প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে, ক্ষোভে টিকটকারের মুখে চুন-কালি দিয়ে এলাকাছাড়া
নওগাঁর মহাদেবপুরে শ্যালিকাকে বিয়ে করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে। নিজের প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই শ্যালিকাকে বিয়ে করার ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ওই ব্যক্তিকে মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশায় একজন আইনজীবীর সহকারী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকটকার হিসেবেও পরিচিত।
ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার দিবাগত রাতে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ব্যক্তি এলাকায় নানা ধরনের টিকটক ভিডিও তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করলেও ব্যক্তিগত জীবনে তার নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল। তবে সম্প্রতি তিনি যখন নিজের প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে শ্যালিকাকে বিয়ে করেন, তখন বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা এই বিয়েকে সামাজিক ও পারিবারিক রীতির পরিপন্থী বলে মনে করছেন, যা তাদের মধ্যে తీవ్ర প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
সোমবার রাত ১০টার দিকে বিরামগ্রাম এলাকায় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তির মুখোমুখি হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তারা ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ফেলেন এবং বিয়ের বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর জনরোষের এক পর্যায়ে তার মুখে চুন ও কালি মাখিয়ে দেওয়া হয়। এমন অপমানজনক পরিস্থিতির পর তিনি ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে এবং কার সম্মতিতে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল, তা নিয়ে এলাকায় নানা মতভেদ রয়েছে। অনেকে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নৈতিকতার স্খলন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে আইন ও সমাজের প্রথা ভাঙার অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশাদার টিকটকার হওয়ার কারণে তার প্রতিটি পদক্ষেপ স্থানীয়দের নজর কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন ভিডিও শেয়ার করতেন, যা অনেকের কাছে পরিচিত। তবে শ্যালিকাকে বিয়ের এই ঘটনাটি তার ব্যক্তিগত ইমেজের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয়রা জানান, এই ঘটনার পরপরই তিনি এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার বা অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
বর্তমানে মহাদেবপুর উপজেলার সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তবে একজন ব্যক্তি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন এবং তার প্রথম স্ত্রী কীভাবে এই বিয়ে মেনে নিলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতুহলের শেষ নেই। বিয়ে বা পারিবারিক এই ধরনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনায় সাধারণত সামাজিকভাবে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়, এটি তারই একটি বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অনেকে। পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং আইনগত দিক খতিয়ে দেখার জন্য স্থানীয় সচেতন মহলে দাবি উঠছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]