টাঙ্গাইলের বাবুপুর গ্রামে নতুন খেলার মাঠ: সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ দিল সরকার
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘ দিন ধরে একটি খেলার মাঠের অভাব অনুভব করছিলেন। নিজস্ব উদ্যোগে মাঠের জমি তৈরির চেষ্টায় এলাকাবাসীর আগ্রহ ও উদ্যোগের বিষয়টি সম্প্রতি সরকারি নজরে আসে। মাঠ তৈরির জন্য গ্রামবাসীর এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। সেই নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই সরকার বাবুপুর গ্রামে খেলার মাঠ সম্প্রসারণ ও জমি ক্রয়ের জন্য সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়ে স্থানীয় তরুণ ও কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরির দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই সুখবরটি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাবুপুরবাসীর খেলার মাঠ তৈরির যে অদম্য ইচ্ছা এবং স্থানীয় পর্যায়ে যে সাংগঠনিক তৎপরতা দেখা গেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মাঠের জন্য জমি সংকটের বিষয়টি যখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছায়, তখন তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক ও ক্রীড়াবান্ধব সিদ্ধান্তের ফলে এখন গ্রামবাসীরা তাদের পছন্দের জায়গায় একটি আধুনিক খেলার মাঠ গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন। সরকারি এই বরাদ্দের মাধ্যমে মাঠের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই খেলার মাঠটি নির্মাণের ফলে শুধু বাবুপুর গ্রামই নয়, আশপাশের এলাকার শিশু-কিশোর ও যুবকরাও নিয়মিত শরীরচর্চা ও বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মাদকের অপব্যবহার বা ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তি কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায় হলো তাদের খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনা। এই মাঠটি সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বাবুপুর গ্রামে এখন আনন্দের জোয়ার বইছে। এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং মাঠটি দ্রুত সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠের জমি কেনা ও এর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্রুতই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এ প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি করবে যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হয়। মাঠটি নির্মিত হলে এখানে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেটসহ স্থানীয় গ্রামীণ খেলাধুলা আয়োজনের সুযোগ তৈরি হবে। সরকার সারা দেশের আনাচে-কানাচে খেলাধুলার প্রসারে যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, বাবুপুরের এই মাঠ তার একটি অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের মেধাবী ক্রীড়াবিদরা তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর বড় ক্ষেত্র খুঁজে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]