এখন অনেক বেশি স্থিতিশীল থাকবে। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে যে সামান্য সময়ের বিচ্যুতি ঘটবে, তা প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে সামঞ্জস্য করার পরিকল্পনা রয়েছে বিজ্ঞানীদের। অর্থাৎ মানবসভ্যতা এমন এক যুগে প্রবেশ করছে যেখানে সময়ের হিসাব হবে আরও বেশি ডিজিটাল ও গাণিতিক, যেখানে প্রথাগত ঘড়ির সঙ্গে পৃথিবীর ঘূর্ণনের সামান্য অমিল আর প্রযুক্তির পথ রোধ করবে না। লিপ সেকেন্ডের বিদায় নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকে একটি মসৃণ ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত সময়ের দিকে এগিয়ে নেবে।

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীদের গণসংযোগ

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
   
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীদের গণসংযোগ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: আসন্ন ঠাকুরগাঁও সদর-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীরা। 

বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পথচারীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট চান তাঁরা। নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবসায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

গণসংযোগকালে ব্যবসায়ীরা স্লোগান দেন, “ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী ভাই ভাই, আমাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নাই—ধানের শীষে ভোট চাই।” এ স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আসন্ন উপনির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তুলতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন।

গণসংযোগে অংশ নেওয়া সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁরা মনে করেন, ব্যবসায়ীদের ন্যায্য দাবি ও প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় সামনে রেখে তাঁরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।

তাঁরা আরও জানান, আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের কাছে প্রার্থীর পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে এ গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত তাঁরা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

গণসংযোগের মাধ্যমে সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীরা ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে তাঁদের সমর্থন তুলে ধরেন। শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পথচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে তাঁরা নির্বাচনী প্রচারণা চালান।

ঠাকুরগাঁও সদর-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নির্বাচনী আলোচনা ও প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীদের এ গণসংযোগ নির্বাচনী মাঠে নতুন করে প্রচারণার মাত্রা যোগ করেছে।

বরিশালে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’, মারধরের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
বরিশালে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’, মারধরের অভিযোগ

বরিশাল মহানগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কয়েকজনকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করেই বিএনপি নেতা ফারুকের নেতৃত্বে একদল অনুসারী ওই এলাকায় উপস্থিত হয় এবং মাদক ব্যবসায়ীদের ধরপাকড় শুরু করে। এই অভিযানের এক পর্যায়ে বেশ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে মনিরুজ্জামান খান ফারুক ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন আমানতগঞ্জ এলাকার একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হন। তারা সেখানে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে লোকজনের ওপর চড়াও হন। হঠাৎ এই অভিযানে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উপস্থিত সাধারণ মানুষ ভয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে এবং ওই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই নিজ হাতে আইন তুলে নিয়ে ওই বিএনপি নেতা ও তার অনুসারীরা কয়েকজনকে মারধর করেন।

আমানতগঞ্জ এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এলাকায় মাদক কারবারিদের উৎপাত রয়েছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ে কোনো সাধারণ মানুষকে মারধর করা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা পালন করা কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়েরের খবর পাওয়া না গেলেও, ঘটনার সময় উপস্থিত অনেকেই জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশের সহায়তা বা উপস্থিতিও সেখানে চোখে পড়েনি।

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ দাবি করছেন, এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা স্থানীয় উদ্যোগে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন। তবে অভিযানের সময় মারধরের যে অভিযোগ উঠেছে, সে সম্পর্কে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করা ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে কাউকে মারধর করা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ হলো অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা এবং তাদের আইনের আওতায় আনা। কোনো রাজনৈতিক নেতা বা ব্যক্তিবিশেষের এমন ‘অভিযান’ সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট করার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। রাজনৈতিক নেতারা যদি নিজেরা বিচারক সেজে মারধর শুরু করেন, তবে তাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। প্রশাসন এই ঘটনায় কোনো তদন্ত করবে কি না, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো মামলা বা অভিযোগ পুলিশের কাছে নথিভুক্ত হয়নি। তবে আমানতগঞ্জের বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগে ফেঁসে গেলেন অফ স্পিনার আলিস আল ইসলাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগে ফেঁসে গেলেন অফ স্পিনার আলিস আল ইসলাম

ক্রিকেট মাঠে বাংলাদেশের নতুন কোনো বোলার যখন আলো ছড়াতে শুরু করেন, তখন তা যেমন আশার সঞ্চার করে, ঠিক তেমনি সেই বোলারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা হয়ে দাঁড়ায় বড় উদ্বেগের বিষয়। ঠিক এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি এখন অফ স্পিনার আলিস আল ইসলাম। ত্রিদেশীয় সিরিজের আসরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। কিন্তু সেই স্মরণীয় ম্যাচটিই এখন তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়ের সূচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ম্যাচ শেষে তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে যে সন্দেহের দানা বেঁধেছে, তা তাকে ফেলেছে বড় ধরনের আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতার মুখে।

ঘটনার সূত্রপাত শারজাহর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে। বাংলাদেশের জন্য এমনিতেই সিরিজটি খুব একটা সুখকর যাচ্ছে না, তার ওপর এই খবরটি দলের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা হিসেবেই এসেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর আলিসের বোলিং ভঙ্গিমা বা অ্যাকশন নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের তরফ থেকে আপত্তি তোলা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী, যখন কোনো বোলারের অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়, তখন তাকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। এই নিয়ম থেকেই আলিস এখন আর রেহাই পাচ্ছেন না।

বোলিং অ্যাকশন সন্দেহের তালিকায় নাম ওঠার মানেই হলো সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারকে এখন পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আইসিসির স্বীকৃত কোনো ল্যাবে বা কেন্দ্রে তাকে তার বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষা করাতে হবে। যতক্ষণ না এই পরীক্ষায় তিনি উতরে যাচ্ছেন বা তার অ্যাকশন বৈধ বলে প্রমাণিত হচ্ছে, ততক্ষণ তাকে নিয়মিত বোলিং করার ক্ষেত্রে বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকার লড়াইয়ে বড় ধরনের চাপের মুখে থাকতে হবে। বাংলাদেশ দলের থিংক ট্যাংক এখন এই বিষয়টি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। দলের নতুন বোলার হিসেবে আলিস যেভাবে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করছিলেন, তাতে এই বিতর্ক তার জন্য বড় ধরনের একটি ধাক্কা।

ক্রিকেট বিশ্বে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠা নতুন কিছু নয়। অতীতে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন বোলারকেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বিষয়টি কতটুকু গুরুতর হতে পারে, তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলিসের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শান্ত থেকে আইসিসির নীতিমালা মেনে অ্যাকশন সংশোধনের কাজ করা। যদি পরীক্ষায় কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে, তবে তাকে বোলিং কোচিংয়ের সাহায্য নিতে হবে এবং নিজের বোলিংয়ের ধরন পরিবর্তন করতে হবে, যা একজন বোলারের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি প্রক্রিয়া।

শারজাহর সেই ওয়ানডে ম্যাচটি ছিল আলিসের জন্য স্বপ্নের মতো একটি সুযোগ। বড় মঞ্চে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার সব সম্ভাবনা ছিল তার সামনে। কিন্তু ম্যাচের পর যেভাবে এই বিতর্ক সামনে এসেছে, তা পুরো দলের জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। সিরিজের মাঝপথেই এমন এক খবর দলের মনোযোগেও বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে, বিসিবির পক্ষ থেকেও পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আলিসকে কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনা যায় এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াগুলো কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়েই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, আলিস আল ইসলামের ক্যারিয়ারের জন্য এটি একটি অগ্নিপরীক্ষার সময়। নিজের বোলিং অ্যাকশনকে শতভাগ নির্ভুল প্রমাণ করাই এখন তার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ক্রিকেট ভক্তরা আশা করছেন, দ্রুত এই জটিলতা কাটিয়ে তিনি আবারও মাঠে ফিরবেন এবং নিজের প্রতিভা দিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবেন। তবে আপাতত তাকে যে নিয়ম ও কঠোর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, তা তার ধৈর্য ও মানসিক শক্তির এক বড় পরীক্ষা।

সর্বশেষ
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীদের গণসংযোগ বরিশালে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’, মারধরের অভিযোগ সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগে ফেঁসে গেলেন অফ স্পিনার আলিস আল ইসলাম দিল্লিতে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক: ‘পিপল এগেইনস্ট এসআইআর’-এর কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা চীনে আন্তর্জাতিক কোল্ড চেইন এক্সপোতে নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁওয়ের রবিন উপনির্বাচন ঘিরে ভূল্লীতে বিসিডিএসের ঔষধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা মসজিদে নয়, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় বক্তব্য দিয়েছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী লিপ সেকেন্ড থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বিশ্ব: ২০২৭ সালে কার্যকর হবে নতুন সময় গণনা শরৎ ঋতুতেও তানজিয়া মিথিলার ফ্যাশন সচেতনতা নজর কেড়েছে ভক্তদের উত্তরায় ‘দে লাড়া’ কিশোরগ্যাং গ্রুপের মূলহোতা পিচ্চি সানি গ্রেপ্তার
Advertisement