খুঁজুন
, ,

কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, আহত স্ত্রীসহ চারজন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, আহত স্ত্রীসহ চারজন

কুষ্টিয়ার মিরপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আবু সাঈদ জাকারিয়া নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রবিবার দুপুরের দিকে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক সড়কে চার মাইল নামক স্থানে একটি কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত আবু সাঈদ জাকারিয়া কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় জাকারিয়ার স্ত্রী রুকাইয়া খাতুনসহ মোট চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, অটোরিকশাটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর ১টার দিকে অটোরিকশাটি যাত্রী নিয়ে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। ধাক্কা লাগার পরপরই অটোরিকশাটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। সংঘর্ষের পর কাভার্ড ভ্যানের চালক ও তার সহকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে কিনা বা চালক আটকের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহত আবু সাঈদ জাকারিয়ার মৃত্যুর খবরে তার পরিবার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার স্ত্রী ও অন্যদের সুস্থতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা। এদিকে, সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ব্যস্ততম এই সড়কে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর। নিয়ম না মেনে ভারী যান চলাচল ও চালকদের বেপরোয়া গতিই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করে। নিহত ছাত্রদল নেতার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়েরের তথ্য জানা যায়নি, তবে পুলিশ জানিয়েছে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক সড়কে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চালকের গাফিলতি ও রাস্তার সংকীর্ণতাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

বরিশালের মাঠে গড়াবে ডি-থ্রি ট্রফির উদ্বোধনী ও ফাইনাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
বরিশালের মাঠে গড়াবে ডি-থ্রি ট্রফির উদ্বোধনী ও ফাইনাল

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটাঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক নতুন টুর্নামেন্টের ঘোষণা দিয়েছে, যা ডি-থ্রি ট্রফি নামে পরিচিত। তিন সংস্করণের এই প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের মাধ্যমে। ক্রিকেট ভক্তদের জন্য বড় সুখবর হলো, এই টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ আয়োজনের ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বরিশালকে। উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পর্বের ফাইনাল পর্যন্ত সবকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে। বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে পর্দা উঠবে ডি-থ্রি ট্রফির এই টি-টোয়েন্টি আসরের। দীর্ঘ লড়াই ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ। দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় নতুন এই টুর্নামেন্টটি তরুণ ক্রিকেটারদের মেধা বিকাশে এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। টুর্নামেন্টের সূচি ঘোষণার পরপরই বরিশালের ক্রীড়ামোদী দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর নিজেদের মাটিতে এমন একটি জমজমাট টুর্নামেন্ট উপভোগ করার সুযোগ পাবে বরিশালবাসী, যা স্থানীয় ক্রিকেট সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তারা।

টুর্নামেন্টের যাবতীয় আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিসিবির পক্ষ থেকে মাঠের উইকেট ও গ্যালারি প্রস্তুতসহ আনুষঙ্গিক সব সুবিধার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচে কোন কোন দল মুখোমুখি হবে, তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল থাকলেও আনুষ্ঠানিক সূচি অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বরের ম্যাচটি দিয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। টুর্নামেন্টের প্লে-অফসহ সব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দেশের অন্যান্য প্রান্তের তুলনায় বরিশালের গুরুত্ব ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে আরও বৃদ্ধি পেল।

তিন সংস্করণের এই ডি-থ্রি ট্রফি আগামী দিনগুলোতে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের একটি বড় প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বোর্ডের নীতিনির্ধারকরা। একদিকে নতুন প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের খুঁজে বের করা এবং অন্যদিকে ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়ন—এই দুই লক্ষ্য নিয়েই টুর্নামেন্টটি সাজানো হয়েছে। ক্রিকেটবোদ্ধাদের মতে, দেশের জেলা পর্যায়ের স্টেডিয়ামগুলোতে বড় আসর আয়োজন করলে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে। সেই জায়গা থেকেই বরিশালকে এই টুর্নামেন্টের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।

টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ সূচি ও দলগুলোর নাম খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ওপর জোর দেওয়া হলেও, ভবিষ্যতে এই ট্রফির অধীনে অন্যান্য ফরম্যাটের খেলাও আয়োজিত হবে। সবমিলিয়ে ডিসেম্বর মাস জুড়ে বরিশালের আকাশ-বাতাস মুখরিত থাকবে ক্রিকেটের জাদুতে। খেলোয়াড়দের ফিটনেস থেকে শুরু করে মাঠের পরিবেশ—সবকিছুই আন্তর্জাতিক মানের বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি রয়েছে বিসিবির। আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবের অপেক্ষায় এখন দেশের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষ।

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালাল ইরান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালাল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রতিবেশী দেশ ইরাকের অভ্যন্তরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে ইরান। দেশটির কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের শক্তিশালী বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর স্থল বাহিনী এই অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটিতে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশের বালিসান এলাকায় এই হামলাটি পরিচালিত হয়। ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ওই অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী তৎপরতায় লিপ্ত ‘কোমালা’ নামক একটি গোষ্ঠীর সদর দফতরকে লক্ষ্য করেই মূলত এই ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর স্থল বাহিনীর বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবেই এই লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপের ফলে ইরাক ও ইরানের সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতেও ইরান তাদের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিভিন্ন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর উপস্থিতির অভিযোগে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই গোষ্ঠীগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থেই এই ধরনের সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে ইরাকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা বা তীব্র কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইরান ও ইরাকের মধ্যে নানাবিধ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকলেও সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের হামলা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কুর্দিস্তান অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের উপস্থিতি একটি জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ড্রোন হামলা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ইরানের সীমান্ত নীতি ও নিরাপত্তার কৌশলগত পরিবর্তনের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী সাধারণত দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বাইরের প্রতিপক্ষের ঘাঁটিতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। বালিসানের এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের কোনো গণমাধ্যম বা সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি।

অঞ্চলটির বর্তমান পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে ইরাকের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি এই ঘটনায় বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেশী কোনো দেশের ভূখণ্ডে এমন সরাসরি সামরিক হামলার বৈধতা এবং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে কূটনীতিবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। আগামী দিনগুলোতে ইরান ও ইরাকের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য উভয় দেশের পক্ষ থেকে সংযত আচরণ ও আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধানের পথ খোলা রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আপাতত পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

চীন-উত্তর কোরিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বারোপ কিমের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
চীন-উত্তর কোরিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বারোপ কিমের

ঐতিহাসিক মৈত্রী সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চীন ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন চীনের সীমান্তবর্তী শহর তানতোং সফর করেন। এই সফরকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। সফরকালে কিম জং উন চীনের শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা ওয়াং হুনিংয়ের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক আস্থা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে দুই পক্ষই তাদের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। চীন ও উত্তর কোরিয়ার এই কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা শুধু দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, বরং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবেই দেশ দুটি গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে আবদ্ধ। এই সফর সেই বন্ধনকেই পুনরায় ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশ যে একে অপরের পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে, তা এই সফরের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

বৈঠকে কিম জং উন এবং ওয়াং হুনিং উভয়েই উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বোঝাপড়া এবং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার বক্তব্যে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। চীনের পক্ষ থেকেও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দুই দেশের নেতাদের এই আলোচনা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রসার এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে একে অপরকে সহায়তার পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সীমান্তবর্তী শহর তানতোং চীনের জন্য উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের একটি প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। কিম জং উনের এই সফরকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তার পাশাপাশি কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এই সফর দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে দুই দেশের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কিম জং উনের এই তানতোং সফর নিছক সৌজন্যমূলক নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত কূটনৈতিক বার্তা। এর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়া বিশ্বকে এটাই দেখাতে চেয়েছে যে, যেকোনো বৈরী পরিস্থিতিতেও তাদের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থার জায়গাটি অটুট রয়েছে। ওয়াং হুনিংয়ের সঙ্গে কিম জং উনের এই বৈঠক দুই দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বোঝাপড়ার গভীরতা আরও বাড়িয়ে তুলবে। দুই দেশের মধ্যকার এই নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা আগামী দিনগুলোতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। আপাতত, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ এশিয়ান ভূ-রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সর্বশেষ
বরিশালের মাঠে গড়াবে ডি-থ্রি ট্রফির উদ্বোধনী ও ফাইনাল ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালাল ইরান চীন-উত্তর কোরিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বারোপ কিমের কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, আহত স্ত্রীসহ চারজন জনতা ব্যাংকের সার্ভারে সাইবার হামলার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলো ব্যাংক কর্তৃপক্ষ লাক্কাতুরা চা-বাগানে তিন মুচির পাশে মুরারিচাঁদ কলেজ বন্ধুসভা শেয়ারবাজারে তদন্তের নামে ভীতি না ছড়ানোর জন্য তথ্যভিত্তিক সার্ভেল্যান্সের নির্দেশ অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে জয়: শেষ আটে কলসিন্দুর ফুটবল একাডেমি মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর নায়কদের বর্তমান অবস্থা কসবায় শিশুকে দোকানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিসে চাপা দেওয়ার চেষ্টা
Advertisement