কুমিল্লায় আবাসিক মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার শিক্ষক
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় এক ভয়াবহ ও ন্যক্কারজনক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার একটি আবাসিক হাফেজিয়া মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীকে ধারাবাহিক ধর্ষণের অভিযোগে কবির হোসেন নামের এক শিক্ষককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্ত কবির হোসেনের বাড়ি জেলার বরুড়া উপজেলায়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করার পর পুলিশ তদন্তে নামে। অভিযোগ রয়েছে যে, মাদ্রাসাটির শিক্ষক কবির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে ওই দুই ছাত্রকে ভয়ভীতি দেখিয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার করতেন। ধারাবাহিক এসব নির্যাতনের বিষয়টি ভুক্তভোগীরা গোপনে তাদের পরিবারের সদস্যদের জানালে অভিভাবকরা হতবাক ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এরপরই তারা স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার উপজেলার সংশ্লিষ্ট হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে শিক্ষক কবির হোসেনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার দেখানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিক্ষক নিজের অপরাধের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। অনেকেই তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বা পরিচালনা পর্ষদের নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে একজন শিক্ষক দিনের পর দিন এমন অমানবিক কাজ চালিয়ে গেলেন, তা নিয়েও স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠছে। শিশু নির্যাতনের মতো এমন জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে স্থানীয়রা স্বাগত জানালেও, ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী আর এমন পরিস্থিতির শিকার না হয়, সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত কবির হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা এই ধরনের কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ভুক্তভোগী শিশুদের আইনি সহায়তা প্রদান ও তাদের চিকিৎসার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]