খুঁজুন
, ,

কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চারজনের বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ আজ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চারজনের বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ আজ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত ছয় হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। আজ আদালত এই মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যে অস্থিরতা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল, তার রেশ এখনো আইন-আদালতের আঙিনায়। বিশেষ করে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এই মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ মোট চারজন আসামি রয়েছেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি এখন এমন একটি ধাপে পৌঁছেছে যেখানে বিচারক রায় ঘোষণার দিন তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারেন। আজ সংশ্লিষ্ট আদালতে এ বিষয়ে শুনানি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আইনি সূত্রে জানা গেছে।

২০২৪ সালের ওই সময়ে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নিরীহ মানুষের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই সহিংসতায় ছয়জন প্রাণ হারানোর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে আসামি করা হয়। মাহবুব-উল আলম হানিফসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ইতিমধ্যে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র উপস্থাপন করেছেন। আদালত দীর্ঘ সময় ধরে উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করেছেন এবং মামলার নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছেন। এখন চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

আইনজীবীদের মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার প্রক্রিয়া বেশ জটিল এবং স্পর্শকাতর। এই ধরনের মামলায় প্রতিটি সাক্ষ্য ও প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাই করা হয়। কুষ্টিয়ার এই মামলায় চারজন আসামির সম্পৃক্ততার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যেসব তথ্য-উপাত্ত হাজির করেছে, তার ওপর ভিত্তি করেই আদালত তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আজ যদি রায়ের জন্য কোনো দিনক্ষণ ধার্য করা হয়, তবে সেটি হবে বিচার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপ। এর আগে আসামিপক্ষ নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য ও যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন, যা আইনি বিধিমালার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মামলাটি পরিচালনা করছেন রাষ্ট্রপক্ষের অভিজ্ঞ আইনজীবীরা, যারা শুরু থেকেই প্রতিটি সেশনে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজেদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করার চেষ্টা করেছেন। বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আজ রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে আদেশ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এবং আদালতের কার্যতালিকার ওপর নির্ভর করছে।

সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। আন্দোলনের সময় যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দিকে তাকিয়ে আছেন। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীরা সাজা পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। একই সাথে দেশের চলমান বিচারিক সংস্কার ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই এই মামলাটিকে দেখা হচ্ছে।

আইনি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজ যদি রায় ঘোষণার দিন ঠিক করা হয়, তবে তা দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি বার্তা দেবে যে, জননিরাপত্তা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের আদেশের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত বিচারিক রায় ঘোষণা করা হবে। আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টরা আজ দিনের কার্যক্রমের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।

পুলিশ মহাপরিদর্শকের ক্রসফায়ার সংক্রান্ত মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
   
পুলিশ মহাপরিদর্শকের ক্রসফায়ার সংক্রান্ত মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা কথিত ক্রসফায়ার নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী হোসেন ফকিরের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থেকে এই ধরনের বক্তব্য আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। এই প্রেক্ষিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং মানবাধিকার সংস্থা অধিকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে।

টিআইবি এবং অধিকারের পক্ষ থেকে পাঠানো আলাদা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা যখন আইনের শাসনের পরিপন্থী কোনো বক্তব্য দেন, তখন সেটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করে। বিচারবহির্ভূত হত্যা কোনো সভ্য সমাজে পুলিশের আইনি কার্যক্রম হতে পারে না। আইনি কাঠামো অনুযায়ী, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার বিচার হওয়ার কথা আদালতে। পুলিশের দায়িত্ব হলো অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা, তাকে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা। কিন্তু ক্রসফায়ারের সাফাই গাওয়া বা এর যৌক্তিকতা নিয়ে কথা বলা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক।

মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিগত সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায়মুক্তির সংস্কৃতি লক্ষ্য করা গেছে। এখন পুলিশ মহাপরিদর্শকের মতো দায়িত্বশীল পদে থাকা কেউ যখন এই বিষয়ে বিতর্কিত বক্তব্য প্রদান করেন, তখন তা অপরাধীদের উৎসাহিত করতে পারে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কেবল মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনই নয়, এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ও আইনি কাঠামোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে ধূলিসাৎ করে দেয়।

টিআইবি-এর পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, পুলিশ মহাপরিদর্শকের এমন বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকারান্তরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক শর্ত হলো রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যেকের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যদি নিজেরাই আইনের প্রয়োগকর্তা না হয়ে বিচারকের ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন, তবে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা অনিবার্য হয়ে ওঠে।

উভয় সংস্থার ভাষ্যমতে, পুলিশের কাজ হলো তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও তদন্তের মাধ্যমে অপরাধের রহস্য উদঘাটন করা এবং আদালতে যথাযথ চার্জশিট দাখিল করা। এর পরিবর্তে ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত পথ অবলম্বন করা কোনো আইনি সমাধান নয়। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। টিআইবি ও অধিকার দ্রুত এই ধরনের বিতর্কিত বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একজন পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য আসার পর বিষয়টি নিয়ে যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত এবং এই বিষয়ে পুলিশের অবস্থানের স্পষ্টীকরণ দরকার। বিচারবহির্ভূত হত্যা বা ক্রসফায়ার বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন টিআইবি ও অধিকারের দায়িত্বশীলরা। তাদের মতে, কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করার সুযোগ নেই এবং রাষ্ট্রের সকল বাহিনীকে আইনের শাসনের সীমানার ভেতরে থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

চট্টগ্রামে খোয়া যাওয়া ১০৭টি মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের ফিরিয়ে দিলেন পুলিশ সুপার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
   
চট্টগ্রামে খোয়া যাওয়া ১০৭টি মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের ফিরিয়ে দিলেন পুলিশ সুপার

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ১০৭টি স্মার্টফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এসব মোবাইল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ প্রচেষ্টায় দীর্ঘসময় ধরে হারিয়ে যাওয়া ১০৭টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে এসব ডিভাইস খুঁজে পাওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত মালিকদের হাতে সেগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মালিকদের হাতে এসব মোবাইল তুলে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস দল দীর্ঘ সময় ধরে এই মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধারে কাজ করে আসছিল। বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষ তাদের মূল্যবান মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেছিলেন। সেই জিডিগুলোর সূত্র ধরে গোয়েন্দা পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। উদ্ধারের পর পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকৃত মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মোবাইলগুলো হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুলিশ সুপার মাসুদ মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন। এ সময় তিনি বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া জেলা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। মানুষ যখন তাদের প্রিয় কোনো প্রযুক্তিপণ্য হারিয়ে ফেলেন, তখন তারা বেশ দুশ্চিন্তায় থাকেন। আমরা সেই দুশ্চিন্তা লাঘব করতে ডিবি পুলিশের বিশেষ প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়েছি। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত অনেকে তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, হারিয়ে যাওয়া ফোনটি ফিরে পাওয়ার আশা একরকম ছেড়েই দিয়েছিলেন তারা। পুলিশের আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই আজ তাদের দীর্ঘদিনের শঙ্কা দূর হয়েছে। পুলিশের এই কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি হচ্ছে বলেও তারা মনে করেন। দীর্ঘদিন ধরে ফোন হারানোর পর ফিরে পাওয়া মালিকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ লক্ষ্য করা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যারা এখনো তাদের হারিয়ে যাওয়া মোবাইলের বিষয়ে আইনি সহায়তা নিতে চান, তাদের দ্রুত নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল উদ্ধারে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও জোরদার করা হবে এবং এমন অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়া ভুক্তভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে উত্তাল শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
   
গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে উত্তাল শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণা মাঠ ফেরতের দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবির পাশাপাশি পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে গণজমায়েতের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) গবেষণা মাঠ উদ্ধারের দাবিতে চলমান আন্দোলন ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি—তাদের গবেষণার জন্য নির্ধারিত জমি বা মাঠ অবিলম্বে পুনরুদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। এই দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা গত কয়েকদিন ধরেই নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আসছেন। শিক্ষাকার্যক্রমে এই অচলাবস্থা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা নতুন করে গণজমায়েতের ঘোষণা দিয়েছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি না মেলায় তারা এই কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তাদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি হাতে-কলমে গবেষণার জন্য একটি নির্দিষ্ট মাঠ থাকা অপরিহার্য। সেই মাঠ অন্য কোনো কাজে ব্যবহৃত হওয়া বা বেদখল থাকা তাদের শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। মাঠ ফেরতের দাবিতে তারা কয়েকদফা দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এরই প্রতিবাদস্বরূপ শিক্ষার্থীরা তাদের সব ধরনের ক্লাস এবং নির্ধারিত পরীক্ষা বয়কট করেছেন।

শিক্ষার্থীদের ঘোষিত নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থিত ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডের সামনে এক বিশাল গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে। এই জমায়েতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যাপকহারে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জমায়েত পরবর্তী সময়ে তারা মিছিল নিয়ে গবেষণা মাঠের সামনের সড়কে অবস্থান নেবেন এবং সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত মাঠ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে চূড়ান্ত এবং কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের কর্মসূচি থেকে পিছু হটবেন না।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই কৃষি গবেষণার মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল বা ভিন্নভাবে ব্যবহৃত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার মান বিঘ্নিত হচ্ছে। হাতে-কলমে শেখার সুযোগ কমায় শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতা অর্জনে ঘাটতি বোধ করছেন। এই সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। তারা বলছেন, প্রশাসন যদি বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়, তবে আন্দোলনের মাত্রা আরও কঠোর করা ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা থাকবে না।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের এই ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী তাদের সেশনজট এবং সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকলেও, গবেষণার অধিকার রক্ষার দাবিকে তারা বড় করে দেখছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়। বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে যদি আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান বের করা সম্ভব হয়, তবেই স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশে ফিরে আসা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন এবং মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে যে, কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে এবং শিক্ষার্থীরা পুনরায় ক্লাসরুমে ফিরে যেতে পারবেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, তাদের দাবি ন্যায্য এবং এই লড়াই তাদের একাডেমিক ভবিষ্যতের জন্যই। মাঠ পুনরুদ্ধারের আগ পর্যন্ত তাদের এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

সর্বশেষ
পুলিশ মহাপরিদর্শকের ক্রসফায়ার সংক্রান্ত মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ চট্টগ্রামে খোয়া যাওয়া ১০৭টি মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের ফিরিয়ে দিলেন পুলিশ সুপার গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে উত্তাল শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চারজনের বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ আজ পশুর নদীতে কয়লাবোঝাই জাহাজডুবির ঘটনায় উদ্বেগ নায়করাজ রাজ্জাকের পরিবার ও অভিনয়ের ধারা: কেন সবার পথ সমান হয়নি পশ্চিমবঙ্গে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পুলিশের গুলিতে নিহত অভিযুক্ত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী তকমা থেকে মুক্তি চান প্রাথমিক শিক্ষকরা কার্ড অপারেশনস অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে এমআরইউ’র উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
Advertisement