খুঁজুন
, ,

বর্জ্য থেকে নতুন পোশাক তৈরির উদ্যোগ বিইউএফটি শিক্ষার্থীদের

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
বর্জ্য থেকে নতুন পোশাক তৈরির উদ্যোগ বিইউএফটি শিক্ষার্থীদের

বিশ্বজুড়ে টেকসই ফ্যাশন ও পরিবেশবান্ধব পোশাক শিল্পের চাহিদা বাড়ছে। এর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো কাপড়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। প্রতি বছর পোশাক কারখানাগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ কাপড় অপচয় হয়, যা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই সমস্যার সমাধানে এবং বর্জ্য থেকে নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে এগিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) শিক্ষার্থীরা। তাদের এই উদ্যোগ শুধু একাডেমিক গবেষণার অংশ নয়, বরং পরিবেশ সুরক্ষায় ভবিষ্যতের ফ্যাশন ডিজাইনারদের দায়বদ্ধতার একটি বড় প্রমাণ।

বর্জ্য থেকে নতুন পণ্য তৈরির এই ধারণা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিং প্রযুক্তি। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের এই বাড়তি অংশগুলোকে কীভাবে নতুন ও আকর্ষণীয় পোশাকে রূপান্তর করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা জায়ান্ট গ্রুপের কারখানা পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তারা সরাসরি পোশাক তৈরির প্রক্রিয়া এবং উৎপাদনের সময় কী পরিমাণ কাপড় বর্জ্য হিসেবে বেরিয়ে আসে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

কারখানা পরিদর্শন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা একটি বিশেষ প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, পোশাকের কারখানা থেকে সংগৃহীত অপচয় হওয়া কাপড় ব্যবহার করে অন্তত ৩২টি ভিন্নধর্মী পোশাক তৈরি করা। এই পোশাকগুলো কেবল পরিবেশবান্ধবই হবে না, বরং আধুনিক নকশা ও নান্দনিকতায় অনন্য করে তোলার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা দেখাতে চান যে, যা আমাদের কাছে বর্জ্য, তা যথাযথ সৃজনশীলতায় ব্যবহার করলে নতুন মূল্যের পণ্য হয়ে উঠতে পারে।

শিক্ষার্থীদের এই কার্যক্রমকে ঘিরে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। ফ্যাশন শিল্পের ভবিষ্যৎ ধারায় এখন ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা বর্জ্যহীন উৎপাদনের কথা বলা হচ্ছে। বিইউএফটির শিক্ষার্থীরা যেভাবে বাস্তব কারখানা পরিদর্শনের মাধ্যমে তাদের হাতে-কলমে শিক্ষা ও গবেষণাকে যুক্ত করছেন, তা প্রশংসনীয়। এটি একদিকে যেমন তাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে দেশের পোশাক শিল্পকে সার্কুলার ইকোনমির দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন হলে তা ভবিষ্যতে ফ্যাশন ডিজাইনিং এবং টেক্সটাইল প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের নতুন দিশা দেখাবে। বর্জ্য থেকে তৈরি ৩২টি পোশাকের এই কালেকশনটি শেষ পর্যন্ত কেমন হয় এবং বাজারে এর গ্রহণযোগ্যতা কেমন থাকে, তা নিয়ে এখন কৌতূহল রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা তাদের এই কাজের মাধ্যমে কেবল পোশাক তৈরি করছেন না, বরং একটি বার্তা দিচ্ছেন—ফ্যাশন শিল্পের ভবিষ্যত নিহিত রয়েছে অপচয় কমানো এবং পুনর্ব্যবহারের ওপর।

আগামীতে এই মডেলটি বড় আকারে প্রয়োগ করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে শিক্ষার্থীদের। পোশাক শিল্পের বর্জ্য কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনকে জনপ্রিয় করতে বিইউএফটির শিক্ষার্থীদের এই প্রচেষ্টা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদাহরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।

জাতীয় নাগরিক পার্টির কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ রাশেদ খাঁনের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
   
জাতীয় নাগরিক পার্টির কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ রাশেদ খাঁনের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলের ভেতর ও বাইরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তরুণদের নেতৃত্বাধীন এই রাজনৈতিক দলটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কমিটি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, তাদেরই দলের শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে।

শুক্রবার ২৩ অক্টোবর নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে রাশেদ খাঁন এক পোস্টে এনসিপির নতুন এই সাংগঠনিক কাঠামোর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, অনেক আশা নিয়ে নতুন এই রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দিকে তাকিয়ে ছিল মানুষ। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নতুন কমিটিতে দেখা যায়নি। বরং দলের ভেতর এমন সব ব্যক্তিদের জায়গা করে দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ কর্মীরা প্রত্যাশা করেননি। রাশেদ খাঁনের দাবি অনুযায়ী, দলের পদ পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় ল্যাপটপ চোর, ছাগল চোর থেকে শুরু করে নারী ও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। এ ধরনের ব্যক্তিদের দলীয় নেতৃত্ব বা উচ্চ পদে রাখাটা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে সংকটের মুখে ঠেলে দেবে বলে তিনি মনে করছেন।

রাশেদ খাঁনের এই বিস্ফোরক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার খোরাক যুগিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিতে যারা নতুন করে যুক্ত হতে চাইছিলেন, এনসিপির এই কমিটি তাদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি করতে পারে বলেও ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে যখন স্বচ্ছতা ও সুশাসনের দাবি তুলে রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে নামে, তখন বিতর্কিত ব্যক্তিদের জায়গা দেওয়াটা দলের নীতি-আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নবগঠিত এই কমিটি নিয়ে শুধুমাত্র রাশেদ খাঁনই নন, বরং দলের ভেতরে তৃণমূল পর্যায়ের অনেক কর্মীরাও একই ধরনের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, যাদের দলের জন্য কোনো বিশেষ অবদান নেই বা যাদের অতীত ইতিহাস বিতর্কিত, তাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর ফলে দলের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, কোন মানদণ্ডে এই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে।

রাজনীতিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য একটি দলের কমিটি গঠনে ব্যক্তিগত সততা এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি। এনসিপির বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশেদ খাঁনের এই কড়া সমালোচনা দলের নীতিনির্ধারকদের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, যদি এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে দলের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে বিভাজন বাড়তে পারে।

এখন পর্যন্ত এনসিপির পক্ষ থেকে এই সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দলের ভেতরে থাকা অসন্তোষ এবং রাশেদ খাঁনের মতো একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির এই বক্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে দলটিকে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তরুণদের দল হিসেবে এনসিপির উচিত হবে দ্রুত এই বিতর্কের নিরসন করা এবং দলীয় কর্মীদের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনা। না হলে সংগঠনটির সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যার প্রভাব আগামী দিনের রাজনৈতিক কার্যক্রমে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাশেদ খাঁনের এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ তার এই স্বচ্ছ অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকে মনে করছেন, রাজনীতির মাঠে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে দলের ভেতরেই শুদ্ধি অভিযান চালানো প্রয়োজন। এনসিপি এই পরিস্থিতিতে কীভাবে সামাল দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে এটা স্পষ্ট যে, কমিটির বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে দলের ভেতরে তৈরি হওয়া এই অস্থিরতা আপাতত থামার কোনো লক্ষণ নেই।

ফরিদপুরে মহাসড়কে ট্রাক উল্টে প্রাইভেটকার চাপা, নিহত মা ও ছেলে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
   
ফরিদপুরে মহাসড়কে ট্রাক উল্টে প্রাইভেটকার চাপা, নিহত মা ও ছেলে

ফরিদপুরের কানাইপুর এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুবোঝাই একটি ট্রাক রাস্তার পাশে থাকা একটি প্রাইভেটকারের ওপর আছড়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রাইভেটকারে থাকা আরও তিন যাত্রী। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন।

দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা মাগুরা থেকে প্রাইভেটকারযোগে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থেকে তারা রওনা দিয়েছিলেন। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে যখন প্রাইভেটকারটি কানাইপুরের তেঁতুলতলা এলাকা অতিক্রম করছিল, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাকের চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দ্রুতগামী ট্রাকটি হঠাৎ করেই রাস্তার বাঁক নিতে গিয়ে উল্টে যায় এবং পাশের লেনে থাকা চলন্ত প্রাইভেটকারটির ওপর আছড়ে পড়ে। ট্রাকের ভারে প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে গেলে ভেতরে থাকা যাত্রীরা আটকা পড়েন।

নিহতরা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পলাশ মিয়ার স্ত্রী সুমি বেগম এবং তাদের সাত বছর বয়সী ছেলে শাওন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি থেকে মৃতদেহ ও আহতদের উদ্ধার করেন। আহত তিনজনকে দ্রুত ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। তবে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ট্রাকের চালক ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ফরিদপুর জেলা ও এর আশেপাশের এলাকায় মহাসড়কে সাম্প্রতিক সময়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে দ্রুতগতিতে মালবাহী ট্রাক চলাচলের সময় চালকদের অসতর্কতা এবং সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে স্থানীয়রা মনে করেন। শুক্রবারের এই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের স্বজনরা খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান।

হাইওয়ে পুলিশ সতর্ক করেছে যে মহাসড়কে চলাচলকারী ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলা জরুরি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং মহাসড়কের মোড়গুলোতে সতর্কতার সাথে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যথাযথ তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকাটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সেখানে বাড়তি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

টেস্ট দলে সৌম্য সরকারের অনুপস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা, তৃতীয় ওপেনার কেন নেই?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
   
টেস্ট দলে সৌম্য সরকারের অনুপস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা, তৃতীয় ওপেনার কেন নেই?

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণার পর থেকেই আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ওপেনার সৌম্য সরকার। আসন্ন টেস্ট সিরিজের জন্য ঘোষিত দল থেকে সৌম্যকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে ফর্মে না থাকা সৌম্য সরকার কি তবে তার প্রভাব টেস্ট দলেও পড়তে দেখলেন? ভক্ত ও বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, ওয়ানডে ফরম্যাটে টানা ব্যর্থতার দায়ভারই সম্ভবত তাকে টেস্ট দল থেকে ছিটকে দিয়েছে। তবে নির্বাচক প্যানেলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওয়ানডেতে খারাপ পারফরম্যান্সের সাথে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ, কেবল ওয়ানডের ব্যর্থতার কারণে টেস্ট দল থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়নি। নির্বাচকদের এমন মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে, তবে ঠিক কী কারণে তাকে বাদ দেওয়া হলো? ক্রিকেট মহলে এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের টেস্ট দলে কেন কোনো তৃতীয় ওপেনার রাখা হলো না। সাধারণত দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে ওপেনারদের ইনজুরি বা বিশেষ কোনো প্রয়োজনে একজন ব্যাকআপ ওপেনার দলে থাকা আবশ্যক। কিন্তু সাম্প্রতিক দল নির্বাচনে সেই প্রথাগত কাঠামোর বাইরে গিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট নতুন কোনো কৌশল অবলম্বন করেছে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টেস্ট ক্রিকেটে ওপেনারদের জন্য টিকে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ। সৌম্য সরকার অতীতে বেশ কয়েকবার নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দিলেও, ধারাবাহিকতার অভাব তাকে বারবার ভোগাচ্ছে। দলের প্রয়োজনে অনেক সময় তাকে বিভিন্ন পজিশনে ব্যাট করতে দেখা গেলেও, ওপেনিংয়ে তিনি দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারেননি। তবে তৃতীয় কোনো ওপেনার না রাখায় দল কতটা ঝুঁকিতে থাকবে, তা নিয়েও চিন্তিত ক্রিকেটবোদ্ধারা। যদি টেস্ট চলাকালীন কোনো ওপেনার ইনজুরিতে পড়েন, তবে সেক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনা কী হবে, তার কোনো স্পষ্ট আভাস পাওয়া যায়নি।

হাবিবুল বাশারের বক্তব্য অনুযায়ী, দল গঠনের প্রক্রিয়াটি কেবল বর্তমান ফরম বা পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে না; বরং পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া হয় বা বাদ দেওয়া হয়। সৌম্য সরকারের ক্ষেত্রেও বিষয়টি হয়তো সাময়িক বিরতি, নাকি পাকাপাকি বাদ দেওয়া, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। টেস্ট ফরম্যাটের জন্য ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতি ওয়ানডের চেয়ে আলাদা। সম্ভবত নির্বাচকরা এই মুহূর্তে অন্য কোনো ক্রিকেটারকে সৌম্যর চেয়ে বেশি উপযুক্ত মনে করছেন বা দলের ভারসাম্য রক্ষায় নতুন কোনো কম্বিনেশন নিয়ে কাজ করছেন।

বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াডে এখন ওপেনিং জুটির ওপরই সব ভরসা। নতুন এই দল গঠনের মাধ্যমে নির্বাচকরা কি তরুণদের সুযোগ করে দিতে চাচ্ছেন, নাকি পুরনোদের ওপরই আস্থা রাখছেন, তা মাঠের পারফরম্যান্সই বলে দেবে। তবে তৃতীয় ওপেনারের অভাব পূরণ না করায় টিম ম্যানেজমেন্টকে হয়তো ভবিষ্যতে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতে পারে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন আসন্ন সিরিজের দিকে। সৌম্যর অনুপস্থিতিতে অন্য ওপেনাররা নিজেদের কতটা মেলে ধরতে পারেন এবং নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয়, তা দেখার অপেক্ষায় সবাই। টেস্ট ক্রিকেটে বরাবরের মতো বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করাটাই এখন সময়ের দাবি।

সর্বশেষ
জাতীয় নাগরিক পার্টির কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ রাশেদ খাঁনের ফরিদপুরে মহাসড়কে ট্রাক উল্টে প্রাইভেটকার চাপা, নিহত মা ও ছেলে টেস্ট দলে সৌম্য সরকারের অনুপস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা, তৃতীয় ওপেনার কেন নেই? দাম্মাম বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা বাংলাদেশের, শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান বর্জ্য থেকে নতুন পোশাক তৈরির উদ্যোগ বিইউএফটি শিক্ষার্থীদের শিশুদের অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ: নীরব ঝুঁকির কারণ ও সতর্কবার্তা জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর গাড়িবহর লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপ বাজারে এলো ভাঁজ করা আইফোন ডুও: উচ্চমূল্য আর সীমাবদ্ধ সরবরাহের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া গণিত ইশকুলের নতুন ধাঁধা: বিশ্বকাপ ফুটবল ২০৫০-এর হিসাব কষতে ডাক দিলেন গণিত ভাইয়া জ্বর কমার পর ডেঙ্গুর আসল বিপদ: অসতর্কতায় ঝুঁকি বাড়ছে বহুগুণ
Advertisement