খুঁজুন
, ,

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৪ জনের, শোকের ছায়া স্বজনদের মাঝে

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৪ জনের, শোকের ছায়া স্বজনদের মাঝে

ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো দেশ। যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৪ জন যাত্রী। এই দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। মুহূর্তের অসতর্কতা আর সড়কে বিশৃঙ্খলার কারণে এমন এক মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হতে হলো সাধারণ মানুষকে, যারা কেউ যাচ্ছিলেন পরিবারের কাছে ছুটিতে, কেউবা বেরিয়েছিলেন ব্যবসার প্রয়োজনে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই নিভে গেল তাঁদের জীবন প্রদীপ।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এবং উদ্ধারকারী দলের ভাষ্যমতে, বাসটি দ্রুতগতিতে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘাত ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই প্রকট ছিল যে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন যাত্রী প্রাণ হারান। আহতদের আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের বাতাস। খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও মানবিক তাগিদে উদ্ধার কাজে হাত লাগান।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, আহতদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাঁদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন মেডিকেল টিম। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিহতদের স্বজনরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভিড় করছেন। একেকটি লাশের অপেক্ষায় কান্নায় ভেঙে পড়ছেন পরিবার-পরিজন। কারো স্বামী, কারো বাবা কিংবা কারো সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে চলছে আহাজারি। শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে হাসপাতালের পরিবেশ। কেউ বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে, কিছুক্ষণ আগেও ফোনে কথা বলা প্রিয় মানুষটি এখন নিথর দেহের অধিকারী।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ও হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, বেপরোয়া গতি কিংবা ট্রাফিক আইন না মানার কারণেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ট্রাক ও বাসের চালকের অসতর্কতা রয়েছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে বিশদ তদন্ত। ঘটনার পর থেকে যান চলাচল ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। পুলিশি তৎপরতায় সড়ক পরিষ্কার করার পর পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও নতুন করে সামনে এসেছে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ সময় ধরে দেশে সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে পালন না করা এবং চালকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘন ঘন এমন দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। প্রশাসনকে এখন সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক ট্রাকটিকে জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকচালক বা বাসের চালক এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কি না কিংবা পালিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলমান। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় এমন মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সড়ক নিরাপদ রাখতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুশল বিনিময়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
চট্টগ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুশল বিনিময়

চট্টগ্রাম সফরকালে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গেও তিনি মতবিনিময় করেছেন। সফরসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে নগরীর র‍্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে-ভিউ হোটেলে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সাথে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় প্রধান হিসেবে সেখানে উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বিনিময় করেন বলে জানা গেছে। দলীয় শৃঙ্খলার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিমন্ডলে দায়িত্বশীল আচরণের ওপর তিনি জোর দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রামে অবস্থানকালে কেবল দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেই নয়, প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে জেএম সেন পূজামণ্ডপেও উপস্থিত হন। মঙ্গলবার রাতে রহমতগঞ্জের ওই পূজামণ্ডপে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান। উপস্থিত ভক্ত ও আয়োজকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, আমরা যে ধর্মেরই অনুসারী হই না কেন, ধর্ম সম্পূর্ণ নিজস্ব ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গা। কিন্তু আমাদের সবার বড় এবং অভিন্ন পরিচয় হলো আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। এই পরিচয়টিই আমাদের দেশের সব মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি বজায় রাখার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের সামগ্রিক পরিবেশের ওপর আলোকপাত করে বলেন, দেশে ধর্মের নামে কোনো বিভেদ বা অস্থিরতা কাম্য নয়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক যেন নিজ নিজ ধর্ম পালন ও উৎসব উদযাপনে পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের চেতনার মূলে ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। সেই চেতনাকে সমুন্নত রেখেই আমাদের জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের এই মুহূর্তে তিনি শান্তি ও সমৃদ্ধির কামনা করেন এবং দেশের অগ্রগতিতে সব ধর্মমতের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রীর এই চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তার আয়োজন করা হয়েছিল। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পাশাপাশি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তার এই সরব উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সফর শেষে তিনি ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। সামগ্রিকভাবে এই সফরকে রাজনৈতিক ও সামাজিক মেলবন্ধনের একটি প্রয়াস হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক জনসভা বা কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়েও প্রশাসন সজাগ দৃষ্টি রাখছে বলে জানা গেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিক নির্বিঘ্নে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: একটি বিশ্লেষণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: একটি বিশ্লেষণ

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদের মেয়াদসীমা নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদসীমা থাকে না। তবে দীর্ঘমেয়াদী শাসন ক্ষমতাকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক করার ঝুঁকি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় এবং প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নির্বাহী প্রধানের মেয়াদের একটি সাংবিধানিক সীমা থাকা জরুরি কি না, তা নিয়ে নীতিনির্ধারক মহলে আলোচনার অবকাশ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে বিচার বিভাগ, আইনসভা, গণমাধ্যম ও নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর নির্বাহী বিভাগের অন্যায্য প্রভাব বিস্তারের একটি প্রবণতা তৈরি হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে রাষ্ট্রপতিশাসিত বা আধা-রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় এ ধরনের সীমাবদ্ধতা সাফল্যের সঙ্গে কার্যকর রয়েছে। হাঙ্গেরি, থাইল্যান্ড, ভারত ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, ক্ষমতার নিরবচ্ছিন্ন চর্চা অনেক সময় বিরোধী মতকে সংকুচিত করে এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে ম্লান করে দেয়। থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো ইতিমধ্যে আট বছরের সীমাবদ্ধতা কার্যকর করেছে, যা ক্ষমতার সুষ্ঠু হস্তান্তরে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে অনেকে মনে করেন। তবে একই সঙ্গে এটিও মনে রাখা প্রয়োজন যে, মেয়াদসীমা নির্ধারণের ফলে দক্ষ নেতৃত্বের সংকট বা নীতির ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার মতো ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই যেকোনো সাংবিধানিক সংস্কারের আগে ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন।

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের ওপর জোর দিচ্ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে আয়োজিত এক সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমে একটি অসাম্প্রদায়িক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের ডাক দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ধর্মীয় পরিচয় ব্যক্তিগত হলেও রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয় অভিন্ন। বাংলাদেশের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ধর্মের নামে বিভেদ ও বিভাজন এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। মূলত সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্রের পূর্বশর্ত।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়েও দলীয় সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নগরীতে রাজনৈতিক সভার আয়োজন এবং সেখানে দলের নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া সরকারের চলমান কার্যক্রমেরই অংশ। দলীয় কাঠামোকে আরও সুসংগঠিত করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি নীতি ও আদর্শ পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে নীতিনির্ধারকরা। তবে রাজনৈতিক জনসমাবেশ ও বড় ধরনের জনসমাগমে নিরাপত্তা ঝুঁকি বা বিশৃঙ্খলার বিষয়টিও অনেক সময় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক এক জনসভায় সাধারণ নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত মালামাল, বিশেষ করে মোবাইল ফোন চুরির মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। জনসমাগমস্থলে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। জনসভায় আসা সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আয়োজকদের একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিশেষে, রাষ্ট্র পরিচালনায় সংস্কার ও সাংবিধানিক বিতর্ক একই সাথে চলমান রয়েছে। একদিকে শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য মেয়াদসীমা নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা ও দলীয় শৃঙ্খলার মতো বিষয়গুলো দেশের বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। আধুনিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সবার জন্য সমান অধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই বোধোদয় যত দ্রুত সংহত হবে, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ততই ত্বরান্বিত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বার্সেলোনার অপ্রতিরোধ্য যাত্রা থামাল পিএসজি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বার্সেলোনার অপ্রতিরোধ্য যাত্রা থামাল পিএসজি

ইউরোপীয় ফুটবলের চলতি মৌসুমে উড়ন্ত ফর্মে ছিল বার্সেলোনা। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্যারিসের মাটিতে পা রেখেছিল কাতালান ক্লাবটি। তবে পার্ক দে প্রিন্সেসে এসে তাদের সেই অপরাজেয় যাত্রার লাগাম টেনে ধরল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ৪-২ গোলের ব্যবধানে বার্সেলোনাকে হারিয়ে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা প্রমাণ করল যে, নিজেদের মাঠে তারা কতটা ভয়ঙ্কর। হান্সি ফ্লিকের অধীনে মৌসুমের শুরুটা দুর্দান্ত হলেও, এই ম্যাচে রক্ষণভাগের দুর্বলতা আর পিএসজির গতিময় আক্রমণের সামনে খেই হারিয়ে ফেলল বার্সা।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই ছিল আক্রমণাত্মক। পিএসজি প্রথমার্ধের শুরু থেকেই বার্সার রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে। ম্যাচের একদম শুরুর দিকেই পিএসজির খিচা কাভারাস্কেইয়ার একটি শট গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করলেও তা পোস্টে লেগে ফিরে আসে, যা বার্সাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করে। ধীরে ধীরে বার্সেলোনা ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। অ্যান্থনি গর্ডন এবং পেদ্রি মাঝমাঠে দারুণ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল মেলেনি। দানি ওলমোর একটি জোরালো শটও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল বেশ ঘটনাবহুল, তবে তা কেবল গোলের জন্য নয়, খেলোয়াড়দের ইনজুরির জন্যও। পায়ের পেছনের পেশিতে চোট পাওয়ায় পিএসজি তাদের গুরুত্বপূর্ণ তারকা উসমান দেম্বেলেকে হারায়। এর কিছুক্ষণ পরই বার্সেলোনার দানি ওলমোও চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এই দুই খেলোয়াড়ের প্রস্থান ম্যাচে ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনের প্রয়োজন তৈরি করে। দেম্বেলের বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস বার্সার রক্ষণে একাধিকবার ভীতি ছড়িয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই পিএসজি গোলরক্ষক মাতভে সাফোনভ দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে, ওলমোর জায়গায় নামা ফেরমিন লোপেজও গোল পাওয়ার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু তার চিপ করা শট সাফোনভ দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন।

ম্যাচের অচলাবস্থা ভাঙে ৩৮ মিনিটের মাথায়। লামিন ইয়ামালের একটি পাস মাঝপথে ইন্টারসেপ্ট করে পিএসজি প্রতি-আক্রমণ শুরু করে। বলটি পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গোল করেন পিএসজির দেজিরে দুয়ে। এই গোলটি ম্যাচের মোমেন্টাম প্যারিসের ক্লাবটির দিকে ঘুরিয়ে দেয়। বিরতির পর সমতায় ফেরার তাড়না নিয়ে মাঠে নামে বার্সেলোনা। তবে ৫০ মিনিটে তারা আবারও গোল হজম করার উপক্রম হয়েছিল। আশরাফ হাকিমি গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুযোগটি হাতছাড়া করেন, যা বার্সার জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস হয়ে আসে।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলা আরও উত্তাপ ছড়ায়। বার্সেলোনা সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং পর্যায়ক্রমে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের খেলা চলতে থাকে। একপর্যায়ে বার্সেলোনা সমতায় ফিরলেও পিএসজি বারবার লিড পুনরুদ্ধার করে। গোলের পর গোলবিনিময় হলেও শেষ পর্যন্ত পিএসজি ব্যবধান বাড়িয়ে ৪-২ গোলের জয় নিশ্চিত করে। এই হারের মাধ্যমে মৌসুমের প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল বার্সেলোনা। পিএসজির এই জয় ইউরোপীয় ফুটবলের লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলল এবং হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনাকে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য নতুন করে পরিকল্পনা করার বার্তা দিল।

সর্বশেষ
চট্টগ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুশল বিনিময় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৪ জনের, শোকের ছায়া স্বজনদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: একটি বিশ্লেষণ বার্সেলোনার অপ্রতিরোধ্য যাত্রা থামাল পিএসজি ফোডেনের হ্যাটট্রিকে উড়ল ম্যানচেস্টার সিটি, রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে লিভারপুলের রোমাঞ্চকর জয় মহানবীর কূটনৈতিক দক্ষতা ও আরবের রাজনৈতিক রূপান্তর রায়পুরে প্রবাসী দম্পতিকে মারধর ও ফটিকছড়িতে রাবার পাচার: দুই ঘটনায় জড়িতরা আটক অপমানের যন্ত্রণা থেকে আলোর পথে রাজুর সেলুন এখন জ্ঞানের পাঠাগার বরিশালে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত, প্রাণ হারালেন দুই নারী রাজশাহীতে বন্ধ কলকারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি রুহুল কবির রিজভীর
Advertisement